ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তজুমদ্দিনে দুর্র্ধর্ষ চুরি ও বৃদ্ধ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ২

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৩৮ Time View
৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার তজুমদ্দিনে আলোচিত খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে র্দুর্ধষ চুরি ও বৃদ্ধ শামছুল হক খাঁ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

 

গত ০১ মে ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে  তজুমদ্দিন ও লালমোহনের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি মো. পারভেজ (২৬) বিজ্ঞ আদালতে চুরির উদ্দেশ্যে খাবারে বিষক্রিয়া মেশানো এবং এর ফলে মৃত্যুর ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। ঘটনার বিবরণে জানাগেছে,গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে তজুমদ্দিন থানাধীন শম্ভুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শম্ভুপুর গ্রামের আল-আমিনের বসতঘরে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

 

সংঘবদ্ধ চোর চক্র পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। বিষাক্ত সেই খাবার খেয়ে পরিবারের তিন সদস্য-মোঃ আল আমিন (২৬), মোসাঃ সাজেদা বেগম (৫০) এবং মোঃ শামছুল হক খাঁ (৭০) গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়লে চোরেরা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।

 

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৯ এপ্রিল ভোরে শামছুল হক খাঁ মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় আল-আমিন বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় একটি হত্যা ও চুরির মামলা (মামলা নং-১৫) দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার)-এর দিক-নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) সত্যাজিৎ চন্দ্র রায়ের তত্ত্বাবধানে তজুমদ্দিন থানা পুলিশ অভিযানে নামে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় লালমোহনের ধলীগৌরনগর এলাকা থেকে মূল আসামি মোঃ পারভেজকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শম্ভুপুর ইউনিয়নের চর কোড়ালমারা গ্রাম থেকে সহযোগী আসামী জসিমকে (৪৬) গ্রেফতার করা হয়।  তজুমদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আসামিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত পারভেজের নিকট হতে ভিকটিমদের লুণ্ঠিত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।  এদিকে তজুমদ্দিন থানা পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপ ও সফল অভিযানের ফলে এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

তজুমদ্দিনে দুর্র্ধর্ষ চুরি ও বৃদ্ধ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ২

Update Time : ০৩:৫৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার তজুমদ্দিনে আলোচিত খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে র্দুর্ধষ চুরি ও বৃদ্ধ শামছুল হক খাঁ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

 

গত ০১ মে ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে  তজুমদ্দিন ও লালমোহনের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি মো. পারভেজ (২৬) বিজ্ঞ আদালতে চুরির উদ্দেশ্যে খাবারে বিষক্রিয়া মেশানো এবং এর ফলে মৃত্যুর ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। ঘটনার বিবরণে জানাগেছে,গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে তজুমদ্দিন থানাধীন শম্ভুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শম্ভুপুর গ্রামের আল-আমিনের বসতঘরে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

 

সংঘবদ্ধ চোর চক্র পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। বিষাক্ত সেই খাবার খেয়ে পরিবারের তিন সদস্য-মোঃ আল আমিন (২৬), মোসাঃ সাজেদা বেগম (৫০) এবং মোঃ শামছুল হক খাঁ (৭০) গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়লে চোরেরা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।

 

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৯ এপ্রিল ভোরে শামছুল হক খাঁ মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় আল-আমিন বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় একটি হত্যা ও চুরির মামলা (মামলা নং-১৫) দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার)-এর দিক-নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) সত্যাজিৎ চন্দ্র রায়ের তত্ত্বাবধানে তজুমদ্দিন থানা পুলিশ অভিযানে নামে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় লালমোহনের ধলীগৌরনগর এলাকা থেকে মূল আসামি মোঃ পারভেজকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শম্ভুপুর ইউনিয়নের চর কোড়ালমারা গ্রাম থেকে সহযোগী আসামী জসিমকে (৪৬) গ্রেফতার করা হয়।  তজুমদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আসামিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত পারভেজের নিকট হতে ভিকটিমদের লুণ্ঠিত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।  এদিকে তজুমদ্দিন থানা পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপ ও সফল অভিযানের ফলে এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।