ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতার হামলায় বিএনপির ১০ কর্মী আহত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৩১ Time View
৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : খেয়াঘাটের ইজারা না পাওয়ার জেরধরে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ নেতা ও তার সহযোগিরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে নারীসহ বিএনপির ১০ কর্মীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে।

 

এসময় হামলাকারীরা তিনটি বসত বাড়ি ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট করেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গুরুত্বর আহতদের মধ্যে চারজনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ও অন্যান্যদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বেলা এগারোটার দিকে নদীবেষ্টিত বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ভেদুরিয়া গ্রামে।

 

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওইদিন রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুত্বর আহত বিএনপি কর্মী আব্দুস সালাম মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী যুবলীগের ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খান মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে তার সহযোগিদের মাধ্যমে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছিলো।

 

এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় প্রায়ই তাদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর আলো খান দীর্ঘদিন থেকে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে। এরইমধ্যে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছর ওই খেয়াঘাটের ইজারা পেয়েছেন তাদের স্বজন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক নুরুল ইসলাম খান।

 

সালাম মুন্সী আরও বলেন, অতিসম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠনের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা একই ওয়ার্ডের ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা বাচ্চু খানকে ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে আসে। এরমধ্যে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা আলো খান চলতি বছর খেয়াঘাটের ইজারা না পেয়ে নুরুল ইসলামসহ আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলো। তার হুমকির প্রতিবাদ করায় আলো খান ও বাচ্চু খানের নেতৃত্বে তাদের সহযোগি আলমগীর হাওলাদার, মস্তফা খান, বাবুল খান, বাদল খানসহ ৩০/৪০ জনে সশস্ত্র অবস্থায় শনিবার বেলা এগারোটার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়।

 

এসময় হামলাকারীরা বাড়ির তিনটি ঘর ভাঙচুরসহ ব্যাপক লুটপাট করে। হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসায় হামলাকারীরা কুপিয়ে নারীসহ বিএনপির ১০ জন কর্মীকে গুরুত্বর জখম করেছে। হামলায় গুরুত্বর আহতরা হলেন, আব্দুস সালাম মুন্সী, সজল মুন্সী, কালু মুন্সী, কালাম মুন্সী, জহির মুন্সী, রাশিদা বেগম, ফাতেমা বেগম, মীম আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার। এরমধ্যে চারজনকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ও অন্যান্যদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ স্বীকার করে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর পূর্বেই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছেন। ওসি আরও জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

অপরদিকে হামলার ব্যাপারে জানতে চরকালেখান ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাচ্চু খান হামলার সাথে নিজেকে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, আমার মাধ্যমে কোন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এলাকায় ফিরে আসেনি। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতার হামলায় বিএনপির ১০ কর্মী আহত

Update Time : ০১:৩১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : খেয়াঘাটের ইজারা না পাওয়ার জেরধরে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ নেতা ও তার সহযোগিরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে নারীসহ বিএনপির ১০ কর্মীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে।

 

এসময় হামলাকারীরা তিনটি বসত বাড়ি ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট করেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গুরুত্বর আহতদের মধ্যে চারজনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ও অন্যান্যদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বেলা এগারোটার দিকে নদীবেষ্টিত বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ভেদুরিয়া গ্রামে।

 

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওইদিন রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুত্বর আহত বিএনপি কর্মী আব্দুস সালাম মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী যুবলীগের ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খান মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে তার সহযোগিদের মাধ্যমে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছিলো।

 

এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় প্রায়ই তাদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর আলো খান দীর্ঘদিন থেকে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে। এরইমধ্যে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছর ওই খেয়াঘাটের ইজারা পেয়েছেন তাদের স্বজন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক নুরুল ইসলাম খান।

 

সালাম মুন্সী আরও বলেন, অতিসম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠনের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা একই ওয়ার্ডের ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা বাচ্চু খানকে ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে আসে। এরমধ্যে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা আলো খান চলতি বছর খেয়াঘাটের ইজারা না পেয়ে নুরুল ইসলামসহ আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলো। তার হুমকির প্রতিবাদ করায় আলো খান ও বাচ্চু খানের নেতৃত্বে তাদের সহযোগি আলমগীর হাওলাদার, মস্তফা খান, বাবুল খান, বাদল খানসহ ৩০/৪০ জনে সশস্ত্র অবস্থায় শনিবার বেলা এগারোটার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়।

 

এসময় হামলাকারীরা বাড়ির তিনটি ঘর ভাঙচুরসহ ব্যাপক লুটপাট করে। হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসায় হামলাকারীরা কুপিয়ে নারীসহ বিএনপির ১০ জন কর্মীকে গুরুত্বর জখম করেছে। হামলায় গুরুত্বর আহতরা হলেন, আব্দুস সালাম মুন্সী, সজল মুন্সী, কালু মুন্সী, কালাম মুন্সী, জহির মুন্সী, রাশিদা বেগম, ফাতেমা বেগম, মীম আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার। এরমধ্যে চারজনকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ও অন্যান্যদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ স্বীকার করে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর পূর্বেই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছেন। ওসি আরও জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

অপরদিকে হামলার ব্যাপারে জানতে চরকালেখান ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাচ্চু খান হামলার সাথে নিজেকে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, আমার মাধ্যমে কোন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এলাকায় ফিরে আসেনি। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার করছে।