ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে মাঘের শেষে হাড়কাঁপানো শীত, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা নিচে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮৭ Time View
১২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : পৌষে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নামলেও মাঘের প্রথম থেকে মধ্যভাগ পেরিয়ে ‘অস্বাভাবিক বসন্ত’র আমেজ কাটিয়ে বরিশালে এখন আবার শীত জেকে বসছে।

 

মঙ্গলবার সকালে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ২.৬ ডিগ্রী নিচে নেমে আসে। এমনকি মাঘের শুরু থেকে বরিশালে বসন্তের কোকিল আর ঘুঘুর ডাক আগাম বসন্তের বার্তা দিলেও মঙ্গলবার সকালে বরিশালে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিক ১৪.৯ ডিগ্রীর স্থালে ১২.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের প্রায় ২ ডিগ্রী নিচে ছিল। মাঘের শুরু থেকে খোদ বরিশাল মহানগরীর কোন কোন স্থানে ঘুঘুর ডাকে অনেকের ঘুম ভেঙলেও গত কয়েকদিন ধরে তাও উধাও।

 

এবারে পৌষের শুরু থেকে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৪ ডিগ্রী পর্যন্ত নিচে নেমে যাওয়ায় জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এমনকি গত নভেম্বরের শুরু থেকে জানুয়ারীর শেষভাগ পর্যন্ত বরিশালের সরকারী হাসপাতালেই প্রায় ১২ হাজার নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগী ভর্তি হয়েছেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন আরো অন্তত ১৫ হাজার। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫ জনের।

 

কিন্তু এবার পৌষের হাড় কাঁপানো শীত মাঘের শুরুতেই উধাও হয়ে মধ্যভাগে এসে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৩-৪ ডিগ্রী ওপরে উঠে যায়। এমনকি জানুয়ারীর শেষভাগে বরিশাল যুড়ে অনেকটা হালকা গরমের আমেজ লক্ষ্য করা গেলেও ফেব্রুয়ারীর এসময়ে তাপমাত্রার পারদ ওপরে উঠার কথা থাকলেও তা জানুয়ারীর পর্যায়ে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে নির্বাচনী প্রচারনা থেমে যাবার পরে দক্ষিণ জনপদে অনেকটাই রাজনৈতিক নিরবতার সাথে তাপমাত্রার পারদও স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাওয়ায় জনজীবনে যথেষ্ঠ ছন্দপতন দেখা দিয়েছে।

 

তবে ‘মাঘের শীত বাঘের গায়’ প্রবাদটি এবার মাঘের শুরু থেকে অনেকটাই অনুপস্থিত থাকলেও শেষ সময়ে এসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাবার এ ঘটনা খুব স্থায়ী নাও হতে পারে। পৌষের হাড় কাঁপানো শীতের অস্বস্তির পরে মাঘের শুরুতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বেশী শীতের মত অসময়ের কম শীতেও কৃষি সেক্টরে বিরূপ প্রভাব পড়ে। আবার শেষ মাঘে তাপামাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাওয়ায় জনজীবনের মত কৃষি সেক্টরেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে।

 

তবে তাপমাত্রা নিচে নামায় গমের ফলনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথাও বলেছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদগন। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে ২ লাক্ষাধিক টন গম উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু মাঘের শুরুতে শীতের দাপট কমে যাওয়ায় গমের উৎপাদন ব্যহত হবার শাংকা ছিল। তবে শেষভাগে এসে নতুন করে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নেমায় জনজীবনে অস্বস্তি দেখা দিলেও তা গমের ফলনের জন্য ইতিবাচক ফল দেবে বলে মনে করছেন কৃষিবীদগন।

 

অপরদিকে পৌষের শুরু থেকে কনকনে ঠান্ডার সাথে ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরি’ এবং গোল আলু ‘লেটব্লাইট’ নামে ছত্রাকবাহী রোগ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাঘের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ওপরে উঠে যাওয়ায় পরিস্থিতি অনুকুলে ছিল। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল ঘরে তোলার লক্ষ্যে ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে আবাদ সম্পন্ন করতে ২০ সহশ্রাধিক হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরীর পরে ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ ভাগ জমিতে রোপনও সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে এবার বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে গোল আলু ও ৭৮ হাজার হেক্টরে শীতকালীণ সবজির আবাদও সম্পন্ন হয়েছে। তবে পৌষ যুড়ে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বরিশাল অঞ্চলের বিপুল পরিমান জমির শীতকালীণ সবজির গুনগতমানও বিনষ্ট হয়েছে।

 

আবহাওয়া বিভাগের মতে, মৌসুমের একটি স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। যার একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপক’লে অদুরে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বুধবার দিনের তাপমাত্রা সমান্য বৃদ্ধির কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বদ্ধির কথা জানিয়েছে আবহায়া বিভাগ। তবে শুক্রবার দিনের তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য হ্রাসের পরবর্তি ৫ দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা পুনরায় বৃদ্ধির খবরও দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অফিস।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালের ডিসির আশ্বাস: দালালমুক্ত হবে ভূমিসেবা

