ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রিন টি পান করার সঠিক সময় ও উপকারিতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০০:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৬ Time View
৩৬১

লাইফস্টাইল ডেস্ক : গ্রিন টি একটি কম ক্যালরিযুক্ত পানীয়, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো পরিবেশ দূষণ, ধূমপানসহ ভেতরের ও বাইরের নানা কারণে হওয়া কোষের ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় গ্রিন টি যোগ করলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণ বাড়ে, তবে সঠিক সময়ে পান করলে এর উপকারিতা আরো বেশি পাওয়া যায়।চলুন, জেনে নিই গ্রিন টি পান করার সেরা সময়।

নাস্তার ১-২ ঘণ্টা পরে

গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উদ্ভিদজাত খাবারের নন-হিম আয়রনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে আয়রন শোষণ কমাতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সময় না খেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পরে চা পান করলে এই প্রভাব প্রায় ৫০% কমে যায়।

দেরিতে সকাল বা বিকেলের দিকে

এই সময় অনেকেরই ক্লান্তি বা মনোযোগ কমে যায়। গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন ও এল-থিয়ানিন সাময়িকভাবে মনোযোগ, সতর্কতা এবং মানসিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও কমতে পারে।
খাবারের সঙ্গে (যদি আয়রন সমস্যা না থাকে) গ্রিন টি কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় খাবারের সাথে একটি ভালো পানীয়। এটি কফির তুলনায় কম ক্যাফেইনযুক্ত—এক কাপ কফিতে প্রায় ৯২ মি.গ্রা. ক্যাফেইন থাকলেও গ্রিন টিতে থাকে মাত্র প্রায় ৩০ মি.গ্রা.।

কখন গ্রিন টি এড়িয়ে চলবেন

১। ঘুমানোর আগে

গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকায় এটি ঘুমের মান খারাপ করতে পারে, বিশেষ করে যারা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল। এ সময় ক্যাফেইনমুক্ত চা যেমন ক্যামোমাইল, রুইবোস বা পুদিনা চা বেছে নেওয়া ভালো।

২। নন-হিম আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের আশেপাশে

পালং শাক, ডাল, বিনস, টোফু বা ফোর্টিফাইড সিরিয়ালের মতো খাবারের সঙ্গে বা তার আগে-পরে গ্রিন টি পান করলে আয়রন শোষণ কমে যেতে পারে। তাই এসব খাবারের এক ঘণ্টা আগে ও পরে গ্রিন টি এড়িয়ে চলা উচিত।

৩। আয়রন সাপ্লিমেন্টের সাথে

গ্রিন টি আয়রন সাপ্লিমেন্ট থেকে আয়রন শোষণে বাধা দেয়। তাই সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার সময় গ্রিন টি পান না করাই ভালো।

৪। ব্যায়ামের আগে

যদিও ক্যাফেইন কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, তবে গ্রিন টিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। তাই ব্যায়ামের পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর উৎস নয়, যদিও চাইলে পান করা যেতে পারে।

গ্রিন টি থেকে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়ার উপায়

১। সঠিক সংরক্ষণ

গ্রিন টি বায়ুরোধী পাত্রে, ঠাণ্ডা, শুকনো ও অন্ধকার জায়গায় রাখুন। এতে স্বাদ, সুবাস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকে।

২। সঠিক তাপমাত্রা ও সময়ে তৈরি করা

গ্রিন টি তৈরির সময় পাতার মান, পানির তাপমাত্রা ও ভেজানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সর্বাধিক পেতে ৮০–৮৫°সেলসিয়াস (১৭৬–১৮৫° ফারেনহাইট) গরম পানিতে ৫–১০ মিনিট চা পাতা ভিজিয়ে রাখুন।

সূত্র : হেলথ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

গ্রিন টি পান করার সঠিক সময় ও উপকারিতা

Update Time : ০৭:০০:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৩৬১

লাইফস্টাইল ডেস্ক : গ্রিন টি একটি কম ক্যালরিযুক্ত পানীয়, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো পরিবেশ দূষণ, ধূমপানসহ ভেতরের ও বাইরের নানা কারণে হওয়া কোষের ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় গ্রিন টি যোগ করলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণ বাড়ে, তবে সঠিক সময়ে পান করলে এর উপকারিতা আরো বেশি পাওয়া যায়।চলুন, জেনে নিই গ্রিন টি পান করার সেরা সময়।

নাস্তার ১-২ ঘণ্টা পরে

গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উদ্ভিদজাত খাবারের নন-হিম আয়রনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে আয়রন শোষণ কমাতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সময় না খেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পরে চা পান করলে এই প্রভাব প্রায় ৫০% কমে যায়।

দেরিতে সকাল বা বিকেলের দিকে

এই সময় অনেকেরই ক্লান্তি বা মনোযোগ কমে যায়। গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন ও এল-থিয়ানিন সাময়িকভাবে মনোযোগ, সতর্কতা এবং মানসিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও কমতে পারে।
খাবারের সঙ্গে (যদি আয়রন সমস্যা না থাকে) গ্রিন টি কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় খাবারের সাথে একটি ভালো পানীয়। এটি কফির তুলনায় কম ক্যাফেইনযুক্ত—এক কাপ কফিতে প্রায় ৯২ মি.গ্রা. ক্যাফেইন থাকলেও গ্রিন টিতে থাকে মাত্র প্রায় ৩০ মি.গ্রা.।

কখন গ্রিন টি এড়িয়ে চলবেন

১। ঘুমানোর আগে

গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকায় এটি ঘুমের মান খারাপ করতে পারে, বিশেষ করে যারা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল। এ সময় ক্যাফেইনমুক্ত চা যেমন ক্যামোমাইল, রুইবোস বা পুদিনা চা বেছে নেওয়া ভালো।

২। নন-হিম আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের আশেপাশে

পালং শাক, ডাল, বিনস, টোফু বা ফোর্টিফাইড সিরিয়ালের মতো খাবারের সঙ্গে বা তার আগে-পরে গ্রিন টি পান করলে আয়রন শোষণ কমে যেতে পারে। তাই এসব খাবারের এক ঘণ্টা আগে ও পরে গ্রিন টি এড়িয়ে চলা উচিত।

৩। আয়রন সাপ্লিমেন্টের সাথে

গ্রিন টি আয়রন সাপ্লিমেন্ট থেকে আয়রন শোষণে বাধা দেয়। তাই সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার সময় গ্রিন টি পান না করাই ভালো।

৪। ব্যায়ামের আগে

যদিও ক্যাফেইন কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, তবে গ্রিন টিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। তাই ব্যায়ামের পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর উৎস নয়, যদিও চাইলে পান করা যেতে পারে।

গ্রিন টি থেকে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়ার উপায়

১। সঠিক সংরক্ষণ

গ্রিন টি বায়ুরোধী পাত্রে, ঠাণ্ডা, শুকনো ও অন্ধকার জায়গায় রাখুন। এতে স্বাদ, সুবাস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকে।

২। সঠিক তাপমাত্রা ও সময়ে তৈরি করা

গ্রিন টি তৈরির সময় পাতার মান, পানির তাপমাত্রা ও ভেজানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সর্বাধিক পেতে ৮০–৮৫°সেলসিয়াস (১৭৬–১৮৫° ফারেনহাইট) গরম পানিতে ৫–১০ মিনিট চা পাতা ভিজিয়ে রাখুন।

সূত্র : হেলথ।