
নিজস্ব প্রতিবেদক : গৌরনদীতে একটি রেস্তোরাঁ ও বিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের পঁচা-বাসি খাবার খেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ২৩ জুন মঙ্গলবার অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত ‘ভাই ভাই বিরিয়ানি’ রেস্তোরাঁ থেকে খাবার খেয়ে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
সেন্ট যোসেফ স্কুলের শিক্ষার্থী মো. তাজের অভিভাবক তানিয়া আক্তার জানান, তিনি তার সন্তানের জন্য উক্ত রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে দেন। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাজ বমি করতে শুরু করে। পরে তিনি রেস্তোরাঁয় গিয়ে বিষয়টি দোকান মালিককে জানালে প্রথমে তিনি খাবার পঁচা বা বাসি হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয় পথচারীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে দোকান মালিক বিক্রি করা খাবারের মান নিয়ে ত্রুটি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন তানিয়া আক্তার।
বিষয়টি গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানকে অবহিত করা হলে তিনি অভিযোগটি নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে একই ব্যক্তি গৌরনদী গার্লস স্কুলের ক্যান্টিন পরিচালনা করেন বলেও জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ক্যান্টিনের খাবার খেয়েও কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে বমি করেছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহিম বলেন, “গার্লস স্কুলের ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যান্টিন পরিচালনায় অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হবে।”
অন্যদিকে সেন্ট যোসেফ স্কুলের ভেতরে থাকা ক্যান্টিনের মালিকও একই ব্যক্তি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাভলী বেগম বলেন, “ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। ক্যান্টিন মালিককে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। খাবারের সঙ্গে নিম্নমানের ও রং মিশ্রিত সস ব্যবহার না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত খাবারের মান উন্নয়ন না হলে ক্যান্টিন পরিচালনার অনুমতি বাতিল করা হবে।
অভিভাবকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের খাবারের দোকানগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রোধ করা সম্ভব হয়।
Reporter Name 





















