ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেলার ৬০ শতাংশ গ্রামীণ সড়কই কাঁচা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ১৬ Time View
৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্ষাকালে ঘোরে না যানবাহনের চাকা। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়কটির অধিকাংশে এ সময় হাঁটু সমান কাদা।

কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে জীবন অর্ধেক শেষ। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে রক্ষায় গ্রামবাসী ছুটেছেন সরকারি দপ্তরে, কিন্তু মেলেনি প্রতিকার।

এমন অবস্থা নড়াইল সদর উপজেলার নিরালী-দেবভোগ সড়কের। সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের নিরালী গ্রাম থেকে একই উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের দেবভোগে গেছে সড়কটি।

নদীর কূলঘেঁষা দুই গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের মাধ্যম এই সড়ক পাকা করার দাবি অনেক পুরনো। কিন্তু বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি পেলেও সে দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা নদীর কূল হয়ে আখুদা দেবভোগ, এগারোখান সড়কটিও রয়ে গেছে কাঁচা। কয়েক শ মানুষের বসবাস এ গ্রাম দুটিতে।

সড়ক কাঁচা হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের।

শুধু এই দুই গ্রামের সড়ক নয়। জেলার তিন উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোর অধিকাংশই এখননো কাঁচা। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কে শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

 

সম্প্রতি সরেজমিনে নিরালী-দেবভোগ সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কজুড়ে কাদা আর কাদা।

 

তিন গ্রামের মানুষের বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কটি দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। স্থানীয়রা জানান, সড়কটির কারণে মাঠের ফসল ঘরে তুলতে তাদের কষ্টের শেষ নেই।

 

নিরালী গ্রামের সম্রাট বিশ্বাস বিশ্বাস বলেন, জন্মের পর থেকে কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল। সারা বছর ফসল আনা-নেওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শীতকালে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকাল তা একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী পড়ে। তিনি জানান, গ্রামটির অধিকাংশ পরিবার পান পাতার ওপর নির্ভরশীল। পান পাতা বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। কিন্তু সে পান যানবাহনে করে বাজারে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কাদা ভেঙে মাথায় করে পান বহন করে নিয়ে যেতে হয় বাজারে।

 

সম্রাট বিশ্বাসের অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের কাছে বারবার বলা হলেও প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই জোটেনি। স্থানীয়রা একাধিকবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি।

 

শেখহাটি ইউনিয়নের দেবভোগ গ্রামের বাবুল বিশ্বাস বলেন, ‘দেবভোগ নিরালী ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক পাকা করতে একাধিকবার রাজনৈতিক নেতাদের বলা হয়েছে। ভোট আসলে প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলে না।

 

মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা গ্রামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পপি রায়ের ভাষ্য, প্রতিদিন কাদা ভেঙে তাকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে থাকা এক হাজার ৪৪৭ টি সড়ক, যার দৈর্ঘ্য তিন হাজার ২২৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ এ সড়কের ৬০ শতাংশ কাঁচা। এর মধ্যে রয়েছে, সদর উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে এক হাজার ১৮১ কিলোমিটারের মধ্যে কাঁচা সড়ক ৭৩৮ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬২ শতাংশ।

 

লোহাগড়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে এক হাজার ১৯৯ কিলোমিটার এর মধ্যে কাঁচা ৭৮৯ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬০ শতাংশ।

 

কালিয়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ৭৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে কাঁচা ৪৩৩ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৫৮ শতাংশ ।

 

স্থানীয় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, জেলায় ৬০ শতাংশ সড়ক এখনো কাঁচা। চলতি অর্থবছরে কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু সড়ক সংস্কারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন, কিছু রাস্তা টেন্ডারে রয়েছে। এসব সড়ক জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৃহত্তর যশোর জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে আনার জন্য কাজ চলছে। প্রকল্পগুলো পাস হলে আগামী অর্থবছরে কাঁচা ও পাকা সড়ক ৫০ শতাংশে আনতে পারব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’ ১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল!

