ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ১ Time View
মোঃ সাদ্দাম হোসেন //বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি জমির মালিকানা বিরোধকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
জানা গেছে, কর্ণকাঠী মৌজার জেএল নং-৫৭ এর দাগ নং-৬৬২-এর আওতাভুক্ত ৬ শতাংশ জমি প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন খানের কাছ থেকে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে ক্রয় করেন মাসুদ খান। আলামিন খানের দাবি, জমিটি তার পৈত্রিক সম্পত্তির অংশ এবং তিনি আইনগতভাবে জমিটির মালিকানা ভোগ করে আসছিলেন।
অপরদিকে, পার্শ্ববর্তী জমির মালিক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ একই স্থানের ১৫ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, জমির সীমানা ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত সেখান থেকেই।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদার বলেন, “জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন আলামিন খান। তিনি আমার ফুফাতো ভাই মাসুদ খানের কাছে প্রায় এক বছর আগে ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। কিন্তু জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে অহেতুকভাবে আমার নাম জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের সঙ্গে আমার মাত্র দুইবার দেখা হয়েছে—একবার আদালতে এবং আরেকবার তহশিলদার অফিসে। আমি তাকে কোনো ধরনের হুমকি দেইনি। অথচ আমার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
রাহাত তালুকদার দাবি করেন, তাকে, আলামিন খান ও স্থানীয় লিটন মোল্লাকে আসামি করে একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তিনি প্রশাসন ও আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে জমির বিক্রেতা আলামিন খান বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ পাঁচ দাগের জমি এক স্থান থেকে ভোগদখলে নিতে চাচ্ছেন। আমারও ওই পাঁচ দাগে জমি রয়েছে। এর মধ্যে আমি যে ৬ শতাংশ জমি পেয়েছি সেটিই মাসুদ খানের কাছে বিক্রি করেছি। অথচ অহেতুকভাবে মাসুদ খানের ভাই রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
জানা গেছে, এ ঘটনায় এমপি মামলা নং-৫৩/২০২৬ (বন্দর) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় রাহাত তালুকদার, আলামিন খান ও লিটন মোল্লাকে আসামি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় চরকাউয়া ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার)-কে। তদন্ত শেষে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উভয় পক্ষের জমির স্বত্ব ও প্রাপ্যতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাহাত তালুকদারকে নিয়ে প্রকাশিত বক্তব্যের পর অনেকেই এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
মো. মেহেদী হাসান রিয়াদ মন্তব্য করেন, “রাহাত তালুকদার এমন কাজ করতে পারে না। এটা অবিশ্বাস্য ও বিব্রতকর। একজন মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এটি করা হয়েছে। তার দ্বারা অন্য এলাকার ক্ষতি কখনো হয়নি। এভাবে একজন মানুষকে লাঞ্ছিত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
মো. সরল আহমেদ রাসেল মন্তব্য করেন, “রাহাতকে শুধু সদর উপজেলা নয়, বরিশাল জেলার সিনিয়র-জুনিয়র সবাই চেনে। তার নামে মিথ্যা কথা বলে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।
ফয়সাল আহমেদ মৃধা মন্তব্য করেন, “আপনার বক্তব্য সঠিক নয়। আপনি পাঁচটি দাগে জমি কিনেছেন। এক দাগে কি সব জমি দখল করা যায়? এটি কি আইনের মধ্যে পড়ে?
শরীফ শরীফ মন্তব্য করেন, “ভূমি আইনের নিয়ম অনুযায়ী আপনার এ দাগের ভাগ-বণ্টনের কোনো ডকুমেন্ট আছে কি? অন্যথায় কারও ইশারায় ছোট ভাই রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, জমি সংক্রান্ত এ বিরোধ বর্তমানে আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। কোনো পক্ষকে উদ্দেশ্য করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই সকল পক্ষকে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রেখে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড়

Update Time : ০১:২৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
মোঃ সাদ্দাম হোসেন //বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি জমির মালিকানা বিরোধকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
জানা গেছে, কর্ণকাঠী মৌজার জেএল নং-৫৭ এর দাগ নং-৬৬২-এর আওতাভুক্ত ৬ শতাংশ জমি প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন খানের কাছ থেকে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে ক্রয় করেন মাসুদ খান। আলামিন খানের দাবি, জমিটি তার পৈত্রিক সম্পত্তির অংশ এবং তিনি আইনগতভাবে জমিটির মালিকানা ভোগ করে আসছিলেন।
অপরদিকে, পার্শ্ববর্তী জমির মালিক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ একই স্থানের ১৫ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, জমির সীমানা ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত সেখান থেকেই।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদার বলেন, “জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন আলামিন খান। তিনি আমার ফুফাতো ভাই মাসুদ খানের কাছে প্রায় এক বছর আগে ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। কিন্তু জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে অহেতুকভাবে আমার নাম জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের সঙ্গে আমার মাত্র দুইবার দেখা হয়েছে—একবার আদালতে এবং আরেকবার তহশিলদার অফিসে। আমি তাকে কোনো ধরনের হুমকি দেইনি। অথচ আমার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
রাহাত তালুকদার দাবি করেন, তাকে, আলামিন খান ও স্থানীয় লিটন মোল্লাকে আসামি করে একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তিনি প্রশাসন ও আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে জমির বিক্রেতা আলামিন খান বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ পাঁচ দাগের জমি এক স্থান থেকে ভোগদখলে নিতে চাচ্ছেন। আমারও ওই পাঁচ দাগে জমি রয়েছে। এর মধ্যে আমি যে ৬ শতাংশ জমি পেয়েছি সেটিই মাসুদ খানের কাছে বিক্রি করেছি। অথচ অহেতুকভাবে মাসুদ খানের ভাই রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
জানা গেছে, এ ঘটনায় এমপি মামলা নং-৫৩/২০২৬ (বন্দর) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় রাহাত তালুকদার, আলামিন খান ও লিটন মোল্লাকে আসামি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় চরকাউয়া ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার)-কে। তদন্ত শেষে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উভয় পক্ষের জমির স্বত্ব ও প্রাপ্যতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাহাত তালুকদারকে নিয়ে প্রকাশিত বক্তব্যের পর অনেকেই এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
মো. মেহেদী হাসান রিয়াদ মন্তব্য করেন, “রাহাত তালুকদার এমন কাজ করতে পারে না। এটা অবিশ্বাস্য ও বিব্রতকর। একজন মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এটি করা হয়েছে। তার দ্বারা অন্য এলাকার ক্ষতি কখনো হয়নি। এভাবে একজন মানুষকে লাঞ্ছিত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
মো. সরল আহমেদ রাসেল মন্তব্য করেন, “রাহাতকে শুধু সদর উপজেলা নয়, বরিশাল জেলার সিনিয়র-জুনিয়র সবাই চেনে। তার নামে মিথ্যা কথা বলে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।
ফয়সাল আহমেদ মৃধা মন্তব্য করেন, “আপনার বক্তব্য সঠিক নয়। আপনি পাঁচটি দাগে জমি কিনেছেন। এক দাগে কি সব জমি দখল করা যায়? এটি কি আইনের মধ্যে পড়ে?
শরীফ শরীফ মন্তব্য করেন, “ভূমি আইনের নিয়ম অনুযায়ী আপনার এ দাগের ভাগ-বণ্টনের কোনো ডকুমেন্ট আছে কি? অন্যথায় কারও ইশারায় ছোট ভাই রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, জমি সংক্রান্ত এ বিরোধ বর্তমানে আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। কোনো পক্ষকে উদ্দেশ্য করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই সকল পক্ষকে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রেখে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।