ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলায় ঈদের বাজারে কেনাকাটায় উৎসবের রঙ্গ লেগেছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • ৩৩ Time View
৬১

নিজস্ব প্রতিবেদক : আর মাত্র কয়েকদিন পরই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ ঈদকে সামনে রেখে ভোলায় জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটার বাজার। জেলার বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে এখন উৎসবের রঙ্গ লেগেছে। ইতোমধ্যে মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ধুম লেগেছে কেনাকাটার।

সরেজমিনে আজ দুপুরে ভোলা শহরের জিয়া সুপার মার্কেট, বঙ্গ বাজার, কে-জাহান সপিং কমপ্লেক্স, জাহাঙ্গীর প্লাজা, তালুকদার ভবন, সদর রোড, নতুন বাজারসহ বিভিন্ন শো-রুম ও বিপণিবিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও ইফতারের পর বাজারে ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শিশু-কিশোরদের পোশাকের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, জিন্স, টি-শার্ট ও জুতার দোকানগুলোতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।

জেলা সদরের মনিহার গার্মেন্টসে গিয়ে কথা হয় ক্রেতা সারমিন আক্তারের সাথে। তিনি বলেন, ছোট ছেলে মেয়ের জন্য শপিং করতে এসেছি। মেয়ের জন্য পাকিস্তানি লেহেঙ্গা কিনবো ভাবছি। কিন্তু বাজেটের মধ্যে পোশাক কেনা এখন কষ্টসাধ্য। যে লেহেঙ্গার দাম ছিল সর্বোচ্চ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা, তার মূল্য এখন হাঁকানো হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা। তিনি মনে করেন, গত বছরের চাইতে এবার ঈদে শিশুদের পোষাকের মূল্য দেড়গুন বেশি।

কে জাহান শপিং কমপ্লেক্সের নয়ন মনি নামক গার্মেন্টসে আসা ক্রেতা মাহবুব আলম জানান, এবার পোশাকের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ছেলের প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি, কিন্তু বাজেটের সাথে বাজার মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় এখনো কেনাকাটা করতে পারিনি।

ওই দোকানের মালিক মাকসুদুর রহমান জানান, বৈশ্বিক যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে অন্যান্য মালের সাথে পোষাকের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আগের বছরের চেয়ে এবার পোশাক কিছুটা বাড়তি মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ভোলা শহরের পোশাক ব্যবসায়ী মো.খায়ের উদ্দিন বলেন, রমজানের শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম ছিল। তবে গত কয়েকদিন ধরে ক্রেতা বাড়তে শুরু করেছে। রমজানের শেষের দিকে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। তবে এ দোকানি বলেন, মালের দাম একটু বেশি হওয়ায় ক্রেতাগণ একটু অস্বস্তিবোধ করছেন।

শহরের সদর রোডের একপাদুকা বিপণির মালিক মো. শাহে আলম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে শিশু ও তরুণদের জুতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন ডিজাইনের স্যান্ডেল, কেডস ও লেদারের জুতা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে মোবাইল ফোনের দোকানগুলোতে তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। শহরের তালুকদার ভবনের এক মোবাইল ব্যবসায়ী মো. হোসেন বলেন, জুতা, পোশাক ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতে ঈদের আমেজ দেখা গেলেও মোবাইল ব্যবসায় এখনো তেমন ঈদের রঙ লাগেনি। তবে ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ততই মোবাইল বিক্রি বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।

কসমেটিকস ব্যবসায়ী মো. মিজান বলেন, ঈদকে ঘিরে মেয়েদের মধ্যে কসমেটিকসের চাহিদা বাড়ে। লিপস্টিক, ফেস পাউডার, মেহেদি, পারফিউম ও স্কিন কেয়ার পণ্যের বিক্রি এখন ভালো হচ্ছে।

ক্রেতা মাহমুদা আক্তার বলেন, দ্রব্যমূল্য বেশি হলেও সন্তানদের জন্য ঈদের পোশাক কিনতেই হয়। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাজারে এসেছি। অপর ক্রেতা নুরুল ইসলাম জানান, এবার অনেক দোকানেই নতুন ডিজাইনের পোশাক এসেছে। তবে কিছু পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে বাজারে ক্রেতাদের চাপ ততই বাড়ছে। তাই ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের নতুন পোশাক ও সামগ্রী বাজারে আনা হয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে ভোলার বাজারগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঈদকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কেনাকাটার ব্যস্ততায় ভোলার বাজারগুলোতে এখন যেনো উৎসবের এক ভিন্নতার রঙ লেগেছে।

ভোলা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মো.সুলাইমান জানান, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আমরা বাজার মনিটরিং করছি।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামিম রহমান জানান, মুনাফালোভী ও অসাধু সিন্ডিকেট প্রতিহত করতে আমার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শপিংমল ও বাজার তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

