ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন শনিবার থেকে শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : কলেরা প্রতিরোধে আগামী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’।

 

আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে।

 

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

 

এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় টিকা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দু’টি ডোজ গ্রহণ করতে হবে। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে (গর্ভবতী নারী ছাড়া) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা খাওয়ানো হবে। এ কর্মসূচিতে সারা দেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

ডিএসসিসির আওতাধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট এলাকাতেও এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

 

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্বে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে রোগটি নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় সব টিকাদান কর্মসূচির মতো এ ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

 

তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

 

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

প্রসঙ্গত, ভাইবরিও কলেরা জীবাণুর সংক্রমণে হওয়া কলেরা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার এই টিকা ব্যবহার করা হয়। টিকাটি রোগের তীব্রতা কমাতে সহায়তা করে এবং কয়েক বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কেমিক্যাল রঙের বিকল্প আবিষ্কার বরিশালে, ফলের রসে রঙিন হবে খাবার

কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন শনিবার থেকে শুরু

Update Time : ১১:২৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : কলেরা প্রতিরোধে আগামী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’।

 

আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে।

 

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

 

এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় টিকা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দু’টি ডোজ গ্রহণ করতে হবে। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে (গর্ভবতী নারী ছাড়া) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা খাওয়ানো হবে। এ কর্মসূচিতে সারা দেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

ডিএসসিসির আওতাধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট এলাকাতেও এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

 

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্বে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে রোগটি নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় সব টিকাদান কর্মসূচির মতো এ ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

 

তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

 

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

প্রসঙ্গত, ভাইবরিও কলেরা জীবাণুর সংক্রমণে হওয়া কলেরা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার এই টিকা ব্যবহার করা হয়। টিকাটি রোগের তীব্রতা কমাতে সহায়তা করে এবং কয়েক বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।