বরিশালে মাঘের শেষে হাড়কাঁপানো শীত, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা নিচে

Update Time : ১০:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : পৌষে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নামলেও মাঘের প্রথম থেকে মধ্যভাগ পেরিয়ে ‘অস্বাভাবিক বসন্ত’র আমেজ কাটিয়ে বরিশালে এখন আবার শীত জেকে বসছে।

 

মঙ্গলবার সকালে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ২.৬ ডিগ্রী নিচে নেমে আসে। এমনকি মাঘের শুরু থেকে বরিশালে বসন্তের কোকিল আর ঘুঘুর ডাক আগাম বসন্তের বার্তা দিলেও মঙ্গলবার সকালে বরিশালে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিক ১৪.৯ ডিগ্রীর স্থালে ১২.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের প্রায় ২ ডিগ্রী নিচে ছিল। মাঘের শুরু থেকে খোদ বরিশাল মহানগরীর কোন কোন স্থানে ঘুঘুর ডাকে অনেকের ঘুম ভেঙলেও গত কয়েকদিন ধরে তাও উধাও।

 

এবারে পৌষের শুরু থেকে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৪ ডিগ্রী পর্যন্ত নিচে নেমে যাওয়ায় জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এমনকি গত নভেম্বরের শুরু থেকে জানুয়ারীর শেষভাগ পর্যন্ত বরিশালের সরকারী হাসপাতালেই প্রায় ১২ হাজার নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগী ভর্তি হয়েছেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন আরো অন্তত ১৫ হাজার। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫ জনের।

 

কিন্তু এবার পৌষের হাড় কাঁপানো শীত মাঘের শুরুতেই উধাও হয়ে মধ্যভাগে এসে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৩-৪ ডিগ্রী ওপরে উঠে যায়। এমনকি জানুয়ারীর শেষভাগে বরিশাল যুড়ে অনেকটা হালকা গরমের আমেজ লক্ষ্য করা গেলেও ফেব্রুয়ারীর এসময়ে তাপমাত্রার পারদ ওপরে উঠার কথা থাকলেও তা জানুয়ারীর পর্যায়ে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে নির্বাচনী প্রচারনা থেমে যাবার পরে দক্ষিণ জনপদে অনেকটাই রাজনৈতিক নিরবতার সাথে তাপমাত্রার পারদও স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাওয়ায় জনজীবনে যথেষ্ঠ ছন্দপতন দেখা দিয়েছে।

 

তবে ‘মাঘের শীত বাঘের গায়’ প্রবাদটি এবার মাঘের শুরু থেকে অনেকটাই অনুপস্থিত থাকলেও শেষ সময়ে এসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাবার এ ঘটনা খুব স্থায়ী নাও হতে পারে। পৌষের হাড় কাঁপানো শীতের অস্বস্তির পরে মাঘের শুরুতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বেশী শীতের মত অসময়ের কম শীতেও কৃষি সেক্টরে বিরূপ প্রভাব পড়ে। আবার শেষ মাঘে তাপামাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাওয়ায় জনজীবনের মত কৃষি সেক্টরেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে।

 

তবে তাপমাত্রা নিচে নামায় গমের ফলনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথাও বলেছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদগন। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে ২ লাক্ষাধিক টন গম উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু মাঘের শুরুতে শীতের দাপট কমে যাওয়ায় গমের উৎপাদন ব্যহত হবার শাংকা ছিল। তবে শেষভাগে এসে নতুন করে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নেমায় জনজীবনে অস্বস্তি দেখা দিলেও তা গমের ফলনের জন্য ইতিবাচক ফল দেবে বলে মনে করছেন কৃষিবীদগন।

 

অপরদিকে পৌষের শুরু থেকে কনকনে ঠান্ডার সাথে ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরি’ এবং গোল আলু ‘লেটব্লাইট’ নামে ছত্রাকবাহী রোগ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাঘের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ওপরে উঠে যাওয়ায় পরিস্থিতি অনুকুলে ছিল। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল ঘরে তোলার লক্ষ্যে ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে আবাদ সম্পন্ন করতে ২০ সহশ্রাধিক হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরীর পরে ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ ভাগ জমিতে রোপনও সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে এবার বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে গোল আলু ও ৭৮ হাজার হেক্টরে শীতকালীণ সবজির আবাদও সম্পন্ন হয়েছে। তবে পৌষ যুড়ে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বরিশাল অঞ্চলের বিপুল পরিমান জমির শীতকালীণ সবজির গুনগতমানও বিনষ্ট হয়েছে।

 

আবহাওয়া বিভাগের মতে, মৌসুমের একটি স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। যার একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপক’লে অদুরে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বুধবার দিনের তাপমাত্রা সমান্য বৃদ্ধির কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বদ্ধির কথা জানিয়েছে আবহায়া বিভাগ। তবে শুক্রবার দিনের তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য হ্রাসের পরবর্তি ৫ দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা পুনরায় বৃদ্ধির খবরও দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অফিস।