জেলার ৬০ শতাংশ গ্রামীণ সড়কই কাঁচা

Update Time : ১০:৩৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্ষাকালে ঘোরে না যানবাহনের চাকা। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়কটির অধিকাংশে এ সময় হাঁটু সমান কাদা।

কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে জীবন অর্ধেক শেষ। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে রক্ষায় গ্রামবাসী ছুটেছেন সরকারি দপ্তরে, কিন্তু মেলেনি প্রতিকার।

এমন অবস্থা নড়াইল সদর উপজেলার নিরালী-দেবভোগ সড়কের। সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের নিরালী গ্রাম থেকে একই উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের দেবভোগে গেছে সড়কটি।

নদীর কূলঘেঁষা দুই গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের মাধ্যম এই সড়ক পাকা করার দাবি অনেক পুরনো। কিন্তু বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি পেলেও সে দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা নদীর কূল হয়ে আখুদা দেবভোগ, এগারোখান সড়কটিও রয়ে গেছে কাঁচা। কয়েক শ মানুষের বসবাস এ গ্রাম দুটিতে।

সড়ক কাঁচা হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের।

শুধু এই দুই গ্রামের সড়ক নয়। জেলার তিন উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোর অধিকাংশই এখননো কাঁচা। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কে শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

 

সম্প্রতি সরেজমিনে নিরালী-দেবভোগ সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কজুড়ে কাদা আর কাদা।

 

তিন গ্রামের মানুষের বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কটি দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। স্থানীয়রা জানান, সড়কটির কারণে মাঠের ফসল ঘরে তুলতে তাদের কষ্টের শেষ নেই।

 

নিরালী গ্রামের সম্রাট বিশ্বাস বিশ্বাস বলেন, জন্মের পর থেকে কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল। সারা বছর ফসল আনা-নেওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শীতকালে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকাল তা একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী পড়ে। তিনি জানান, গ্রামটির অধিকাংশ পরিবার পান পাতার ওপর নির্ভরশীল। পান পাতা বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। কিন্তু সে পান যানবাহনে করে বাজারে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কাদা ভেঙে মাথায় করে পান বহন করে নিয়ে যেতে হয় বাজারে।

 

সম্রাট বিশ্বাসের অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের কাছে বারবার বলা হলেও প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই জোটেনি। স্থানীয়রা একাধিকবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি।

 

শেখহাটি ইউনিয়নের দেবভোগ গ্রামের বাবুল বিশ্বাস বলেন, ‘দেবভোগ নিরালী ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক পাকা করতে একাধিকবার রাজনৈতিক নেতাদের বলা হয়েছে। ভোট আসলে প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলে না।

 

মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা গ্রামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পপি রায়ের ভাষ্য, প্রতিদিন কাদা ভেঙে তাকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে থাকা এক হাজার ৪৪৭ টি সড়ক, যার দৈর্ঘ্য তিন হাজার ২২৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ এ সড়কের ৬০ শতাংশ কাঁচা। এর মধ্যে রয়েছে, সদর উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে এক হাজার ১৮১ কিলোমিটারের মধ্যে কাঁচা সড়ক ৭৩৮ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬২ শতাংশ।

 

লোহাগড়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে এক হাজার ১৯৯ কিলোমিটার এর মধ্যে কাঁচা ৭৮৯ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬০ শতাংশ।

 

কালিয়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ৭৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে কাঁচা ৪৩৩ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৫৮ শতাংশ ।

 

স্থানীয় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, জেলায় ৬০ শতাংশ সড়ক এখনো কাঁচা। চলতি অর্থবছরে কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু সড়ক সংস্কারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন, কিছু রাস্তা টেন্ডারে রয়েছে। এসব সড়ক জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৃহত্তর যশোর জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে আনার জন্য কাজ চলছে। প্রকল্পগুলো পাস হলে আগামী অর্থবছরে কাঁচা ও পাকা সড়ক ৫০ শতাংশে আনতে পারব।