ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের আশা : মাঝরাত থেকে ভোলায় মাছ ধরা শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৮ Time View
১১৮

বিশেষ প্রতিবেদক : টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে শুরু হচ্ছে ইলিশ শিকার। নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশা জেলেদের। তাই মাছ মাছঘাটগুলাতে বেড়েছে জেলেদের কর্মব্যস্ততা।

 

জেলেরা জানান, মাছ ধরতে নৌকা ও জাল নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভোলার দুই লক্ষাধিক জেলে।

 

রাত ১২টা বাজলেই নদীতে নেমে পড়বেন মাছ শিকারে। শিকার করা মাছ বিক্রি করে ধারদেনা শোধ করতে পারবেন বলে আশা তাদের। তাই জেলে, আড়তদার ও পাইকারদের পদচারণে দুই মাস নীরব থাকা মাছঘাটগুলোও প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোলার ইলিশা, তুলাতলী, ভোলার খাল ও নাছির মাঝিসহ বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা যায়, নদীতে মাছ শিকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা।

 

নিষেধাজ্ঞার সময় ঘাটে বেঁধে রাখা নৌকাগুলো মেরামত করেছেন বলে জানান তারা। কেউ কেউ জাল বোনার কাজে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। প্রত্যেক ঘাটেই নদীতে নামার জন্য জেলেদের প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে, মাছের আড়ৎদাররাও আড়ৎ পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

দীর্ঘ দুই মাস বেকার সময় কাটিয়ে নতুন উদ্যোমে ইলিশ শিকার ও বিক্রিতে মেতে উঠবেন তারা। মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় শিকার করা মাছ বিক্রি করে সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদী জেলে ও আড়ৎদাররা।

 

সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের জেলে মো. মিলন মাঝি জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে মাছধরা পেশায় রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ করেছেন তিনি। এখন নদীতে মাছ শিকার করে ওই ঋণ শোধ করবেন।

 

সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝের চরের জেলে মো. জসিম মাঝি জানান, দুই মাস সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি ও তার নৌকার আট জেলে নদীতে মাছ শিকারে যাননি। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ। তাই নৌকা মেরামত করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা বাজলেই নদীতে মাছ শিকারে যাবেন তারা।

 

একই এলাকার জেলে রতন মাঝি, আসলাম মাঝি ও খাইরুল মাঝি বলেন, এতদিন মাছ ধরা বন্ধ ছিল। তাই তারা নদীতে যাননি। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু জেলে নদীতে মাছ শিকার করেছে। আবার অভিযান শেষে একটি চক্র অবৈধ বেড় জাল, পাই জাল, বেহুন্দি জাল দিয়ে মাছের ছোট ছোট পোনা ধ্বংস করে। এসব অবৈধ জাল বন্ধ না করলে কোনো ফল আসবে না।

 

ধনিয়া তুলাতুলি মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. ইউনুছ বেপারী জানান, এতদিন অভিযান থাকায় মাছের আড়ৎ বন্ধ ছিল। অভিযান উঠে যাওয়ায় জেলেরা নদীতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর আড়ৎদাররাও মাছ কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কাঙ্খিত মাছ পেলে গত দুই মাসের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা তাদের।

 

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা ওঠে যাবে। নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি অভিযান চালানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় এবারই প্রথম জেলেদের চালের পাশপাশি বিশেষ খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। মৎস্য বিভাগের সিমিত জনবল দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। আশা করছি, এবারের অভিযান শতভাগ সফল হয়েছে।

 

ইকবাল হোসেন আরো বলেন, এ অভিযানে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং এর সুফল জেলেরা পাবেন। আর এসব কার্যক্রম অর্থনীতিতে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের আশা : মাঝরাত থেকে ভোলায় মাছ ধরা শুরু

Update Time : ১০:৪৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
১১৮

বিশেষ প্রতিবেদক : টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে শুরু হচ্ছে ইলিশ শিকার। নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশা জেলেদের। তাই মাছ মাছঘাটগুলাতে বেড়েছে জেলেদের কর্মব্যস্ততা।

 

জেলেরা জানান, মাছ ধরতে নৌকা ও জাল নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভোলার দুই লক্ষাধিক জেলে।

 

রাত ১২টা বাজলেই নদীতে নেমে পড়বেন মাছ শিকারে। শিকার করা মাছ বিক্রি করে ধারদেনা শোধ করতে পারবেন বলে আশা তাদের। তাই জেলে, আড়তদার ও পাইকারদের পদচারণে দুই মাস নীরব থাকা মাছঘাটগুলোও প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোলার ইলিশা, তুলাতলী, ভোলার খাল ও নাছির মাঝিসহ বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা যায়, নদীতে মাছ শিকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা।

 

নিষেধাজ্ঞার সময় ঘাটে বেঁধে রাখা নৌকাগুলো মেরামত করেছেন বলে জানান তারা। কেউ কেউ জাল বোনার কাজে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। প্রত্যেক ঘাটেই নদীতে নামার জন্য জেলেদের প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে, মাছের আড়ৎদাররাও আড়ৎ পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

দীর্ঘ দুই মাস বেকার সময় কাটিয়ে নতুন উদ্যোমে ইলিশ শিকার ও বিক্রিতে মেতে উঠবেন তারা। মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় শিকার করা মাছ বিক্রি করে সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদী জেলে ও আড়ৎদাররা।

 

সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের জেলে মো. মিলন মাঝি জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে মাছধরা পেশায় রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ করেছেন তিনি। এখন নদীতে মাছ শিকার করে ওই ঋণ শোধ করবেন।

 

সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝের চরের জেলে মো. জসিম মাঝি জানান, দুই মাস সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি ও তার নৌকার আট জেলে নদীতে মাছ শিকারে যাননি। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ। তাই নৌকা মেরামত করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা বাজলেই নদীতে মাছ শিকারে যাবেন তারা।

 

একই এলাকার জেলে রতন মাঝি, আসলাম মাঝি ও খাইরুল মাঝি বলেন, এতদিন মাছ ধরা বন্ধ ছিল। তাই তারা নদীতে যাননি। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু জেলে নদীতে মাছ শিকার করেছে। আবার অভিযান শেষে একটি চক্র অবৈধ বেড় জাল, পাই জাল, বেহুন্দি জাল দিয়ে মাছের ছোট ছোট পোনা ধ্বংস করে। এসব অবৈধ জাল বন্ধ না করলে কোনো ফল আসবে না।

 

ধনিয়া তুলাতুলি মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. ইউনুছ বেপারী জানান, এতদিন অভিযান থাকায় মাছের আড়ৎ বন্ধ ছিল। অভিযান উঠে যাওয়ায় জেলেরা নদীতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর আড়ৎদাররাও মাছ কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কাঙ্খিত মাছ পেলে গত দুই মাসের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা তাদের।

 

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা ওঠে যাবে। নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি অভিযান চালানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় এবারই প্রথম জেলেদের চালের পাশপাশি বিশেষ খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। মৎস্য বিভাগের সিমিত জনবল দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। আশা করছি, এবারের অভিযান শতভাগ সফল হয়েছে।

 

ইকবাল হোসেন আরো বলেন, এ অভিযানে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং এর সুফল জেলেরা পাবেন। আর এসব কার্যক্রম অর্থনীতিতে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখবে।