
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে এটিএম বুথে টাকা তোলা নিয়ে ব্যাংক গ্রাহকদের নতুন বিড়ম্বনার সাথে ভোগান্তিও ক্রমশ বৃদ্ধি করে চলেছে। বিগত ঈদ উল আজহার সময় থেকে শুরু হওয়া এ ভোগান্তি ব্যাংক গ্রাহকদের নিত্য নতুন সমস্যায় ফেলছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন সহ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দুর্ভোগের কোনো সীমা পরিসীমা নেই।
বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আন্তঃব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে গ্রাহকগণ যেকোনো ব্যাংকের বুথ থেকে নিজ ব্যাংকের এটিএম কার্ডের মাধ্যমে নগদ টাকা উত্তোলন করতে পারতেন। এজন্য ইতোপূর্বে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রতিটি লেনদেনের জন্য ১৫ টাকা এবং পরবর্তীতে ২০ টাকা করে চার্জ কেটে নেয়া হচ্ছে। এমনকি ইতোপূর্বে গ্রাহকগণ যেকোনো বুথ থেকে একবারে ২০ হাজার টাকা করে দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারতেন।
কিন্তু বিগত বছরখানেক ধরে একবারে ২০ হাজার টাকার পরিবর্তে উত্তোলন ক্ষমতা ১০ হাজারে হ্রাস করে ডাচ-বাংলা ব্যাংক সহ বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংক। অথচ প্রতিবারের উত্তোলন চার্জ ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু বিগত ঈদ উল আজহার সময় থেকে ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সহ বেশিরভাগ ব্যাংকের বুথ থেকেই অঘোষিতভাবে অন্য ব্যাংকের কার্ডের বিপরীতে টাকা প্রদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের সব বুথেই অন্য ব্যাংকের কার্ডের বিপরীতে টাকা প্রদান সম্পূর্ণই বন্ধ রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, তারল্য সংকটে দেশের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি এ বাণিজ্যিক ব্যাংকটি তার এটিএম বুথে নিয়মিত নগদ অর্থ প্রদান করতে পারছে না। এমনকি প্রায়শই ব্যাংকটির বেশিরভাগ বুথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকছে। দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীদের দাবি, ‘নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বুথ বন্ধ।” তবে গ্রাহকগণ বলছেন, ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের ঘাটতিতে বুথগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করছেন না।
এমনকি বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যাংক কর্তৃপক্ষই তার গ্রাহকদের সুস্পষ্ট কিছু বলছেন না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের মতে, ইসলামী ব্যাংক সহ কয়েকটি ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের অধিক হারে টাকা তুলে নেয়ার প্রবণতার কারণেই নতুন করে ভিন্নতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমনকি যেসব ব্যাংকের এটিএম বুথ ছাড়াও একাধিক মেশিন সহ ফাস্ট ট্র্যাক রয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের টাকা তোলার চাপও বাড়ছে। কিন্তু অনেক সময়ই নগদ টাকার কাঙ্ক্ষিত যোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অন্য ব্যাংকের কার্ডের বিপরীতে টাকা প্রদান বন্ধসহ বিকল্প ব্যবস্থায় এটিএম বুথ থেকে নগদ টাকা উত্তোলন নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরিশাল অফিসের প্রধান নির্বাহীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, আন্তঃব্যাংক লেনদেনে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। খুব দ্রুত পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক সহায়তার কথাও জানান নির্বাহী পরিচালক। নগদ অর্থ সংকটে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ বা নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে শনিবার ডাচ-বাংলা ব্যাংক সহ কয়েকটি ব্যাংকের বুথ থেকে এটিএম কার্ডের বিপরীতে আগের অর্ধেক, অর্থাৎ একবারে ৫ হাজার টাকা প্রদান শুরু হয়েছে। শনিবার বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ ও ফাস্ট ট্র্যাকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোপূর্বের ১০ হাজারের স্থলে ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। তবে ইতোপূর্বে যেখানে ২০ হাজারের বিপরীতে ১৫ টাকা চার্জ কেটে নেয়া হতো, এখন ৫ হাজার টাকা উত্তোলনেই ২০ টাকা করে চার্জ দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ফলে ২০ হাজার টাকা উত্তোলনে গ্রাহকদের এখন ৮০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের দায়িত্বশীল পর্যায়ে আলাপ করা হলে, তারা প্রায় সবাই, ‘কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়ে খুব দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
Reporter Name 


















