ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ কোটির মঠবাড়িয়া ফিস মার্কেট : ৬ বছর ধরে তালাবদ্ধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৪ Time View
৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ৩ তলাবিশিষ্ট আধুনিক বহুতল বিপণী বিতান মার্কেটের নির্মাণ শেষ হয়েছে ৬ বছর আগে। কিন্তু এখনো খুলে দেয়া হয়নি। ফলে সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।

 

স্থানীয়ভাবে মার্কেটটি ফিস মার্কেট নামে পরিচিত। স্থানীয়রা জানান, এটি খুলে না দেয়ার ফলে মাছ ও ফল ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে সড়কে দোকানপাট বসায়। ফলে ঢাকা-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা হাইওয়ে সড়কে প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী এবং রোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, মার্কেটটির মধ্যে ৮৬টি দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। খোলার বিষয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বারবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি রাজনৈতিক চাপের কথা বললেও স্পষ্ট করে কিছু জানাতে চাননি। এবারো মার্কেট খোলার বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কোন অগ্রগতি নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, নির্দিষ্ট স্থানে বসতে না পারায় প্রতিদিন মালামালের প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে। মালামালের নিরাপত্তা থাকছে না। প্রায়ই মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযানে নানাবিধ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

 

মঠবাড়িয়া বণিক সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, মার্কেটটির নির্মাণ কাজ ৭-৮ বছর আগে শেষ হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখনো খুলে দেওয়া হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি স্টল একাধিক ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়ার কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে এখন নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক নেতা টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে আগের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে মার্কেটের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা বেড়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, মার্কেটটি নির্মাণ হবার পর খুলে দেওয়ার দাবিতে স্থানীয় মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন ও করেছিল। পরে পৌরসভার কর্মকর্তারা মার্কেটটি খোলার জন্য একাধিকবার পরিদর্শন করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আজও খুলে দেয়নি। তাদের দাবি প্রাপ্যদের দোকান বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মার্কেট খুলে দেওয়া হোক।

 

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আকলিমা আক্তার জানান, মার্কেটটি উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি পরিচালনা কমিটিও করা হয়েছে। ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান। আশা করি খুব শিগগিরই মার্কেটটি খুলবে। একই সাথে ফুটপাত ও সড়ক দখল মুক্ত করা হবে এবং যানজট নিরসনসহ মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে। আশা করি, ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাদের মার্কেটে বসতে পারবে।

 

পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ জানান, মঠবাড়িয়ার ফিস মার্কেটটি খোলার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং একটি কমিটি করা হয়েছে যারা দ্রুত সময়ের মধ্যে মার্কেটটি খোলার ব্যবস্থা করবেন। তার পরেও আমি খোঁজখবর রাখছি এবং মার্কেটটি দ্রুত সময়ের মধ্যে খোলার ব্যবস্থা করছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাসহ ২৫ জনের ৩৩টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

৯ কোটির মঠবাড়িয়া ফিস মার্কেট : ৬ বছর ধরে তালাবদ্ধ

Update Time : ০৩:৩১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ৩ তলাবিশিষ্ট আধুনিক বহুতল বিপণী বিতান মার্কেটের নির্মাণ শেষ হয়েছে ৬ বছর আগে। কিন্তু এখনো খুলে দেয়া হয়নি। ফলে সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।

 

স্থানীয়ভাবে মার্কেটটি ফিস মার্কেট নামে পরিচিত। স্থানীয়রা জানান, এটি খুলে না দেয়ার ফলে মাছ ও ফল ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে সড়কে দোকানপাট বসায়। ফলে ঢাকা-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা হাইওয়ে সড়কে প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী এবং রোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, মার্কেটটির মধ্যে ৮৬টি দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। খোলার বিষয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বারবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি রাজনৈতিক চাপের কথা বললেও স্পষ্ট করে কিছু জানাতে চাননি। এবারো মার্কেট খোলার বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কোন অগ্রগতি নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, নির্দিষ্ট স্থানে বসতে না পারায় প্রতিদিন মালামালের প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে। মালামালের নিরাপত্তা থাকছে না। প্রায়ই মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযানে নানাবিধ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

 

মঠবাড়িয়া বণিক সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, মার্কেটটির নির্মাণ কাজ ৭-৮ বছর আগে শেষ হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখনো খুলে দেওয়া হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি স্টল একাধিক ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়ার কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে এখন নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক নেতা টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে আগের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে মার্কেটের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা বেড়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, মার্কেটটি নির্মাণ হবার পর খুলে দেওয়ার দাবিতে স্থানীয় মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন ও করেছিল। পরে পৌরসভার কর্মকর্তারা মার্কেটটি খোলার জন্য একাধিকবার পরিদর্শন করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আজও খুলে দেয়নি। তাদের দাবি প্রাপ্যদের দোকান বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মার্কেট খুলে দেওয়া হোক।

 

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আকলিমা আক্তার জানান, মার্কেটটি উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি পরিচালনা কমিটিও করা হয়েছে। ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান। আশা করি খুব শিগগিরই মার্কেটটি খুলবে। একই সাথে ফুটপাত ও সড়ক দখল মুক্ত করা হবে এবং যানজট নিরসনসহ মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে। আশা করি, ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাদের মার্কেটে বসতে পারবে।

 

পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ জানান, মঠবাড়িয়ার ফিস মার্কেটটি খোলার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং একটি কমিটি করা হয়েছে যারা দ্রুত সময়ের মধ্যে মার্কেটটি খোলার ব্যবস্থা করবেন। তার পরেও আমি খোঁজখবর রাখছি এবং মার্কেটটি দ্রুত সময়ের মধ্যে খোলার ব্যবস্থা করছি।