ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেহেন্দিগঞ্জে বাল্যবিবাহ ঘিরে উত্তেজনা, জামাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ৪০ Time View
৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়নে বাল্যবিবাহকে কেন্দ্র করে জামাতার বিরুদ্ধে শাশুড়ির দায়ের করা ধর্ষণ মামলা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

রবিবার (৩১ আগস্ট ২০২৫) তারিখে মেয়ের মা সুমি বেগম বরিশাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।  মামলায় জামাতা মাইদুল কাজী, তার বাবা বারেক কাজী এবং ননদ-জামাইকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,  জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী (১২)-এর সঙ্গে ২০২৫ সালের ২ মার্চ একই এলাকার বারেক কাজীর ছেলে মাইদুল কাজীর বিয়ে হয়।  বিয়েটি গায়েহলুদসহ জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।  বিয়েতে শতাধিক গ্রামবাসী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতির কথাও বলা হয়।

বিয়ের পর দম্পতি প্রায় চার মাস ঢাকায় ভাড়া বাসায় একসঙ্গে বসবাস করেন। পরবর্তীতে পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েটি বাবার বাড়িতে ফিরে যায়।

তবে অভিযুক্ত মাইদুল কাজী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শরিয়াহ মোতাবেক সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছে এবং এর ছবি ও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। তার দাবি, স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এদিকে বরের বাবা বারেক কাজীও অভিযোগকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে বলেন,  বিয়ের পরও ধর্ষণ মামলা—এমন ঘটনা জীবনে শুনিনি।

তিনি আরও জানান,  স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ও মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও করা হয়েছে।

ঘটক, ডেকোরেটর ও স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তি বিয়ের অনুষ্ঠানের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় বিয়ের কাজী ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বলেন,  কনের বয়স কম হওয়ায় তিনি বিয়ে সম্পন্ন না করেই ফিরে আসেন। তবে স্থানীয় অনেকেই মামলাটিকে মিথ্যা ও প্ররোচিত বলে মন্তব্য করেছেন।

ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ,  শিশু ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দিতে কথিত সালিশের মাধ্যমে জোরপূর্বক বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তারা প্রতারণার মাধ্যমে তালাক ও কাবিনের অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মতিউর রহমান জানান,  ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

মেহেন্দিগঞ্জে বাল্যবিবাহ ঘিরে উত্তেজনা, জামাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

Update Time : ১০:৩৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়নে বাল্যবিবাহকে কেন্দ্র করে জামাতার বিরুদ্ধে শাশুড়ির দায়ের করা ধর্ষণ মামলা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

রবিবার (৩১ আগস্ট ২০২৫) তারিখে মেয়ের মা সুমি বেগম বরিশাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।  মামলায় জামাতা মাইদুল কাজী, তার বাবা বারেক কাজী এবং ননদ-জামাইকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,  জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী (১২)-এর সঙ্গে ২০২৫ সালের ২ মার্চ একই এলাকার বারেক কাজীর ছেলে মাইদুল কাজীর বিয়ে হয়।  বিয়েটি গায়েহলুদসহ জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।  বিয়েতে শতাধিক গ্রামবাসী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতির কথাও বলা হয়।

বিয়ের পর দম্পতি প্রায় চার মাস ঢাকায় ভাড়া বাসায় একসঙ্গে বসবাস করেন। পরবর্তীতে পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েটি বাবার বাড়িতে ফিরে যায়।

তবে অভিযুক্ত মাইদুল কাজী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শরিয়াহ মোতাবেক সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছে এবং এর ছবি ও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। তার দাবি, স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এদিকে বরের বাবা বারেক কাজীও অভিযোগকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে বলেন,  বিয়ের পরও ধর্ষণ মামলা—এমন ঘটনা জীবনে শুনিনি।

তিনি আরও জানান,  স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ও মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও করা হয়েছে।

ঘটক, ডেকোরেটর ও স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তি বিয়ের অনুষ্ঠানের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় বিয়ের কাজী ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বলেন,  কনের বয়স কম হওয়ায় তিনি বিয়ে সম্পন্ন না করেই ফিরে আসেন। তবে স্থানীয় অনেকেই মামলাটিকে মিথ্যা ও প্ররোচিত বলে মন্তব্য করেছেন।

ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ,  শিশু ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দিতে কথিত সালিশের মাধ্যমে জোরপূর্বক বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তারা প্রতারণার মাধ্যমে তালাক ও কাবিনের অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মতিউর রহমান জানান,  ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।