ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাগভর্তি ৫০ লাখ টাকাসহ স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আটক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬ Time View
৯৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরে নির্বাচনের উত্তপ্ত মুহূর্তে ব্যাগভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ৫০ লাখ টাকাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।

আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল করিম ওরফে কাজল মৃধা (৪০)। তিনি নিজেকে কলাপাড়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে পরিচয় দিয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্র জানায়, তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে গুছানো অবস্থায় বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে বিএনপি নেতা বলে উল্লেখ করে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠতে থাকে। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের এত কাছ থেকে রাতের বেলায় এত বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে কাজল মৃধার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি নিজেকে কলাপাড়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যদিও এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।

অন্যদিকে আটক কাজল মৃধা দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকা তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বহন করা হচ্ছিল। তবে কী প্রয়োজনে, কোথা থেকে এই টাকা এসেছে এবং কেন ভোটকেন্দ্রের আশপাশে তিনি অবস্থান করছিলেন—এসব প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এখনো পর্যন্ত আটক ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। কোস্টগার্ড প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ভোটকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকা থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা ভোট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ ভোট প্রভাবিত করা, ভোটার প্রলুব্ধকরণ কিংবা সংঘাত উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অনেকেই দ্রুত তদন্ত করে টাকার উৎস, উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কারা জড়িত—তা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

এ ঘটনায় কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের ভূমিকা যেমন প্রশংসা পাচ্ছে, তেমনি প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় অঙ্কের টাকা কীভাবে নজরদারির বাইরে থেকে ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি পৌঁছাল?

ঘটনার তদন্ত এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হয়—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো কলাপাড়া।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ব্যাগভর্তি ৫০ লাখ টাকাসহ স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আটক

Update Time : ০৪:৩২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৯৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরে নির্বাচনের উত্তপ্ত মুহূর্তে ব্যাগভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ৫০ লাখ টাকাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।

আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল করিম ওরফে কাজল মৃধা (৪০)। তিনি নিজেকে কলাপাড়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে পরিচয় দিয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্র জানায়, তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে গুছানো অবস্থায় বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে বিএনপি নেতা বলে উল্লেখ করে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠতে থাকে। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের এত কাছ থেকে রাতের বেলায় এত বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে কাজল মৃধার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি নিজেকে কলাপাড়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যদিও এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।

অন্যদিকে আটক কাজল মৃধা দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকা তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বহন করা হচ্ছিল। তবে কী প্রয়োজনে, কোথা থেকে এই টাকা এসেছে এবং কেন ভোটকেন্দ্রের আশপাশে তিনি অবস্থান করছিলেন—এসব প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এখনো পর্যন্ত আটক ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। কোস্টগার্ড প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ভোটকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকা থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা ভোট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ ভোট প্রভাবিত করা, ভোটার প্রলুব্ধকরণ কিংবা সংঘাত উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অনেকেই দ্রুত তদন্ত করে টাকার উৎস, উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কারা জড়িত—তা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

এ ঘটনায় কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের ভূমিকা যেমন প্রশংসা পাচ্ছে, তেমনি প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় অঙ্কের টাকা কীভাবে নজরদারির বাইরে থেকে ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি পৌঁছাল?

ঘটনার তদন্ত এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হয়—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো কলাপাড়া।