ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরের ১নং ওয়ার্ডে ১২ হাজার মানুষের গণস্বাক্ষর : স্থায়ী সংস্কারে নতুন প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ৪৩০ Time View
৫৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক।। গাজীপুর।। ​গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের মোল্লা মার্কেট থেকে জিরানী বাজার পর্যন্ত সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের চরম সীমায় পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে এলাকায় ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।

এই সমস্যা নিরসনে তরুণ উদ্যোক্তা ও এলাকাবাসীর পক্ষে প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন কাশিমপুর থানা যুবদলের অন্যতম নেতা শাহীন মোল্লা।

​গণস্বাক্ষর সংগ্রহকালে শাহীন মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, গাজীপুরের ১নং ওয়ার্ডে প্রায় ২০ টিরও বেশি বড় কলকারখানা রয়েছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে সরকার প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ট্যাক্স পেলেও স্থানীয়রা ন্যূনতম সড়ক ও ড্রেনেজ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এই নোংরা পানি পাড়িয়ে চলাচল করছে। সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, এই পানি শরীরে লাগলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজ আদায় করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।

​স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ
​অত্র এলাকার স্বনামধন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ম্যানেজার মোঃ ফেরদাউছ সিকদার তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমি ২০১৭ইং সাল থেকে এই এলাকায় প্রায় ১০ বছর যাবৎ বসবাস করছি। ২০২৬ সাল পর্যন্ত একই চিত্র দেখে আসছি। রাস্তার দুপাশে জমে থাকা বাসাবাড়ির ময়লা পানি আর মশা-মাছির উপদ্রব জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিভিন্ন সময়ে লোক দেখানো সংস্কার হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আজ পর্যন্ত হয়নি।তিনি বর্তমান গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নবাগত প্রশাসক জনাব শওকত হোসেন সরকারের নিকট জনস্বার্থে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

​এলাকার সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, মাছিহাতা ফ্যাক্টরির পাশ দিয়ে প্রবাহিত সরকারি ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা খালটি অবৈধভাবে দখল হওয়ার কারণেই সারাবছর এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারি এই খালটি উদ্ধার করে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করলেই দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ​এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর এখন একটিই দাবি—সিটি কর্পোরেশন যেন আর কালক্ষেপণ না করে অতিদ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করে এবং পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

গাজীপুরের ১নং ওয়ার্ডে ১২ হাজার মানুষের গণস্বাক্ষর : স্থায়ী সংস্কারে নতুন প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

Update Time : ০১:০১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
৫৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক।। গাজীপুর।। ​গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের মোল্লা মার্কেট থেকে জিরানী বাজার পর্যন্ত সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের চরম সীমায় পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে এলাকায় ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।

এই সমস্যা নিরসনে তরুণ উদ্যোক্তা ও এলাকাবাসীর পক্ষে প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন কাশিমপুর থানা যুবদলের অন্যতম নেতা শাহীন মোল্লা।

​গণস্বাক্ষর সংগ্রহকালে শাহীন মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, গাজীপুরের ১নং ওয়ার্ডে প্রায় ২০ টিরও বেশি বড় কলকারখানা রয়েছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে সরকার প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ট্যাক্স পেলেও স্থানীয়রা ন্যূনতম সড়ক ও ড্রেনেজ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এই নোংরা পানি পাড়িয়ে চলাচল করছে। সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, এই পানি শরীরে লাগলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজ আদায় করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।

​স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ
​অত্র এলাকার স্বনামধন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ম্যানেজার মোঃ ফেরদাউছ সিকদার তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমি ২০১৭ইং সাল থেকে এই এলাকায় প্রায় ১০ বছর যাবৎ বসবাস করছি। ২০২৬ সাল পর্যন্ত একই চিত্র দেখে আসছি। রাস্তার দুপাশে জমে থাকা বাসাবাড়ির ময়লা পানি আর মশা-মাছির উপদ্রব জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিভিন্ন সময়ে লোক দেখানো সংস্কার হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আজ পর্যন্ত হয়নি।তিনি বর্তমান গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নবাগত প্রশাসক জনাব শওকত হোসেন সরকারের নিকট জনস্বার্থে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

​এলাকার সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, মাছিহাতা ফ্যাক্টরির পাশ দিয়ে প্রবাহিত সরকারি ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা খালটি অবৈধভাবে দখল হওয়ার কারণেই সারাবছর এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারি এই খালটি উদ্ধার করে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করলেই দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ​এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর এখন একটিই দাবি—সিটি কর্পোরেশন যেন আর কালক্ষেপণ না করে অতিদ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করে এবং পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।