ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধান উপদেষ্টার বড় ঘোষণা : ফাইল যাতে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঝুলে না থাকে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২২ Time View
১৭২

অনলাইন ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সরকারি চাকরিতে গৎবাঁধা প্রশিক্ষণের পরিবর্তে সমস্যা সমাধানভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি থাকবে না এবং নাগরিক সেবা এমনভাবে দক্ষ করতে হবে যাতে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঝুলে না থাকে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) প্রণীত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—নাগরিককে সরকারের কাছে আসতে হবে না, বরং সরকারের সেবা পৌঁছাবে নাগরিকের কাছে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে সেবা স্বয়ংক্রিয় করতে হবে যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।”

তিনি পুরোনো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, “দেখা যায় ভবন আছে কিন্তু দক্ষ জনবল নেই। প্রশিক্ষণ পদ্ধতিও আপডেট নয়। ফলে প্রশিক্ষণের কোনো ফল চোখে পড়ে না। প্রশিক্ষণের পর মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইনসেনটিভ বা পুরস্কার দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা আরও উৎসাহিত হয়।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “ভালো মানের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে র‍্যাঙ্কিং থাকতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা উচিত, যাতে তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে গর্ববোধ করতে পারে।”

বৈঠকে কমিটির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে এটি প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ হওয়ায় মানদণ্ড ও সূচক নির্ধারণ একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। তাই লার্নিং বাই ডুইং পদ্ধতি অনুসরণ করে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের উত্তম চর্চা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও বিবেচনা করা হয়েছে।

এই কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি এবং নীতি সিদ্ধান্তের জন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানসমূহের সমস্যা উত্তরণ ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য পর্যায়ভিত্তিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নির্দেশনার আলোকে জিআইইউ এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির কারিগরি সহায়তায় প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা ও এনএপিডি—এর ওপর এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান বৃদ্ধির কৌশল ও বিদ্যমান সমস্যা উত্তরণের সুপারিশমালা প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

প্রধান উপদেষ্টার বড় ঘোষণা : ফাইল যাতে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঝুলে না থাকে

Update Time : ১২:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৭২

অনলাইন ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সরকারি চাকরিতে গৎবাঁধা প্রশিক্ষণের পরিবর্তে সমস্যা সমাধানভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি থাকবে না এবং নাগরিক সেবা এমনভাবে দক্ষ করতে হবে যাতে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঝুলে না থাকে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) প্রণীত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—নাগরিককে সরকারের কাছে আসতে হবে না, বরং সরকারের সেবা পৌঁছাবে নাগরিকের কাছে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে সেবা স্বয়ংক্রিয় করতে হবে যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।”

তিনি পুরোনো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, “দেখা যায় ভবন আছে কিন্তু দক্ষ জনবল নেই। প্রশিক্ষণ পদ্ধতিও আপডেট নয়। ফলে প্রশিক্ষণের কোনো ফল চোখে পড়ে না। প্রশিক্ষণের পর মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইনসেনটিভ বা পুরস্কার দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা আরও উৎসাহিত হয়।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “ভালো মানের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে র‍্যাঙ্কিং থাকতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা উচিত, যাতে তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে গর্ববোধ করতে পারে।”

বৈঠকে কমিটির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে এটি প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ হওয়ায় মানদণ্ড ও সূচক নির্ধারণ একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। তাই লার্নিং বাই ডুইং পদ্ধতি অনুসরণ করে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের উত্তম চর্চা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও বিবেচনা করা হয়েছে।

এই কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি এবং নীতি সিদ্ধান্তের জন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানসমূহের সমস্যা উত্তরণ ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য পর্যায়ভিত্তিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নির্দেশনার আলোকে জিআইইউ এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির কারিগরি সহায়তায় প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা ও এনএপিডি—এর ওপর এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান বৃদ্ধির কৌশল ও বিদ্যমান সমস্যা উত্তরণের সুপারিশমালা প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।