
নিজস্ব প্রতিবেদক : কলারোয়ায় মহামারী আকার ধারণ করেছে গরুর ক্ষুরারোগ। গত কিছুদিন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকার খামারীরা। কলারোয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, একটি পৌরসভা ও ১২ টি ইউনিয়নে গরু আছে ৭৫ হাজার ৮৩০ টি, ছাগল আছে ৬০ হাজার ৬৯২ টি ও ভেড়া আছে ৫০৪ টি।
এ বছর সরকারীভাবে ১ হাজার ৮৪০ টি গরুর ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। উপজেলার হেলাতলা ইউপির কোটাবাড়ী গ্রামের আফজাল হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গরু পালন করে আসছেন এমন মহামারি তার গ্রামে কখনও দেখেননি। আমার নিজের গরুটি আক্রান্ত হয়েছে। কলারোয়ার অফিসে এসেছিলাম একটি প্রেসক্রিপশান লিখে দিয়েই দায় সেরেছেন ডাক্তার।
আমার আশে পাশের গ্রামে যে পরিমাণ গরু মারা যাচ্ছে আমার গরুটি বাঁচবে কিনা জানিনা। তিনি বলেন, কোটাবাড়ী গ্রামের শহিদুল ইসলামের প্রায় ৩ লক্ষ টাকা দামের দুটি গরু, নূর ইসলামের ২ লক্ষ টাকা দামের একটি গরু, মাজিদা খাতুনের একটি গরু, জহরপুরের আমির হোসেনের ২ টি গরু ও রবিউল ইসলামের একটি বড় গরু মারা গেছে। ক্ষুরা রোগে এলাকায় বাছুর গরু নেই বললেও ভুল হবে না। দামোদরকাঠি গ্রামের তরিকুল ইসলাম বলেন, তার গ্রামের বিজিবি সদস্য আ: রশিদের প্রায় ৩ লক্ষ টাকা দামের বাছুরসহগাভী গরু মারা গেছে।
হেলাতলা গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, বেতনা খালে এত পরিমাণ মরা গরু ফেলানো হয়েছে পানি দূষিত হয়ে পরিবেশের ক্ষতির লক্ষণ দেখা দিয়েছে। সোনাবাড়ীয়া ইউপির ভাদিয়ালী গ্রামের মফিজুল ইসলাম বলেন, কষ্ট করে ১টি গরু কিনেছিলাম। ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হওয়ার পর গ্রাম্য চিকিৎসক দেখিয়ে অনেক টাকা খরচ করলাম কিন্তু এখনও সুস্থ করতে পারলাম না। আমরা এ রোগের ভ্যাকসিন কখনো পাইনি। ভ্যাকসিনের জন্য অফিসে গেলে ডাক্তার বলেন ভ্যাকসিন নাই। যুগিখালী ইউপির ওফাপুর গ্রামের মহিউদ্দিন জানান, কিছুদিন আগে ২ লক্ষ টাকা দামের ১ টি গরু মারা যাওয়ার পরেই খামারের ১০ টি গরুর ৭ টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে গরুগুলো কম দামে বিক্রি করে দিয়েছেন।
সেখানে তিনি কয়েক লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে জানান। জাফরপুর গ্রামের গোলাম রসূল বলেন, গ্রাম্য চিকিৎসকের চেষ্টায় গাভীকে বাঁচাতে পারলেও বাছুর বাঁচাতে পারেনি।। আলাইপুর গ্রামের বড় খামারী হুমায়ন কবির জানান, তার খামারে স্থানীয় চিকিৎসকদের দিয়ে ভ্যাকসিন করানোর পরেও অধিকাংশ গরুর ক্ষুরা রোগ দেখা দিয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শুনেছি সরকারীভাবে গরুর খামারীদের অনেক সুযোগ সুবিধা ও ফ্রি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় কিন্তু আমার খামারে অনেক গরু এবং বিদেশী দুম্বা পালন করি কিন্তু প্রাণী সম্পদ অফিসের কেউ কোন দিন ফিরেও দেখতে আসেনি।
১ টি গরু মারা যাওয়ার পরের দিন লোকসানে সকল গরু তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। পৌরসভার মুরারীকাঠি গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমার ২ টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে কোন ঔষধ না পেয়ে গ্রাম্য চিকিৎসক দেখিয়ে ২ হাজার টাকা খরচ করার পর কিছুটা উপকার দেখতে পাচ্ছেন। লাঙ্গলঝাড়া গ্রামের আজিবর রহমান বলেন, বড় গাভীটি ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে গেছি। চারিদিকে যে ভাবে গরু মারা যাচ্ছে এখন কি যে করি? বলে হতাশা প্রকাশ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার প্রায় খামার ও কৃষকের বাড়ির গরুর এই রোগ দেখা দিয়েছে। ধীরে ধীরে এই রোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে উপজেলার কুঠাবাড়ী, জাফরপুর, হেলাতলা. মির্জাপুর ও আলাইপুর ক্ষুরা রোগের হট স্পট হিসেবে গ্রাম্য চিকিৎসকরা বলেছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: কে,এম আবদুাল্লাহ-আল-মামুন ইকিলাবকে বলেন, এটি ভাইরাসজনিত রোগ।
এই রোগে গরু আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার বিষয় স্বীকার করে বলেন, কিছু গরু মারা গেছে। ভ্যাকসিন না থাকা এবং জনবল সংকটের কারনে উপজেলা ব্যাপী সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ভারী বৃষ্টি হলে আক্রান্তের হার কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন। সাতক্ষীরা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: এফ,এম মান্নান কবীরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে বারবার ফোন কেটে দেওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
Reporter Name 



















