ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের টানছে পেয়ারা ও শীতলপাটির শহর ঝালকাঠি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ৩৩ Time View
৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের ছুটিতে ভ্রমণের জন্য দক্ষিণাঞ্চলের নদীবিধৌত জেলা ঝালকাঠি হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী-খাল আর গ্রামীণ ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে ছোট এই জেলাটি ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ‘পেয়ারা আর শীতলপাটি—এই নিয়ে ঝালকাঠি’—এমন স্লোগানই জেলার পরিচিতি বহন করে।

 

ঝালকাঠির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মস্থান সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি, ঐতিহাসিক কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি, কাঁঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদীর বুকে জেগে ওঠা ছৈলার চর এবং সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত পৌর মিনি পার্ক।

 

এছাড়া জেলার বাউকাঠি থেকে হিমানন্দকাঠি পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সড়ক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল সড়ক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। রাস্তার দুপাশে সবুজ গাছপালা ও পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট নদীর মনোরম দৃশ্য দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

 

ঝালকাঠি শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে পাঁচ নদীর মোহনায় প্রস্তাবিত ধানসিঁড়ি ন্যাশনাল ইকোপার্কও পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি স্থান। যদিও জমির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে, তবুও খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

 

ঝালকাঠির আরেকটি বড় পরিচিতি হলো পেয়ারা বাগান। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা এসব বাগানে বর্ষা মৌসুমে নৌকায় বসে জমে ওঠে ভাসমান পেয়ারা বাজার। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা নৌকায় এসে এখান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করেন।

 

এছাড়া রাজাপুর ও নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখনো ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি তৈরির কাজ চলে। স্থানীয় পাইত্রা গাছের ছাল দিয়ে তৈরি এসব শীতলপাটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাদৃত।

 

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন জানান, জেলার সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটগুলোকে ঘিরে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাঁচ নদীর মোহনায় প্রস্তাবিত ধানসিঁড়ি ইকোপার্ক বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের অন্যতম বড় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটিতে ঝালকাঠির দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের টানছে পেয়ারা ও শীতলপাটির শহর ঝালকাঠি

Update Time : ০৯:০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের ছুটিতে ভ্রমণের জন্য দক্ষিণাঞ্চলের নদীবিধৌত জেলা ঝালকাঠি হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী-খাল আর গ্রামীণ ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে ছোট এই জেলাটি ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ‘পেয়ারা আর শীতলপাটি—এই নিয়ে ঝালকাঠি’—এমন স্লোগানই জেলার পরিচিতি বহন করে।

 

ঝালকাঠির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মস্থান সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি, ঐতিহাসিক কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি, কাঁঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদীর বুকে জেগে ওঠা ছৈলার চর এবং সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত পৌর মিনি পার্ক।

 

এছাড়া জেলার বাউকাঠি থেকে হিমানন্দকাঠি পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সড়ক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল সড়ক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। রাস্তার দুপাশে সবুজ গাছপালা ও পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট নদীর মনোরম দৃশ্য দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

 

ঝালকাঠি শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে পাঁচ নদীর মোহনায় প্রস্তাবিত ধানসিঁড়ি ন্যাশনাল ইকোপার্কও পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি স্থান। যদিও জমির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে, তবুও খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

 

ঝালকাঠির আরেকটি বড় পরিচিতি হলো পেয়ারা বাগান। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা এসব বাগানে বর্ষা মৌসুমে নৌকায় বসে জমে ওঠে ভাসমান পেয়ারা বাজার। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা নৌকায় এসে এখান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করেন।

 

এছাড়া রাজাপুর ও নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখনো ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি তৈরির কাজ চলে। স্থানীয় পাইত্রা গাছের ছাল দিয়ে তৈরি এসব শীতলপাটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাদৃত।

 

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন জানান, জেলার সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটগুলোকে ঘিরে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাঁচ নদীর মোহনায় প্রস্তাবিত ধানসিঁড়ি ইকোপার্ক বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের অন্যতম বড় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটিতে ঝালকাঠির দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।