ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটায় পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও লাল কাঁকড়ার চর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০২:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৪০ Time View
৬৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাগরকন্যা কুয়াকাটা শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জন্যই নয়, এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ খ্যাত মনোরম প্রাকৃতিক স্পট এবং এর নিকটবর্তী ‘লাল কাঁকড়ার চর’। সবুজ বনভূমি, শান্ত লেক আর সমুদ্রের নীল জলরাশির মিতালী পর্যটকদের দিচ্ছে এক অনন্য নৈসর্গিক অভিজ্ঞতা।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে গঙ্গামতি ও কাউয়ার চর এলাকায় অবস্থিত এই ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’। বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, ছোট ছোট টিলা আর লেকের পাড়ে বসে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করার সুযোগ থাকায় জায়গাটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখান থেকে একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল সুযোগও মিলছে। অনেকে এই নির্জন প্রকৃতির মাঝে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।

 

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি নিলু-আবির বলেন, “আমরা অনেক জায়গা ঘুরেছি, কিন্তু একই স্থানে সূর্য ওঠা ও ডোবা দেখার দৃশ্য সত্যিই বিস্ময়কর। এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও মনোরম।” পর্যটক নিঝুম জানান, এখানকার নির্মল বাতাস ও প্রকৃতির নিস্তব্ধতা তাকে বিমোহিত করেছে।

 

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, এলাকাটি আগে তেমন পরিচিত ছিল না। ভ্রমণ ব্লগার ‘মি. লাক্সছু’ তার মোটরসাইকেল ভ্রমণে কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির লেকসহ আশপাশের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে এটি ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিতি পায়। মি. লাক্সছু জানান, “সবুজ গাছ, নীল আকাশ আর সাগরের ঢেউ দেখে মনে হয়েছিল এ যেন বাংলাদেশের ভেতর এক টুকরো সুইজারল্যান্ড। সেই ভাবনা থেকেই নামটি ব্যবহার করা।”

মিনি সুইজারল্যান্ডের পাশেই অবস্থিত ‘লাল কাঁকড়ার চর’। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দৌড়াদৌড়ি পর্যটকদের কাছে এক আলাদা রোমাঞ্চ তৈরি করে। ইকো-ট্যুরিজমের দারুণ সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটকদের অসচেতনতায় প্লাস্টিক বর্জ্য ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর ফলে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, “এখানে পরিকল্পিতভাবে ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে এবং পর্যটন খাতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

 

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানান, এই এলাকাকে ঘিরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, “কুয়াকাটার মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই এই স্পটগুলোর উন্নয়ন করা হবে।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রচারণা কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে সহায়ক হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

কুয়াকাটায় পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও লাল কাঁকড়ার চর

Update Time : ১১:০২:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
৬৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাগরকন্যা কুয়াকাটা শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জন্যই নয়, এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ খ্যাত মনোরম প্রাকৃতিক স্পট এবং এর নিকটবর্তী ‘লাল কাঁকড়ার চর’। সবুজ বনভূমি, শান্ত লেক আর সমুদ্রের নীল জলরাশির মিতালী পর্যটকদের দিচ্ছে এক অনন্য নৈসর্গিক অভিজ্ঞতা।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে গঙ্গামতি ও কাউয়ার চর এলাকায় অবস্থিত এই ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’। বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, ছোট ছোট টিলা আর লেকের পাড়ে বসে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করার সুযোগ থাকায় জায়গাটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখান থেকে একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল সুযোগও মিলছে। অনেকে এই নির্জন প্রকৃতির মাঝে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।

 

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি নিলু-আবির বলেন, “আমরা অনেক জায়গা ঘুরেছি, কিন্তু একই স্থানে সূর্য ওঠা ও ডোবা দেখার দৃশ্য সত্যিই বিস্ময়কর। এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও মনোরম।” পর্যটক নিঝুম জানান, এখানকার নির্মল বাতাস ও প্রকৃতির নিস্তব্ধতা তাকে বিমোহিত করেছে।

 

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, এলাকাটি আগে তেমন পরিচিত ছিল না। ভ্রমণ ব্লগার ‘মি. লাক্সছু’ তার মোটরসাইকেল ভ্রমণে কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির লেকসহ আশপাশের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে এটি ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিতি পায়। মি. লাক্সছু জানান, “সবুজ গাছ, নীল আকাশ আর সাগরের ঢেউ দেখে মনে হয়েছিল এ যেন বাংলাদেশের ভেতর এক টুকরো সুইজারল্যান্ড। সেই ভাবনা থেকেই নামটি ব্যবহার করা।”

মিনি সুইজারল্যান্ডের পাশেই অবস্থিত ‘লাল কাঁকড়ার চর’। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দৌড়াদৌড়ি পর্যটকদের কাছে এক আলাদা রোমাঞ্চ তৈরি করে। ইকো-ট্যুরিজমের দারুণ সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটকদের অসচেতনতায় প্লাস্টিক বর্জ্য ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর ফলে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, “এখানে পরিকল্পিতভাবে ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে এবং পর্যটন খাতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

 

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানান, এই এলাকাকে ঘিরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, “কুয়াকাটার মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই এই স্পটগুলোর উন্নয়ন করা হবে।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রচারণা কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে সহায়ক হবে।