
নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় লোকমান মৃধা (৫৫) নামে এক হোটেল মালিককে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় কুয়াকাটা পৌরসভার পাঞ্জুপাড়া এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত লোকমান মৃধা ‘হোটেল কুয়াকাটা প্যালেস’-এর মালিক। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাখাইন মহিলা মার্কেটের ঝিনুক ব্যবসায়ী রাসেল খান ও মিরাজ প্রায়ই ওই হোটেলে গিয়ে মাদক সেবন করতেন। এতে হোটেল মালিক লোকমান মৃধা বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। এরই জেরে রোববার সন্ধ্যায় তাকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় তারা। হামলাকারীরা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে লোকমানের দুই পা থেঁতলে দেয়। এতে তার চারটি দাঁত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, রাত ৮টার দিকে লোকমান মৃধাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতের মেয়ে সাজেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “রাসেল খান ও মিরাজ নিয়মিত আমার বাবার হোটেলে গিয়ে ইয়াবা সেবন করতেন। বাধা দেওয়ায় তারা বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। আমার বাবা এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আমরা এর বিচার চাই।”
এদিকে অভিযুক্তরা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ ফারুক মীর বলেন, “মিরাজ আগে থেকেই বহিষ্কৃত। অপর অভিযুক্ত ওয়ার্ড যুবদল সদস্য রাসেল খান এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মহিপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 




















