ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারাবিহ নামাজের নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১০ Time View
২৬১

ইসলাম ডেস্ক : ইবাদতের মাস রমজান। এ মাসে রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খল পরানো হয়। নবীজি (সা.)-এর হাদিস থেকে বিষয়গুলো প্রমাণিত। এ মাসের অন্যতম ইবাদত তারাবিহ নামাজ। মুসলমান বছরে শুধু রমজানের এক মাস এ নামাজ আদায় করে থাকেন। তাই অনেকের এ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত মনে থাকে না। তাই তারাবিহ নামাজের নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত তুলে ধরা হলো—

 

তারাবিহ নামাজ পড়ার নিয়ম

রমজানে প্রতিদিন এশার ফরজ নামাজ পড়ার পরে বিতিরের আগে তারাবিহ নামাজ পড়তে হয়। তারাবি নামাজ দুই দুই রাকাত করে পড়তে হয়। প্রত্যেক দুই রাকাতের পর সালাম ফেরানো হয়। এভাবে চার রাকাত পড়ার পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম ও দোয়া ইসতেগফার পড়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন তাসবিহও পড়া উত্তম।

তারাবিহ নামাজের নিয়ত

ইসলামে নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজ বা ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হলে তা সঠিক নিয়তের সঙ্গে করতে হয়। নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত পূর্ণাঙ্গ হয় না, কারণ ইবাদতের মূল শর্তই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইচ্ছা। তাই তারাবিহ নামাজের জন্যও নিয়ত করা আবশ্যক। নিয়ত মনে মনে বাংলাতেও করা যায়। তবে আমাদের দেশে তারাবিহ নামাজের প্রচলিত আরবি নিয়ত রয়েছে। তাহলো—

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ للهِ تَعَالَى رَكْعَتَى صَلَوةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ: ‘নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

তারাবিহ নামাজের নিয়ত আরবিতে করা আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাতেও এভাবে নিয়ত করা যাবে যে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবির দুই রাকাত নামাজ কেবলামুখী হয়ে (জামাত হলে- এ ইমামের পেছনে) পড়ছি- (اَللهُ اَكْبَر) আল্লাহু আকবার। উল্লেখ্য, নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে উত্তম।

তারাবিহ নামাজের দোয়া

তারাবিহ নামাজে প্রতি চার রাকাত পর পর বিশ্রাম নেওয়া হয়। এ সময় একটি দোয়া পড়ার প্রচলন রয়েছে। প্রায় সব মসজিদের মুসল্লিরা এই দোয়াটি উচ্চস্বরে পড়ে থাকেন। দোয়াটি হলো—

سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

উচ্চারণ: সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।

মনে রাখতে হবে, তারাবিহ নামাজ বিশুদ্ধ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে এই দোয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। এই দোয়া না পড়লে তারাবিহ নামাজ হবে না, কোনওভাবেই এমন মনে করা যাবে না। মূলত এ দোয়ার সঙ্গে তারাবিহ নামাজ হওয়া কিংবা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

এ সময় চাইলে এ দোয়ার পরিবর্তে কুরআন-হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়াই পড়া যাবে। ইসলামিক স্কলারদের মতে, তারাবিহ নামাজে চার রাকাত পর পর বিশ্রামের সময়টিতে কুরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া, তওবা,-ইসতেগফারগুলো পড়াই উত্তম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

তারাবিহ নামাজের নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত

Update Time : ০৩:৫৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
২৬১

ইসলাম ডেস্ক : ইবাদতের মাস রমজান। এ মাসে রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খল পরানো হয়। নবীজি (সা.)-এর হাদিস থেকে বিষয়গুলো প্রমাণিত। এ মাসের অন্যতম ইবাদত তারাবিহ নামাজ। মুসলমান বছরে শুধু রমজানের এক মাস এ নামাজ আদায় করে থাকেন। তাই অনেকের এ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত মনে থাকে না। তাই তারাবিহ নামাজের নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত তুলে ধরা হলো—

 

তারাবিহ নামাজ পড়ার নিয়ম

রমজানে প্রতিদিন এশার ফরজ নামাজ পড়ার পরে বিতিরের আগে তারাবিহ নামাজ পড়তে হয়। তারাবি নামাজ দুই দুই রাকাত করে পড়তে হয়। প্রত্যেক দুই রাকাতের পর সালাম ফেরানো হয়। এভাবে চার রাকাত পড়ার পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম ও দোয়া ইসতেগফার পড়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন তাসবিহও পড়া উত্তম।

তারাবিহ নামাজের নিয়ত

ইসলামে নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজ বা ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হলে তা সঠিক নিয়তের সঙ্গে করতে হয়। নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত পূর্ণাঙ্গ হয় না, কারণ ইবাদতের মূল শর্তই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইচ্ছা। তাই তারাবিহ নামাজের জন্যও নিয়ত করা আবশ্যক। নিয়ত মনে মনে বাংলাতেও করা যায়। তবে আমাদের দেশে তারাবিহ নামাজের প্রচলিত আরবি নিয়ত রয়েছে। তাহলো—

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ للهِ تَعَالَى رَكْعَتَى صَلَوةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ: ‘নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

তারাবিহ নামাজের নিয়ত আরবিতে করা আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাতেও এভাবে নিয়ত করা যাবে যে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবির দুই রাকাত নামাজ কেবলামুখী হয়ে (জামাত হলে- এ ইমামের পেছনে) পড়ছি- (اَللهُ اَكْبَر) আল্লাহু আকবার। উল্লেখ্য, নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে উত্তম।

তারাবিহ নামাজের দোয়া

তারাবিহ নামাজে প্রতি চার রাকাত পর পর বিশ্রাম নেওয়া হয়। এ সময় একটি দোয়া পড়ার প্রচলন রয়েছে। প্রায় সব মসজিদের মুসল্লিরা এই দোয়াটি উচ্চস্বরে পড়ে থাকেন। দোয়াটি হলো—

سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

উচ্চারণ: সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।

মনে রাখতে হবে, তারাবিহ নামাজ বিশুদ্ধ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে এই দোয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। এই দোয়া না পড়লে তারাবিহ নামাজ হবে না, কোনওভাবেই এমন মনে করা যাবে না। মূলত এ দোয়ার সঙ্গে তারাবিহ নামাজ হওয়া কিংবা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

এ সময় চাইলে এ দোয়ার পরিবর্তে কুরআন-হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়াই পড়া যাবে। ইসলামিক স্কলারদের মতে, তারাবিহ নামাজে চার রাকাত পর পর বিশ্রামের সময়টিতে কুরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া, তওবা,-ইসতেগফারগুলো পড়াই উত্তম।