ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেংটার মেলায় মাদকের শতাধিক দোকান, খাদেমকে মারধর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৩ Time View
৬২

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বেলতলী এলাকার বদরপুরে শুরু হওয়া ১০৭তম ‘লেংটার মেলা’কে ঘিরে মাদক, জুয়া ও অশ্লীলতার অভিযোগে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাদকের কারবার নিয়ে মারামারির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে মাজারের খাদেমের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলা প্রাঙ্গণসহ আশপাশের তিন থেকে চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়েক লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছে। মেলা এলাকায় অন্তত ৩ শতাধিক গাঁজার দোকান বসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে মেলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাজারের পশ্চিম-উত্তর পাশে পুকুরপাড় ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজার দোকান বসিয়েছে পাগল ও ফকির পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা। দিনের বেলায়ই চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। আর রাত নামলেই মেলার বিভিন্ন স্থানে বসছে জুয়ার আসর, অশ্লীল গান-বাজনা এবং নারী-পুরুষের একসঙ্গে নাচগানের আয়োজন।

এদিকে মেলার প্রথম দিন মঙ্গলবার বিকেলে জুয়া ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুয়ার টাকা ও মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজনের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার ওপর হামলা চালায় জুয়ারি ও মাদক কারবারিরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই মেলাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অনিয়ম হলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। এবারের মেলায় জনসমাগম এতটাই বেশি যে পুরো এলাকা কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্কও ঠিকভাবে কাজ করছে না, ফলে যোগাযোগে ভোগান্তিতে পড়ছেন দর্শনার্থীরা।

 

পুকুরপাড়ে বসা একাধিক ফকিরেরা বলেন, আমরা নিজেরা সেবন করি, তবে বিক্রি করি না। পুলিশের কারণে আগের মতো খোলামেলাভাবে বসা যায় না, সবসময় ভয়ে থাকতে হয়।

 

কুষ্টিয়া থেকে থেকে আসা মোকাব্বের আলী, জয়নব বেগম, দিলরুবা আক্তার, মনজ্জুরুল হক ফকির বলেন, আমরা প্রতিবছরই এখানে আসি। লেংটা বাবার দরবারে এসে জিকির-আসকার করি, গান-বাজনা করি। কেউ কেউ নেশা করে, তবে সেটা সবার জন্য নয়।

 

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা নেয়ামত উল্ল্যা নামে এক আশেকান জানান, এই মেলা আমাদের জন্য আধ্যাত্মিক মিলনমেলা। আমরা মানত নিয়ে আসি। তবে কিছু লোকের কারণে পরিবেশ খারাপ হয়, প্রশাসন যদি কড়াকড়ি করে তাহলে ভালো হয়।

 

কুমিল্লা থেকে আসা রফিকুল ইসলাম এক ভক্ত বলেন, আমরা এখানে শান্তির জন্য আসি। কিন্তু মাদক আর জুয়ার কারণে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।

 

শরীয়তপুর থেকে আগত গাফফার হোসেন ফকির বলেন, এখানে আসলে মন ভালো হয়ে যায়। তবে যেগুলো খারাপ কাজ হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করলে মেলার পরিবেশ আরও ভালো থাকবে।

 

দ্রুত প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনকে ঘিরে যদি মাদক, জুয়া ও অশ্লীলতার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা যায়, তাহলে এর সামাজিক প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, মেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পোশাকধারী পুলিশসহ সিভিল টিম কাজ করছে। মাদক ও জুয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

লেংটার মেলায় মাদকের শতাধিক দোকান, খাদেমকে মারধর

Update Time : ১১:১৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
৬২

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বেলতলী এলাকার বদরপুরে শুরু হওয়া ১০৭তম ‘লেংটার মেলা’কে ঘিরে মাদক, জুয়া ও অশ্লীলতার অভিযোগে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাদকের কারবার নিয়ে মারামারির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে মাজারের খাদেমের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলা প্রাঙ্গণসহ আশপাশের তিন থেকে চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়েক লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছে। মেলা এলাকায় অন্তত ৩ শতাধিক গাঁজার দোকান বসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে মেলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাজারের পশ্চিম-উত্তর পাশে পুকুরপাড় ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজার দোকান বসিয়েছে পাগল ও ফকির পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা। দিনের বেলায়ই চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। আর রাত নামলেই মেলার বিভিন্ন স্থানে বসছে জুয়ার আসর, অশ্লীল গান-বাজনা এবং নারী-পুরুষের একসঙ্গে নাচগানের আয়োজন।

এদিকে মেলার প্রথম দিন মঙ্গলবার বিকেলে জুয়া ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুয়ার টাকা ও মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজনের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার ওপর হামলা চালায় জুয়ারি ও মাদক কারবারিরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই মেলাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অনিয়ম হলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। এবারের মেলায় জনসমাগম এতটাই বেশি যে পুরো এলাকা কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্কও ঠিকভাবে কাজ করছে না, ফলে যোগাযোগে ভোগান্তিতে পড়ছেন দর্শনার্থীরা।

 

পুকুরপাড়ে বসা একাধিক ফকিরেরা বলেন, আমরা নিজেরা সেবন করি, তবে বিক্রি করি না। পুলিশের কারণে আগের মতো খোলামেলাভাবে বসা যায় না, সবসময় ভয়ে থাকতে হয়।

 

কুষ্টিয়া থেকে থেকে আসা মোকাব্বের আলী, জয়নব বেগম, দিলরুবা আক্তার, মনজ্জুরুল হক ফকির বলেন, আমরা প্রতিবছরই এখানে আসি। লেংটা বাবার দরবারে এসে জিকির-আসকার করি, গান-বাজনা করি। কেউ কেউ নেশা করে, তবে সেটা সবার জন্য নয়।

 

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা নেয়ামত উল্ল্যা নামে এক আশেকান জানান, এই মেলা আমাদের জন্য আধ্যাত্মিক মিলনমেলা। আমরা মানত নিয়ে আসি। তবে কিছু লোকের কারণে পরিবেশ খারাপ হয়, প্রশাসন যদি কড়াকড়ি করে তাহলে ভালো হয়।

 

কুমিল্লা থেকে আসা রফিকুল ইসলাম এক ভক্ত বলেন, আমরা এখানে শান্তির জন্য আসি। কিন্তু মাদক আর জুয়ার কারণে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।

 

শরীয়তপুর থেকে আগত গাফফার হোসেন ফকির বলেন, এখানে আসলে মন ভালো হয়ে যায়। তবে যেগুলো খারাপ কাজ হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করলে মেলার পরিবেশ আরও ভালো থাকবে।

 

দ্রুত প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনকে ঘিরে যদি মাদক, জুয়া ও অশ্লীলতার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা যায়, তাহলে এর সামাজিক প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, মেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পোশাকধারী পুলিশসহ সিভিল টিম কাজ করছে। মাদক ও জুয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।