ভোলায় ঈদের বাজারে কেনাকাটায় উৎসবের রঙ্গ লেগেছে

Update Time : ০১:৫১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
৬১

নিজস্ব প্রতিবেদক : আর মাত্র কয়েকদিন পরই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ ঈদকে সামনে রেখে ভোলায় জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটার বাজার। জেলার বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে এখন উৎসবের রঙ্গ লেগেছে। ইতোমধ্যে মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ধুম লেগেছে কেনাকাটার।

সরেজমিনে আজ দুপুরে ভোলা শহরের জিয়া সুপার মার্কেট, বঙ্গ বাজার, কে-জাহান সপিং কমপ্লেক্স, জাহাঙ্গীর প্লাজা, তালুকদার ভবন, সদর রোড, নতুন বাজারসহ বিভিন্ন শো-রুম ও বিপণিবিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও ইফতারের পর বাজারে ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শিশু-কিশোরদের পোশাকের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, জিন্স, টি-শার্ট ও জুতার দোকানগুলোতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।

জেলা সদরের মনিহার গার্মেন্টসে গিয়ে কথা হয় ক্রেতা সারমিন আক্তারের সাথে। তিনি বলেন, ছোট ছেলে মেয়ের জন্য শপিং করতে এসেছি। মেয়ের জন্য পাকিস্তানি লেহেঙ্গা কিনবো ভাবছি। কিন্তু বাজেটের মধ্যে পোশাক কেনা এখন কষ্টসাধ্য। যে লেহেঙ্গার দাম ছিল সর্বোচ্চ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা, তার মূল্য এখন হাঁকানো হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা। তিনি মনে করেন, গত বছরের চাইতে এবার ঈদে শিশুদের পোষাকের মূল্য দেড়গুন বেশি।

কে জাহান শপিং কমপ্লেক্সের নয়ন মনি নামক গার্মেন্টসে আসা ক্রেতা মাহবুব আলম জানান, এবার পোশাকের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ছেলের প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি, কিন্তু বাজেটের সাথে বাজার মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় এখনো কেনাকাটা করতে পারিনি।

ওই দোকানের মালিক মাকসুদুর রহমান জানান, বৈশ্বিক যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে অন্যান্য মালের সাথে পোষাকের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আগের বছরের চেয়ে এবার পোশাক কিছুটা বাড়তি মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ভোলা শহরের পোশাক ব্যবসায়ী মো.খায়ের উদ্দিন বলেন, রমজানের শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম ছিল। তবে গত কয়েকদিন ধরে ক্রেতা বাড়তে শুরু করেছে। রমজানের শেষের দিকে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। তবে এ দোকানি বলেন, মালের দাম একটু বেশি হওয়ায় ক্রেতাগণ একটু অস্বস্তিবোধ করছেন।

শহরের সদর রোডের একপাদুকা বিপণির মালিক মো. শাহে আলম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে শিশু ও তরুণদের জুতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন ডিজাইনের স্যান্ডেল, কেডস ও লেদারের জুতা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে মোবাইল ফোনের দোকানগুলোতে তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। শহরের তালুকদার ভবনের এক মোবাইল ব্যবসায়ী মো. হোসেন বলেন, জুতা, পোশাক ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতে ঈদের আমেজ দেখা গেলেও মোবাইল ব্যবসায় এখনো তেমন ঈদের রঙ লাগেনি। তবে ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ততই মোবাইল বিক্রি বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।

কসমেটিকস ব্যবসায়ী মো. মিজান বলেন, ঈদকে ঘিরে মেয়েদের মধ্যে কসমেটিকসের চাহিদা বাড়ে। লিপস্টিক, ফেস পাউডার, মেহেদি, পারফিউম ও স্কিন কেয়ার পণ্যের বিক্রি এখন ভালো হচ্ছে।

ক্রেতা মাহমুদা আক্তার বলেন, দ্রব্যমূল্য বেশি হলেও সন্তানদের জন্য ঈদের পোশাক কিনতেই হয়। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাজারে এসেছি। অপর ক্রেতা নুরুল ইসলাম জানান, এবার অনেক দোকানেই নতুন ডিজাইনের পোশাক এসেছে। তবে কিছু পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে বাজারে ক্রেতাদের চাপ ততই বাড়ছে। তাই ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের নতুন পোশাক ও সামগ্রী বাজারে আনা হয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে ভোলার বাজারগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঈদকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কেনাকাটার ব্যস্ততায় ভোলার বাজারগুলোতে এখন যেনো উৎসবের এক ভিন্নতার রঙ লেগেছে।

ভোলা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মো.সুলাইমান জানান, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আমরা বাজার মনিটরিং করছি।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামিম রহমান জানান, মুনাফালোভী ও অসাধু সিন্ডিকেট প্রতিহত করতে আমার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শপিংমল ও বাজার তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন।