ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাউখালীতে রাস্তার উপরে সাঁকো দিয়ে মানুষের চলাচল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪০:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ১৫ Time View
২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাউদার খাল এলাকা থেকে বড় শাপলাজা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশের মাটি ধসে ও ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। ভাঙা অংশগুলো পারাপারের জন্য স্থানীয়রা রাস্তার ওপরেই নিজস্ব উদ্যোগে অস্থায়ী কাঠের বা বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টি কিংবা জোয়ারের পানিতে রাস্তার অধিকাংশ অংশ তলিয়ে যায়। ফলে তখন চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শাপলাজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়তুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, একটি এতিমখানা ও একটি কওমি মাদ্রাসাসহ অন্তত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। এছাড়াও এলাকার সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেই মোল্লারহাট ও পাঙ্গাসিয়া বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করেন। সড়কটির বেহাল দশার কারণে পুরো এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে আমাদের এই বিপজ্জনক সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় পা পিছলে বই-খাতা নিয়ে নিচে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এলাকার বাসিন্দা মিরাজ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বহু বছর আগে সাবেক ইউপি সদস্য নূরে আলম মীর এই রাস্তার সংস্কার করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। রাস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য এনায়েত হোসেন বলেন, সরকারি বরাদ্দ পেলে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব। একই বিষয়ে শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই রাস্তার সংস্কার কাজ করা হবে।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে যেকোনো গ্রামীণ অবকাঠামো সচল রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের এই কাঁচা সড়কটির বেহাল দশা এবং সাঁকো দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে আমি অবগত হলাম। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর/কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় কিংবা এলজিইডির মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’ ১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল!

কাউখালীতে রাস্তার উপরে সাঁকো দিয়ে মানুষের চলাচল

Update Time : ১১:৪০:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাউদার খাল এলাকা থেকে বড় শাপলাজা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশের মাটি ধসে ও ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। ভাঙা অংশগুলো পারাপারের জন্য স্থানীয়রা রাস্তার ওপরেই নিজস্ব উদ্যোগে অস্থায়ী কাঠের বা বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টি কিংবা জোয়ারের পানিতে রাস্তার অধিকাংশ অংশ তলিয়ে যায়। ফলে তখন চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শাপলাজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়তুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, একটি এতিমখানা ও একটি কওমি মাদ্রাসাসহ অন্তত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। এছাড়াও এলাকার সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেই মোল্লারহাট ও পাঙ্গাসিয়া বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করেন। সড়কটির বেহাল দশার কারণে পুরো এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে আমাদের এই বিপজ্জনক সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় পা পিছলে বই-খাতা নিয়ে নিচে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এলাকার বাসিন্দা মিরাজ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বহু বছর আগে সাবেক ইউপি সদস্য নূরে আলম মীর এই রাস্তার সংস্কার করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। রাস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য এনায়েত হোসেন বলেন, সরকারি বরাদ্দ পেলে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব। একই বিষয়ে শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই রাস্তার সংস্কার কাজ করা হবে।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে যেকোনো গ্রামীণ অবকাঠামো সচল রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের এই কাঁচা সড়কটির বেহাল দশা এবং সাঁকো দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে আমি অবগত হলাম। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর/কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় কিংবা এলজিইডির মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।