ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়ানগরে ইঞ্জিনিয়ারের কাজ করলেন চেয়ারম্যানের সিএ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৪ Time View
১১

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় এডিবির ৩ টি প্রকল্পের টেন্ডারের কাজ উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইমরান আহমেদ এর পরিবর্তে উপজেলা পরিষদের সিএ (কনফিডেন্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ইয়াসিন আরাফাত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান। জিয়ানগর উপজেলার স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ ইয়াসিন আরাফাত নিজের পছন্দের ঠিকেদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে তিনি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার কে ভুল বুঝিয়ে কৌশলে তার কাছ থেকে টেন্ডারের পাসওয়ার্ড নিয়ে নেন এবং সে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে টেন্ডার বাণিজ্যে।

স্থানীয় আট থেকে দশ জন ঠিকাদার বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হয়ে টেন্ডার বাণিজ্য ও দুর্নীতির বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন এবং টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিতের জন্য লিখিত আবেদন করেন। ঠিকাদারদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ইমরান আহমেদ, মাঠ সহকারী ইঞ্জিনিয়ার লিখন ও সিএ আরাফাত কে নির্বাহী অফিসার তলব করেন এবং তাদের সাথে কথা বলে দুর্নীতির বিষয়ে আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে সাথে সাথে আরাফাত কে ইউএনও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ‎জিয়ানগর উপজেলার এডিবি প্রকল্পের কাজ উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসিন আরাফাত তার নিজ উপজেলা নাজিরপুরের ঠিকাদারদের অসাধু উপায়ে পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেটা জানাজানি হলে স্থানীয় ঠিকাদারদের ভিতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন, এই প্রকল্পের কাজের টেন্ডারের জন্য পিরোজপুর জেলার সকল লাইসেন্স অংশগ্রহণ করার কথা ছিল কিন্তু চূড়ান্ত লটারিতে জিয়ানগর উপজেলার কোন ঠিকাদারের লাইসেন্স ছিল না এবং উপজেলা পরিষদের সিএ তার নিজ এলাকার পছন্দের ঠিকাদারকে আসাধু উপায়ে এলজিইডির পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কাজ পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়।

তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, এলজিডির পাসওয়ার্ড এই কর্মচারীর কাছে থাকার কথা না কিন্তু কিভাবে আর কোন বৈধতায় তার কাছে পাসওয়ার্ড গেল। কিভাবে তিনি সরকারি একটি দপ্তরের গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ এর মালিক এইচ এম ফারুক হোসাইন বলেন, এডিবির প্রকল্প মূল কথা ছিল জিয়ানগর উপজেলা যে সকল লাইসেন্স আছে সেগুলো এসডিয়ার এর মাধ্যমে লটারি করে কাজ বন্টন করা হবে কিন্তু এই আরাফাত সেখানে জালিয়াতি করে জিয়ানগর উপজেলার কোন লাইসেন্স চূড়ান্ত লটারির জন্য না রেখে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। ঘটনার সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার স্যার কে কাগজপত্র রেডি করতে শুধুমাত্র একটু সাহায্য করেছি। আমার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উপজেলা প্রকৌশলী এমরান আহম্মেদ খান বলেন, যান্ত্রিক রুটির কারণে টেন্ডারের কলটি বন্ধ করা হয়েছে, তবে অল্প সময়ে কাজে এরকম কম বেশি ভুল হতে পারে। জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ইজিপির যে, টেন্ডারটি হয়েছিল সেখানে স্থানীয় কোনো ঠিকাদার নোটিফিকেশন পাননি। বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখি। জিয়ানগর উপজেলার সকল যোগ্য ঠিকাদারের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকার কথা।

তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয় এবং সাবেক নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের সিএ এবং বর্তমানে জিয়ানগর উপজেলা পরিষদের সিএ আরাফাত হোসেনের সংশ্লিষ্টতা ও অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা ওই টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছি। পরবর্তীতে সরকারি বিধি-বিধান ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান ও সম্পন্ন করবো।

উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদের সিএ আরাফাতের বিরুদ্ধে সাবেক কর্মস্থল নাজিরপুরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো এবং সেই দুর্নীতির সংবাদ মিডিয়ায় প্রচারের কারণে তাকে সেখান থেকে জিয়ানগরে বদলি করা হয়েছিলো

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কলাপাড়ায় ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার

