ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগৈলঝাড়ায় পুলিশের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ২৮ Time View
৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানা পরিদর্শন করেছেন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন।

 

এ সময় তিনি আহত পুলিশ সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন তথ্যমন্ত্রী। পরে আহত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

 

পরিদর্শন শেষে তিনি আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় সাংবাদিকরা থানায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এফএম নাজমুল রিপন এবং সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামকে আসামি করার বিষয়টি তার নজরে আনেন।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহম্মেদ পান্না, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম, সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, ফুলশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, থানার হাজতখানায় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজনসহ শতাধিক লোক থানায় গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের মারধর এবং থানার বিভিন্ন কক্ষ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।

ঘটনার পর পুলিশ ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। এ মামলায় শনিবার পর্যন্ত নারী-পুরুষসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

আলোচিত মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির বরিশাল ব্যুরো ইনচার্জ এফএম নাজমুল রিপনকে ২১ নম্বর এবং দৈনিক যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামকে ২৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

আগৈলঝাড়ায় পুলিশের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী

Update Time : ০২:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানা পরিদর্শন করেছেন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন।

 

এ সময় তিনি আহত পুলিশ সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন তথ্যমন্ত্রী। পরে আহত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

 

পরিদর্শন শেষে তিনি আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় সাংবাদিকরা থানায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এফএম নাজমুল রিপন এবং সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামকে আসামি করার বিষয়টি তার নজরে আনেন।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহম্মেদ পান্না, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম, সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, ফুলশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, থানার হাজতখানায় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজনসহ শতাধিক লোক থানায় গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের মারধর এবং থানার বিভিন্ন কক্ষ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।

ঘটনার পর পুলিশ ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। এ মামলায় শনিবার পর্যন্ত নারী-পুরুষসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

আলোচিত মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির বরিশাল ব্যুরো ইনচার্জ এফএম নাজমুল রিপনকে ২১ নম্বর এবং দৈনিক যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামকে ২৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।