ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় নতুন জলে নৌকা ভাসিয়ে খাল রক্ষার ডাক শিশুদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ৩৯ Time View
৬৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : একসময়ের মরা খালটি পুনঃখননের পরে এসেছে নতুন পানির প্রবাহ। আর সেই পানিতে ভেসে চলছে লাল-নীল ছোট ছোট কাগজের নৌকা। আর খালের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে খুশিতে হাততালি দিচ্ছে শিশুরা। দখিনা বাতাসে পানির মৃদু ঢেউয়ে দুলে দুলে ভেসে চলছে রঙিন কাগজের নৌকাগুলো। নতুন জলে নৌকা ভাসিয়ে খাল রক্ষার বার্তা দিতে চাইছে শিশুরা।

 

আজ শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চিলু মাঝি খালে এই দৃশ্য দেখা যায়। আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরার (ধরা)’ আয়োজনে খননকৃত খালে কাগজের নৌকা ভাসানোর কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় নারী, পুরুষ ও শিশুরা।

 

আয়োজকেরা বলেন, অনেক আন্দোলন আর কর্মসূচির পর খাল খননের উদ্যোগ নেয় সরকার। সরকারের প্রচেষ্টায় খালটিকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সেই জীবন যেন আবার নষ্ট না হয়—এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছে আগামী প্রজন্ম।

 

জানা গেছে, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া, চিলু মাঝি, সুন্দরিয়া, তাঁতিপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়াসহ মোট ৯টি খাল একসময় পলি জমে প্রায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি থাকত না, আবার বর্ষায় পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় ডুবে যেত ফসলি জমি। পরিবেশবাদী সংগঠনের ধারাবাহিক আন্দোলনের পর এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারই অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। যদিও খননকাজ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

 

প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে, প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এই খালগুলো পুনঃখননের ফলে বদলাতে শুরু করেছে গ্রামের চিত্র। কৃষকের জমিতে আবার পানি পৌঁছাচ্ছে, তৈরি হয়েছে নতুন রাস্তা, আর ফিরে আসছে মাছ-পাখির আনাগোনা।

 

নলবুনিয়া এলাকার কৃষক জালাল মিয়া বলেন, ‘কিছুদিন আগেও খালগুলো ডোবা-নালার মতো ছিল। মানুষ ময়লা ফেলত। মশা-মাছি জন্মাত, নানা রোগ ছড়াত। দুর্গন্ধে পাশ দিয়ে হাঁটা যেত না। এখন খাল খনন হওয়ায় সবাই উপকার পাচ্ছে।

 

তাঁতিপাড়া গ্রামের কৃষক জুয়েল জমাদ্দার বলেন, ‘আগে শুধু বর্ষায় একবার ধান চাষ করতে পারতাম। এখন সেচের পানি থাকলে বছরে কয়েকবার ফসল ফলানো সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে।

 

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, এই খাল খনন কৃষিতে বড় পরিবর্তন আনবে। কামরুজ্জামান বাচ্চু ভাষায়, ‘এক ফসলি জমি এখন দুই বা তিন ফসলি জমিতে পরিণত হতে পারবে। এতে কৃষকের জীবনযাত্রা বদলে যাবে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন, গ্রীষ্মে পানির অভাব ও বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে এত দিন কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এখন খালগুলো সচল হওয়ায় সেচ সুবিধা বাড়বে এবং এক ফসলি জমিতে একাধিকবার ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

 

এলজিইডির তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রকল্প অনুযায়ী খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

বরগুনায় নতুন জলে নৌকা ভাসিয়ে খাল রক্ষার ডাক শিশুদের

Update Time : ০৯:১৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
৬৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : একসময়ের মরা খালটি পুনঃখননের পরে এসেছে নতুন পানির প্রবাহ। আর সেই পানিতে ভেসে চলছে লাল-নীল ছোট ছোট কাগজের নৌকা। আর খালের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে খুশিতে হাততালি দিচ্ছে শিশুরা। দখিনা বাতাসে পানির মৃদু ঢেউয়ে দুলে দুলে ভেসে চলছে রঙিন কাগজের নৌকাগুলো। নতুন জলে নৌকা ভাসিয়ে খাল রক্ষার বার্তা দিতে চাইছে শিশুরা।

 

আজ শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চিলু মাঝি খালে এই দৃশ্য দেখা যায়। আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরার (ধরা)’ আয়োজনে খননকৃত খালে কাগজের নৌকা ভাসানোর কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় নারী, পুরুষ ও শিশুরা।

 

আয়োজকেরা বলেন, অনেক আন্দোলন আর কর্মসূচির পর খাল খননের উদ্যোগ নেয় সরকার। সরকারের প্রচেষ্টায় খালটিকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সেই জীবন যেন আবার নষ্ট না হয়—এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছে আগামী প্রজন্ম।

 

জানা গেছে, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া, চিলু মাঝি, সুন্দরিয়া, তাঁতিপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়াসহ মোট ৯টি খাল একসময় পলি জমে প্রায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি থাকত না, আবার বর্ষায় পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় ডুবে যেত ফসলি জমি। পরিবেশবাদী সংগঠনের ধারাবাহিক আন্দোলনের পর এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারই অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। যদিও খননকাজ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

 

প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে, প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এই খালগুলো পুনঃখননের ফলে বদলাতে শুরু করেছে গ্রামের চিত্র। কৃষকের জমিতে আবার পানি পৌঁছাচ্ছে, তৈরি হয়েছে নতুন রাস্তা, আর ফিরে আসছে মাছ-পাখির আনাগোনা।

 

নলবুনিয়া এলাকার কৃষক জালাল মিয়া বলেন, ‘কিছুদিন আগেও খালগুলো ডোবা-নালার মতো ছিল। মানুষ ময়লা ফেলত। মশা-মাছি জন্মাত, নানা রোগ ছড়াত। দুর্গন্ধে পাশ দিয়ে হাঁটা যেত না। এখন খাল খনন হওয়ায় সবাই উপকার পাচ্ছে।

 

তাঁতিপাড়া গ্রামের কৃষক জুয়েল জমাদ্দার বলেন, ‘আগে শুধু বর্ষায় একবার ধান চাষ করতে পারতাম। এখন সেচের পানি থাকলে বছরে কয়েকবার ফসল ফলানো সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে।

 

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, এই খাল খনন কৃষিতে বড় পরিবর্তন আনবে। কামরুজ্জামান বাচ্চু ভাষায়, ‘এক ফসলি জমি এখন দুই বা তিন ফসলি জমিতে পরিণত হতে পারবে। এতে কৃষকের জীবনযাত্রা বদলে যাবে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন, গ্রীষ্মে পানির অভাব ও বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে এত দিন কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এখন খালগুলো সচল হওয়ায় সেচ সুবিধা বাড়বে এবং এক ফসলি জমিতে একাধিকবার ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

 

এলজিইডির তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রকল্প অনুযায়ী খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।