
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল | ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।। ভোটের প্রচার মানেই মাইকের শব্দ, স্লোগান আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি—এটাই সাধারণ চিত্র। কিন্তু বরিশাল-৫ (সদর) আসনের নির্বাচনী আমেজ এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী প্রমাণ করছেন যে, রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতা দখল নয়, বরং মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা।
সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বরিশালের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ডা. মনীষাকে দেখা যায় এক অনন্য ভূমিকায়। ভোটারদের কাছে মই প্রতীকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, রাস্তার ধারেই এক বৃদ্ধা রোগীর এক্স-রে রিপোর্ট অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে দেখছেন তিনি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ডা. মনীষা চক্রবর্তী পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে মাঠে আছেন। বিসিএস ক্যাডার হয়েও বিলাসী জীবন ছেড়ে বেছে নিয়েছেন গণমানুষের রাজনীতি। এবারের নির্বাচনেও তিনি ব্যতিক্রমী প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করছেন। নির্বাচনী লিফলেটের বদলে অনেক সময় তাঁর হাতে থাকছে স্টেথোস্কোপ বা প্রেসক্রিপশন প্যাড।
উল্লেখ্য যে, ডা. মনীষার নির্বাচনী খরচ চলছে সাধারণ মানুষের দেওয়া **‘গণচাঁদা’**র মাধ্যমে। সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের জমানো টাকা তুলে দিচ্ছেন তাঁর হাতে। এই আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সরাসরি সেবামূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, রাজনীতির মাঠে এমন দৃশ্য বিরল। প্রচারণার ফাঁকে রুগী দেখার এই উদ্যোগকে তারা সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অন্য প্রার্থীরা যখন গাড়িবহর নিয়ে ভোট চান, মনীষা আপা তখন পায়ে হেঁটে আমাদের ঘরে আসেন, আমাদের অসুখ-বিসুখের কথা শোনেন। আমাদের জন্য এমন জনপ্রতিনিধিই প্রয়োজন।
ডা. মনীষা চক্রবর্তী মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তিনি বলেন, আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করছি মাত্র। রাজনীতি যদি মানুষের জীবনের সংকট সমাধান করতে না পারে, তবে সেই রাজনীতির কোনো সার্থকতা নেই।
ডা. মনীষা চক্রবর্তীর এই মানবিক প্রচারণা কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং এটি নিঃস্বার্থ সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যেখানে ব্যালট পেপারের ভোটের চেয়েও মানুষের সুস্থতা এবং ভালোবাসাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
Reporter Name 




















