ঢাকা ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিজলায় পল্লী বিদ্যুতের লুকোচুরি: অতিষ্ঠ গ্রাহক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৪ Time View
৭০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গ্রাহক হয়রানি এখন চরমে পৌঁছেছে। ‘জরুরি বিদ্যুৎ সেবা’র নামে উপজেলায় চলছে এক প্রকার ‘নাটক’, যার বলি হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও প্রতিকার পাওয়া তো দূরের কথা, সঠিক তথ্যটুকুও পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগের নেপথ্যে স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, হিজলা উপজেলার সাব-স্টেশন ও বিদ্যুৎ অফিস গ্রাহকদের সেবার বদলে বিভিন্ন ‘তালবাহানা’ করে সময় পার করছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে অফিস থেকে অসংলগ্ন তথ্য দেওয়া হয়। কখনো বলা হয় ‘বরিশাল সদর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে’, আবার কখনো যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাত দেওয়া হয়। গ্রাহকদের দাবি, যখন যাকে যা খুশি বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই এখন হিজলা বিদ্যুৎ অফিসের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নামেই জরুরি সেবা, ফোন ধরেন না কেউ সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে জরুরি সেবা প্রদানের জন্য উন্মুক্ত রাখা কন্টাক্ট নম্বরটি নিয়ে। পাবলিকের হাতে থাকা নম্বরটিতে (০১৭৬৯৪০০৮৫৯) বারবার কল দিলেও দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তা রিসিভ করেন না। কর্মকর্তাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে ফোন রিসিভ হওয়া বা না হওয়া। এতে করে বিপদে পড়া গ্রাহকরা কোনো অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারছেন না।

গ্রাহকদের ভোগান্তি দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ফ্রিজে থাকা পচনশীল দ্রব্য নষ্ট হওয়া, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। হিজলার এক ভুক্তভোগী গ্রাহক জানান, “বিদ্যুৎ গেলে আর আসার নাম থাকে না। অফিসে ফোন দিলে কেউ ধরে না, আর ধরলেও সদর দপ্তরের ওপর দোষ চাপিয়ে তারা দায়মুক্ত হতে চায়।”

কর্তৃপক্ষের নিরবতা এই অব্যবস্থাপনা এবং কল রিসিভ না করার বিষয়ে হিজলা বিদ্যুৎ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সদুত্তর মেলেনি।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এই চরম হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজারের (জিএম) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।,

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি, ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস

হিজলায় পল্লী বিদ্যুতের লুকোচুরি: অতিষ্ঠ গ্রাহক

Update Time : ১২:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
৭০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গ্রাহক হয়রানি এখন চরমে পৌঁছেছে। ‘জরুরি বিদ্যুৎ সেবা’র নামে উপজেলায় চলছে এক প্রকার ‘নাটক’, যার বলি হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও প্রতিকার পাওয়া তো দূরের কথা, সঠিক তথ্যটুকুও পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগের নেপথ্যে স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, হিজলা উপজেলার সাব-স্টেশন ও বিদ্যুৎ অফিস গ্রাহকদের সেবার বদলে বিভিন্ন ‘তালবাহানা’ করে সময় পার করছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে অফিস থেকে অসংলগ্ন তথ্য দেওয়া হয়। কখনো বলা হয় ‘বরিশাল সদর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে’, আবার কখনো যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাত দেওয়া হয়। গ্রাহকদের দাবি, যখন যাকে যা খুশি বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই এখন হিজলা বিদ্যুৎ অফিসের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নামেই জরুরি সেবা, ফোন ধরেন না কেউ সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে জরুরি সেবা প্রদানের জন্য উন্মুক্ত রাখা কন্টাক্ট নম্বরটি নিয়ে। পাবলিকের হাতে থাকা নম্বরটিতে (০১৭৬৯৪০০৮৫৯) বারবার কল দিলেও দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তা রিসিভ করেন না। কর্মকর্তাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে ফোন রিসিভ হওয়া বা না হওয়া। এতে করে বিপদে পড়া গ্রাহকরা কোনো অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারছেন না।

গ্রাহকদের ভোগান্তি দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ফ্রিজে থাকা পচনশীল দ্রব্য নষ্ট হওয়া, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। হিজলার এক ভুক্তভোগী গ্রাহক জানান, “বিদ্যুৎ গেলে আর আসার নাম থাকে না। অফিসে ফোন দিলে কেউ ধরে না, আর ধরলেও সদর দপ্তরের ওপর দোষ চাপিয়ে তারা দায়মুক্ত হতে চায়।”

কর্তৃপক্ষের নিরবতা এই অব্যবস্থাপনা এবং কল রিসিভ না করার বিষয়ে হিজলা বিদ্যুৎ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সদুত্তর মেলেনি।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এই চরম হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজারের (জিএম) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।,