জিয়ানগরে ইঞ্জিনিয়ারের কাজ করলেন চেয়ারম্যানের সিএ

Update Time : ০৪:১০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
১১

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় এডিবির ৩ টি প্রকল্পের টেন্ডারের কাজ উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইমরান আহমেদ এর পরিবর্তে উপজেলা পরিষদের সিএ (কনফিডেন্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ইয়াসিন আরাফাত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান। জিয়ানগর উপজেলার স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ ইয়াসিন আরাফাত নিজের পছন্দের ঠিকেদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে তিনি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার কে ভুল বুঝিয়ে কৌশলে তার কাছ থেকে টেন্ডারের পাসওয়ার্ড নিয়ে নেন এবং সে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে টেন্ডার বাণিজ্যে।

স্থানীয় আট থেকে দশ জন ঠিকাদার বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হয়ে টেন্ডার বাণিজ্য ও দুর্নীতির বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন এবং টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিতের জন্য লিখিত আবেদন করেন। ঠিকাদারদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ইমরান আহমেদ, মাঠ সহকারী ইঞ্জিনিয়ার লিখন ও সিএ আরাফাত কে নির্বাহী অফিসার তলব করেন এবং তাদের সাথে কথা বলে দুর্নীতির বিষয়ে আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে সাথে সাথে আরাফাত কে ইউএনও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ‎জিয়ানগর উপজেলার এডিবি প্রকল্পের কাজ উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসিন আরাফাত তার নিজ উপজেলা নাজিরপুরের ঠিকাদারদের অসাধু উপায়ে পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেটা জানাজানি হলে স্থানীয় ঠিকাদারদের ভিতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন, এই প্রকল্পের কাজের টেন্ডারের জন্য পিরোজপুর জেলার সকল লাইসেন্স অংশগ্রহণ করার কথা ছিল কিন্তু চূড়ান্ত লটারিতে জিয়ানগর উপজেলার কোন ঠিকাদারের লাইসেন্স ছিল না এবং উপজেলা পরিষদের সিএ তার নিজ এলাকার পছন্দের ঠিকাদারকে আসাধু উপায়ে এলজিইডির পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কাজ পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়।

তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, এলজিডির পাসওয়ার্ড এই কর্মচারীর কাছে থাকার কথা না কিন্তু কিভাবে আর কোন বৈধতায় তার কাছে পাসওয়ার্ড গেল। কিভাবে তিনি সরকারি একটি দপ্তরের গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ এর মালিক এইচ এম ফারুক হোসাইন বলেন, এডিবির প্রকল্প মূল কথা ছিল জিয়ানগর উপজেলা যে সকল লাইসেন্স আছে সেগুলো এসডিয়ার এর মাধ্যমে লটারি করে কাজ বন্টন করা হবে কিন্তু এই আরাফাত সেখানে জালিয়াতি করে জিয়ানগর উপজেলার কোন লাইসেন্স চূড়ান্ত লটারির জন্য না রেখে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। ঘটনার সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার স্যার কে কাগজপত্র রেডি করতে শুধুমাত্র একটু সাহায্য করেছি। আমার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উপজেলা প্রকৌশলী এমরান আহম্মেদ খান বলেন, যান্ত্রিক রুটির কারণে টেন্ডারের কলটি বন্ধ করা হয়েছে, তবে অল্প সময়ে কাজে এরকম কম বেশি ভুল হতে পারে। জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ইজিপির যে, টেন্ডারটি হয়েছিল সেখানে স্থানীয় কোনো ঠিকাদার নোটিফিকেশন পাননি। বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখি। জিয়ানগর উপজেলার সকল যোগ্য ঠিকাদারের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকার কথা।

তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয় এবং সাবেক নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের সিএ এবং বর্তমানে জিয়ানগর উপজেলা পরিষদের সিএ আরাফাত হোসেনের সংশ্লিষ্টতা ও অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা ওই টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছি। পরবর্তীতে সরকারি বিধি-বিধান ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান ও সম্পন্ন করবো।

উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদের সিএ আরাফাতের বিরুদ্ধে সাবেক কর্মস্থল নাজিরপুরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো এবং সেই দুর্নীতির সংবাদ মিডিয়ায় প্রচারের কারণে তাকে সেখান থেকে জিয়ানগরে বদলি করা হয়েছিলো