ঢাকা ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসহ্য যন্ত্রণায় কাটছে দিন : নাজিরপুরের তানিয়ার সুচিকিৎসায় মানবিক সহায়তার আকুতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৩১ Time View
৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের  নাজিরপুর উপজেলার ৪ নং দীর্ঘ ইউনিয়নের লেবু জিলবুনিয়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আল-আমিন হাওলাদারের সাত বছরের কন্যা তানিয়া আজ এক নির্মম বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছে। যে বয়সে তার হাসি-আনন্দ আর খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই সময়েই তাকে সহ্য করতে হচ্ছে এক বিরল ও জটিল চর্মরোগের অসহনীয় যন্ত্রণা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই তানিয়ার শরীরে অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দেয়। শুরুতে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলেও ধীরে ধীরে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরবর্তীতে তাকে খুলনার আড়াইশো শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে, তানিয়া একটি বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা যা তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব। তানিয়া দুই ভাইয়ের পর পরিবারের একমাত্র মেয়ে। স্বাভাবিকভাবেই সে ছিল সবার আদরের ধন। কিন্তু তার এই দুরারোগ্য ব্যাধি পুরো পরিবারকে ভেঙে দিয়েছে। দিনমজুর পিতা আল-আমিন মিয়া কোনোভাবে সংসারের নিত্য খরচ চালান, সেখানে মেয়ের চিকিৎসার জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তানিয়ার শরীরজুড়ে মুখ, হাত-পা ও পিঠে বড় বড় ফোসকা, ঘা ও খসখসে ত্বক ছড়িয়ে রয়েছে। দিনরাত তীব্র চুলকানি ও ব্যথায় সে কাতরাচ্ছে। ছোট্ট এই শিশুটির কান্না যেন থামতেই চায় না। তার এই অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে অসহায় বাবা-মা নির্বাক হয়ে যান।

অসহায় পিতা আল-আমিন বলেন, আমি একজন গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই। আমার মেয়েটা খুব কষ্টে আছে। তার এই যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছি না। ডাক্তার বলেছেন অনেক টাকার প্রয়োজন, কিন্তু আমার পক্ষে তা জোগাড় করা সম্ভব নয়। সমাজের সকল দয়ালু মানুষের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি আপনারা আমার মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। আপনাদের সামান্য সহায়তাই হয়তো আমার তানিয়ার জীবনে নতুন আলো এনে দিতে পারে। মা নয়নী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়ে জন্মের পর থেকেই ও আলাদা ছিল। ভেবেছিলাম সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন ওর কষ্ট দেখে আর সহ্য করতে পারি না। ভালো চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যও নেই আমাদের। নানী শাহিনুর বেগম বলেন, জন্মের পর থেকে ঠিকমতো গোসল করাতে পারিনি। শরীরে সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করতেও পারি না। সারারাত চুলকাতে থাকে, ঘুমাতে পারে না। আজ তানিয়ার জীবন বাঁচাতে দরকার আমাদের সবার সহানুভূতি ও সহযোগিতা। সমাজের হৃদয়বান মানুষদের সামান্য সহায়তাই পারে এই নিষ্পাপ শিশুটির মুখে আবার হাসি ফিরিয়ে দিতে। আসুন, মানবতার হাত বাড়িয়ে দিই তানিয়ার পাশে দাঁড়াই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা জানান, অসুস্থ শিশুটির পরিবারকে তাঁর অফিসে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আবেদন পাওয়ার পর সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

অসহ্য যন্ত্রণায় কাটছে দিন : নাজিরপুরের তানিয়ার সুচিকিৎসায় মানবিক সহায়তার আকুতি

Update Time : ০৫:২৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের  নাজিরপুর উপজেলার ৪ নং দীর্ঘ ইউনিয়নের লেবু জিলবুনিয়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আল-আমিন হাওলাদারের সাত বছরের কন্যা তানিয়া আজ এক নির্মম বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছে। যে বয়সে তার হাসি-আনন্দ আর খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই সময়েই তাকে সহ্য করতে হচ্ছে এক বিরল ও জটিল চর্মরোগের অসহনীয় যন্ত্রণা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই তানিয়ার শরীরে অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দেয়। শুরুতে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলেও ধীরে ধীরে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরবর্তীতে তাকে খুলনার আড়াইশো শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে, তানিয়া একটি বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা যা তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব। তানিয়া দুই ভাইয়ের পর পরিবারের একমাত্র মেয়ে। স্বাভাবিকভাবেই সে ছিল সবার আদরের ধন। কিন্তু তার এই দুরারোগ্য ব্যাধি পুরো পরিবারকে ভেঙে দিয়েছে। দিনমজুর পিতা আল-আমিন মিয়া কোনোভাবে সংসারের নিত্য খরচ চালান, সেখানে মেয়ের চিকিৎসার জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তানিয়ার শরীরজুড়ে মুখ, হাত-পা ও পিঠে বড় বড় ফোসকা, ঘা ও খসখসে ত্বক ছড়িয়ে রয়েছে। দিনরাত তীব্র চুলকানি ও ব্যথায় সে কাতরাচ্ছে। ছোট্ট এই শিশুটির কান্না যেন থামতেই চায় না। তার এই অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে অসহায় বাবা-মা নির্বাক হয়ে যান।

অসহায় পিতা আল-আমিন বলেন, আমি একজন গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই। আমার মেয়েটা খুব কষ্টে আছে। তার এই যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছি না। ডাক্তার বলেছেন অনেক টাকার প্রয়োজন, কিন্তু আমার পক্ষে তা জোগাড় করা সম্ভব নয়। সমাজের সকল দয়ালু মানুষের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি আপনারা আমার মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। আপনাদের সামান্য সহায়তাই হয়তো আমার তানিয়ার জীবনে নতুন আলো এনে দিতে পারে। মা নয়নী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়ে জন্মের পর থেকেই ও আলাদা ছিল। ভেবেছিলাম সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন ওর কষ্ট দেখে আর সহ্য করতে পারি না। ভালো চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যও নেই আমাদের। নানী শাহিনুর বেগম বলেন, জন্মের পর থেকে ঠিকমতো গোসল করাতে পারিনি। শরীরে সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করতেও পারি না। সারারাত চুলকাতে থাকে, ঘুমাতে পারে না। আজ তানিয়ার জীবন বাঁচাতে দরকার আমাদের সবার সহানুভূতি ও সহযোগিতা। সমাজের হৃদয়বান মানুষদের সামান্য সহায়তাই পারে এই নিষ্পাপ শিশুটির মুখে আবার হাসি ফিরিয়ে দিতে। আসুন, মানবতার হাত বাড়িয়ে দিই তানিয়ার পাশে দাঁড়াই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা জানান, অসুস্থ শিশুটির পরিবারকে তাঁর অফিসে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আবেদন পাওয়ার পর সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।