ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ৪৫ বছর পর কলাপাড়ায় স্বনির্ভর খাল আবার খনন শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ২৬ Time View
৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পটুয়াখালীর কলাপাড়ার স্বনির্ভর খাল আবার খনন শুরু হয়েছে।  বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এ খাল খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।  এতে সরকারের ব্যয় হবে এক কোটি ৩৪ লাখ টাকা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন,  আগামী ৪০ দিনে প্রথম দফায় দেড় কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।  ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান  পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সফরে এসে এ স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন।  মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের দুই তীরে রয়েছে ১৪ টি গ্রাম। ৪৫ বছর আগের খনন করা সেই খাল এখন দখল, দূষণ ও পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে।

গ্রীষ্ম মৌসুমে মিঠা পানির সংরক্ষণের অভাবে দুই ইউনিয়নের প্রায় চার হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো।  লবণ পানিতে মারা যেত শত শত হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু। কর্মহীন থাকতো শত শত কৃষক। কৃষকদের এই দুর্ভোগ লাঘবে বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসার পর পরই সারাদেশের যে খাল খনন কর্মসূচি সূচনা হয়েছে, কলাপাড়ায় স্বনির্ভর খাল খননের মাধ্যমে উপকূলীয় মানুষ বর্ষা মৌসুমীর শুরুতেই ভয়াবহ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেয়ে পেলো।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলেন, এ খাল খননের মাধ্যমে তারা জীবন নতুন কর্মসংস্থান পেয়েছেন, তেমনি আবার নতুন করে কৃষি আবাদ করতে পারবেন। চাষাবাদ করতে পারবেন মাছ। গবাদি পশু আর লবন পানির  কারণে মারা যাবে না। ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচির স্মৃতিচারণ করে স্থানীয়রা বলেন,৪৫ বছর আগে এই খাল খনন করা না হলে ১৪ টি গ্রামে ধানসহ কৃষি  উৎপাদন হতো না। সেদিন তারাও জিয়াউর রহমানের সাথে খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান। মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন খান দুলাল ও ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মনিবর রহমান খন্দকার বলেন, যুগ যুগ ধরে এ খাল পুনঃ খননের দাবী করে আসছিল এলাকার মানুষ। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে হাল খনণের পরিবর্তে উল্টো দখল হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ খাল খনন করায়  এলাকাবাসী খুশি।

কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম  বলেন, এক কোটি ৩৪ লাখ ২২ হাজার ২৯০ টাকা ব্যয়ে মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের এক হাজার ৪৫০ মিটার খাল খনন শুরু হয়েছে।  খালের গভীরতা হবে ১০ ফুট ও উপরের প্রস্থ হবে ৭০ ফুট। খাল খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খালটি খনন করেছিলেন।  তার পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এই খালটি পুনঃ খননের উদ্যোগ নেন।  সারা দেশবাসীর মতো কলাপাড়াবাসীও আজ অনেক খুশি। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি খাল  খনন করা হবে বলে জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

দীর্ঘ ৪৫ বছর পর কলাপাড়ায় স্বনির্ভর খাল আবার খনন শুরু

Update Time : ০২:২০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পটুয়াখালীর কলাপাড়ার স্বনির্ভর খাল আবার খনন শুরু হয়েছে।  বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এ খাল খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।  এতে সরকারের ব্যয় হবে এক কোটি ৩৪ লাখ টাকা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন,  আগামী ৪০ দিনে প্রথম দফায় দেড় কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।  ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান  পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সফরে এসে এ স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন।  মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের দুই তীরে রয়েছে ১৪ টি গ্রাম। ৪৫ বছর আগের খনন করা সেই খাল এখন দখল, দূষণ ও পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে।

গ্রীষ্ম মৌসুমে মিঠা পানির সংরক্ষণের অভাবে দুই ইউনিয়নের প্রায় চার হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো।  লবণ পানিতে মারা যেত শত শত হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু। কর্মহীন থাকতো শত শত কৃষক। কৃষকদের এই দুর্ভোগ লাঘবে বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসার পর পরই সারাদেশের যে খাল খনন কর্মসূচি সূচনা হয়েছে, কলাপাড়ায় স্বনির্ভর খাল খননের মাধ্যমে উপকূলীয় মানুষ বর্ষা মৌসুমীর শুরুতেই ভয়াবহ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেয়ে পেলো।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলেন, এ খাল খননের মাধ্যমে তারা জীবন নতুন কর্মসংস্থান পেয়েছেন, তেমনি আবার নতুন করে কৃষি আবাদ করতে পারবেন। চাষাবাদ করতে পারবেন মাছ। গবাদি পশু আর লবন পানির  কারণে মারা যাবে না। ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচির স্মৃতিচারণ করে স্থানীয়রা বলেন,৪৫ বছর আগে এই খাল খনন করা না হলে ১৪ টি গ্রামে ধানসহ কৃষি  উৎপাদন হতো না। সেদিন তারাও জিয়াউর রহমানের সাথে খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান। মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন খান দুলাল ও ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মনিবর রহমান খন্দকার বলেন, যুগ যুগ ধরে এ খাল পুনঃ খননের দাবী করে আসছিল এলাকার মানুষ। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে হাল খনণের পরিবর্তে উল্টো দখল হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ খাল খনন করায়  এলাকাবাসী খুশি।

কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম  বলেন, এক কোটি ৩৪ লাখ ২২ হাজার ২৯০ টাকা ব্যয়ে মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের এক হাজার ৪৫০ মিটার খাল খনন শুরু হয়েছে।  খালের গভীরতা হবে ১০ ফুট ও উপরের প্রস্থ হবে ৭০ ফুট। খাল খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খালটি খনন করেছিলেন।  তার পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এই খালটি পুনঃ খননের উদ্যোগ নেন।  সারা দেশবাসীর মতো কলাপাড়াবাসীও আজ অনেক খুশি। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি খাল  খনন করা হবে বলে জানান।