ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি বাসভবনের ভাড়া না দিয়ে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৮ Time View
১০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের কাউখালীতে সরকারি বাসভবনে বসবাস করেও সরকারি কর্মচারীরা যুগ যুগ ধরে ভাড়ার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে।

 

সরেজমিনে অনুসন্ধান করলে জানা যায়, ১৯৮৩-৮৪ সনে তৎকালীন জাতীয় পার্টির এরশাদ সরকার আমলে উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য আবাসিক ভবন তৈরি করা হয় এবং ১৯৮৫ সন থেকে এই বাসভবন গুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস শুরু করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বাসভবনে বসবাস করলে তাদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়ার অংশ কেটে নিয়ে যাওয়ার কথা। অথচ এখানে শুভংকরের ফাঁকি হলো সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করেও অনেক কর্মচারীরা সরকারি বাসায় থাকলেও  কাগজে প্রমান নেই। যারফলে তাদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া কর্তন না করতে পারায় সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। এছাড়া কেউ কেউ আবার বড় পদে চাকুরী করে ছোট কর্মচারীদের নামে সরকারি বাসার বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করছে। এই পদ্ধতিতেও সরকার  লক্ষ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

 

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যুগ যুগ ধরে সরকারি  কোয়াটারে অবৈধভাবে বসবাস করেও সরকারি খাতে কোন রাজস্ব জমা না দিয়েই অনেকে চাকুরী থেকে অবসরে গেছেন। আবার কেউ কেউ বকেয়া টাকা না দিয়ে মারা যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। আবার অনেকে বাসা ভাড়ার হাজার হাজার টাকা বকেয়া রেখে অন্যত্র বদলী হয়ে চলে গেলেও বকেয়া বাসা ভাড়ার টাকা দেয়ার কোন নাম নেই। এভাবে সরকারি কোয়ার্টার ও ডরমেটরীতে ভাড়া না দিয়ে চলে যাওয়াদের মধ্যে যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর স্মৃতি কনা।

 

তিনি ১৯৯৯ সন থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত কোয়ার্টারে বসবাস করলেও বাসাভাড়া বাবদ প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার অধিক বকেয়া থাকার অভিযোগ রয়েছে।

 

স্মৃতি কনা  জানান, তথ্য সঠিক নয় তিনি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেছেন। বাকি টাকাও পরিশোধ করে দেবে। অপরদিকে উপাধ্যক্ষ সঞ্জিত কুমার সাহা, প্রয়াত শিক্ষক আব্দুল জলিল, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ. মোঃ হুমায়ুন কবির, মাঠ কর্মী হোসনেয়ারা, প্রভাষক জাকির হোসেন, তহসিলদার নজরুল ইসলাম সহ আরো অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছে বাসা ভাড়া বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা বাকী থাকলেও এই টাকা পরিশোধের কোন উদ্যোগ নেই।

 

উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীকে বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি প্রদান করলে নামেমাত্র কয়েকজন কর্মচারী সামান্য কিছু টাকা পরিশোধ করেছেন বলে জানাগেছে। উপজেলার ডরমেটরি ভবনে বসবাসরত কর্মকর্তা কর্মচারীরাও টাকা না দিয়ে অনেকেই অন্যত্র বদলী হয়েছেন আবার অনেকে বর্তমানে বসবাস করলেও অধিকাংশ কর্মচারীরা বাসা ভাড়া পরিশোধ করছেন না বলে জানা যায়।

 

এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, আমি যোগদানের পরে বাসা ভাড়ার বকেয়া বিষয়ে জানতে পারার পর টাকা পরিশোধের জন্য চিঠি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের বকেয়ার বিষয়ে জানা ছিলনা। আপনাদের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি শুনলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করে বকেয়া ভাড়া আদায় করে রাজস্ব খাতে জমার ব্যবস্থা করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

সরকারি বাসভবনের ভাড়া না দিয়ে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

Update Time : ০১:৫১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের কাউখালীতে সরকারি বাসভবনে বসবাস করেও সরকারি কর্মচারীরা যুগ যুগ ধরে ভাড়ার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে।

 

সরেজমিনে অনুসন্ধান করলে জানা যায়, ১৯৮৩-৮৪ সনে তৎকালীন জাতীয় পার্টির এরশাদ সরকার আমলে উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য আবাসিক ভবন তৈরি করা হয় এবং ১৯৮৫ সন থেকে এই বাসভবন গুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস শুরু করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বাসভবনে বসবাস করলে তাদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়ার অংশ কেটে নিয়ে যাওয়ার কথা। অথচ এখানে শুভংকরের ফাঁকি হলো সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করেও অনেক কর্মচারীরা সরকারি বাসায় থাকলেও  কাগজে প্রমান নেই। যারফলে তাদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া কর্তন না করতে পারায় সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। এছাড়া কেউ কেউ আবার বড় পদে চাকুরী করে ছোট কর্মচারীদের নামে সরকারি বাসার বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করছে। এই পদ্ধতিতেও সরকার  লক্ষ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

 

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যুগ যুগ ধরে সরকারি  কোয়াটারে অবৈধভাবে বসবাস করেও সরকারি খাতে কোন রাজস্ব জমা না দিয়েই অনেকে চাকুরী থেকে অবসরে গেছেন। আবার কেউ কেউ বকেয়া টাকা না দিয়ে মারা যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। আবার অনেকে বাসা ভাড়ার হাজার হাজার টাকা বকেয়া রেখে অন্যত্র বদলী হয়ে চলে গেলেও বকেয়া বাসা ভাড়ার টাকা দেয়ার কোন নাম নেই। এভাবে সরকারি কোয়ার্টার ও ডরমেটরীতে ভাড়া না দিয়ে চলে যাওয়াদের মধ্যে যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর স্মৃতি কনা।

 

তিনি ১৯৯৯ সন থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত কোয়ার্টারে বসবাস করলেও বাসাভাড়া বাবদ প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার অধিক বকেয়া থাকার অভিযোগ রয়েছে।

 

স্মৃতি কনা  জানান, তথ্য সঠিক নয় তিনি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেছেন। বাকি টাকাও পরিশোধ করে দেবে। অপরদিকে উপাধ্যক্ষ সঞ্জিত কুমার সাহা, প্রয়াত শিক্ষক আব্দুল জলিল, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ. মোঃ হুমায়ুন কবির, মাঠ কর্মী হোসনেয়ারা, প্রভাষক জাকির হোসেন, তহসিলদার নজরুল ইসলাম সহ আরো অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছে বাসা ভাড়া বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা বাকী থাকলেও এই টাকা পরিশোধের কোন উদ্যোগ নেই।

 

উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীকে বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি প্রদান করলে নামেমাত্র কয়েকজন কর্মচারী সামান্য কিছু টাকা পরিশোধ করেছেন বলে জানাগেছে। উপজেলার ডরমেটরি ভবনে বসবাসরত কর্মকর্তা কর্মচারীরাও টাকা না দিয়ে অনেকেই অন্যত্র বদলী হয়েছেন আবার অনেকে বর্তমানে বসবাস করলেও অধিকাংশ কর্মচারীরা বাসা ভাড়া পরিশোধ করছেন না বলে জানা যায়।

 

এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, আমি যোগদানের পরে বাসা ভাড়ার বকেয়া বিষয়ে জানতে পারার পর টাকা পরিশোধের জন্য চিঠি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের বকেয়ার বিষয়ে জানা ছিলনা। আপনাদের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি শুনলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করে বকেয়া ভাড়া আদায় করে রাজস্ব খাতে জমার ব্যবস্থা করা হবে।