ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম-বরিশাল বিভাগে ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, ১৪ জেলায় বন্যা সতর্কতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ২৭ Time View
৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ৪৮ ঘণ্টা চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অন্যদিকে, দেশের উজানে আগামী ৩-৪ দিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ সময়ের মধ্যে দেশের প্রায় ১৪টি জেলায় নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্প-মেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ‘আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টিপাত হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘একদিন পর থেকে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে,’ বলেন নাজমুল হক।

আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ বলেন, ‘জুলাই মাসে এমনিতেই বৃষ্টিপাত বেশি হয়। তবে আগামী ১২ তারিখের পর থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসবে। তারপর এক সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার এ মাসের শেষে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘নিম্নচাপ চলে গেলেও সাগরে বায়ুচাপের আধিক্যের কারণে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর পুরোপুরি সক্রিয়। সে কারণেই কয়েকদিন বেশি বৃষ্টি হচ্ছে,’ বলেন বজলুর রশিদ।

অন্যদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, ‘আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু কিছু স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।’

তিনি আরও জানান, আগামী ২৪-৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলে ২৪-৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে বলে জানান তিনি।

নির্বাহী প্রকৌশলী উদয় রায়হান আরও জানান, আগামী ৩-৪ দিন পর থেকে নদ -নদীর পানি আবার কমতে শুরু করবে।

এদিকে, টানা তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধস এবং বন্যার আশঙ্কায় বান্দরবান জেলার ৭ উপজেলায় ২২০ ও রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলায় ২০৪টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।

এছাড়া, পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয়ের জন্য রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে মাইকিং করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

চট্টগ্রাম-বরিশাল বিভাগে ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, ১৪ জেলায় বন্যা সতর্কতা

Update Time : ০২:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ৪৮ ঘণ্টা চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অন্যদিকে, দেশের উজানে আগামী ৩-৪ দিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ সময়ের মধ্যে দেশের প্রায় ১৪টি জেলায় নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্প-মেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ‘আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টিপাত হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘একদিন পর থেকে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে,’ বলেন নাজমুল হক।

আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ বলেন, ‘জুলাই মাসে এমনিতেই বৃষ্টিপাত বেশি হয়। তবে আগামী ১২ তারিখের পর থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসবে। তারপর এক সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার এ মাসের শেষে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘নিম্নচাপ চলে গেলেও সাগরে বায়ুচাপের আধিক্যের কারণে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর পুরোপুরি সক্রিয়। সে কারণেই কয়েকদিন বেশি বৃষ্টি হচ্ছে,’ বলেন বজলুর রশিদ।

অন্যদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, ‘আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু কিছু স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।’

তিনি আরও জানান, আগামী ২৪-৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলে ২৪-৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে বলে জানান তিনি।

নির্বাহী প্রকৌশলী উদয় রায়হান আরও জানান, আগামী ৩-৪ দিন পর থেকে নদ -নদীর পানি আবার কমতে শুরু করবে।

এদিকে, টানা তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধস এবং বন্যার আশঙ্কায় বান্দরবান জেলার ৭ উপজেলায় ২২০ ও রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলায় ২০৪টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।

এছাড়া, পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয়ের জন্য রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে মাইকিং করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন।