ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী কাভারেজ নিয়ে অনিশ্চয়তায় বরিশালের সাংবাদিকরা!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১২ Time View
১৮১

​নিজস্ব প্রতিবেদক ।। ​আসন্ন নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের লক্ষে জেলা প্রশাসন থেকে ইস্যুকৃত ‘পর্যবেক্ষক কার্ড’ পাওয়া নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন বরিশালের সাংবাদিকরা।

 

 

কার্ড বিতরণে ডিসি অফিসের রহস্যজনক টালবাহানায় বরিশালের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক সাংবাদিক এখন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

​অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিতর্কিত ঘটনা সংবাদে আসায় তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাংবাদিক জানান, বর্তমান ডিসি বরিশালে যোগদানের আগে তার স্ত্রীর করা মামলায় জেল খেটেছিলেন। সেই সময় বরিশালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবরটি গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করে।

 

সাংবাদিকদের দাবি, সেই পুরোনো ‘বউ পেটানো’ নিউজের প্রতিশোধ নিতেই এখন কার্ড ইস্যু নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে।

 

​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদে দেখা গেছে, ​ডিসি অফিসের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা ফেসবুকে সরব হয়েছেন।

 

একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের!

 

​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।

 

​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

​এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনী কাভারেজ নিয়ে অনিশ্চয়তায় বরিশালের সাংবাদিকরা!

Update Time : ০৩:৩০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৮১

​নিজস্ব প্রতিবেদক ।। ​আসন্ন নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের লক্ষে জেলা প্রশাসন থেকে ইস্যুকৃত ‘পর্যবেক্ষক কার্ড’ পাওয়া নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন বরিশালের সাংবাদিকরা।

 

 

কার্ড বিতরণে ডিসি অফিসের রহস্যজনক টালবাহানায় বরিশালের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক সাংবাদিক এখন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

​অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিতর্কিত ঘটনা সংবাদে আসায় তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাংবাদিক জানান, বর্তমান ডিসি বরিশালে যোগদানের আগে তার স্ত্রীর করা মামলায় জেল খেটেছিলেন। সেই সময় বরিশালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবরটি গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করে।

 

সাংবাদিকদের দাবি, সেই পুরোনো ‘বউ পেটানো’ নিউজের প্রতিশোধ নিতেই এখন কার্ড ইস্যু নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে।

 

​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদে দেখা গেছে, ​ডিসি অফিসের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা ফেসবুকে সরব হয়েছেন।

 

একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের!

 

​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।

 

​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

​এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও।