ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে যাচ্ছিলেন লারা, জীবন বাঁচালেন অক্ষয়!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩০:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৯ Time View
৮৯

বিনোদন ডেস্ক : দিঘার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় যখন শুটিং সেটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই সামনে এসেছে বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্তের জীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি—আর সেই মুহূর্তে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাকে বাঁচিয়েছিলেন অক্ষয় কুমার।

 

২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুপারহিট ছবি ‘আন্দাজ’-এর শুটিং চলছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্র উপকূলে। ছবির একটি রোমান্টিক গানের দৃশ্য ধারণের জন্য লারা দত্ত ও অক্ষয় কুমারকে দাঁড়াতে হয়েছিল সমুদ্রের মাঝখানে একটি পাথরের ওপর। চারপাশে উত্তাল ঢেউ, নিচে গভীর পানি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।

 

সে সময় লারা দত্ত সাঁতার জানতেন না। তবুও দৃশ্যের প্রয়োজনে তাকে ওই অবস্থানে দাঁড়াতে হয়েছিল। হঠাৎ করেই একটি বিশাল সামুদ্রিক ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে তাদের ওপর। অপ্রস্তুত অবস্থায় ঢেউয়ের তোড়ে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান লারা।

 

ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়ে তার পরনের ভারী চামড়ার পোশাকের কারণে। পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পোশাকটি ভারী হয়ে যায় এবং তাকে দ্রুত নিচের দিকে টেনে নিতে থাকে। লারা নিজেই পরে জানিয়েছেন, তিনি তখন বুঝতে পারছিলেন—তিনি তলিয়ে যাচ্ছেন এবং নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।

 

ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে এক মুহূর্ত দেরি না করে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন অক্ষয় কুমার। প্রবল ঢেউ আর ঝুঁকির মাঝেই দ্রুত সাঁতরে গিয়ে তিনি লারার কাছে পৌঁছান। ডুবে যাওয়ার আগেই তাকে শক্তভাবে ধরে ফেলেন এবং ধীরে ধীরে টেনে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসেন।

 

পরে শুটিং সেটের অন্যান্য কর্মীরাও এগিয়ে এসে লারাকে তীরে তুলে আনেন। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান তিনি। এই ঘটনায় অক্ষয় কুমারের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধি লারার জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

তবে সেই ঘটনার মানসিক প্রভাব ছিল দীর্ঘস্থায়ী। এরপর থেকেই গভীর পানি ও সমুদ্র নিয়ে লারার মনে তীব্র ভয় তৈরি হয়। এমনকি পরবর্তী সময়ে ‘ব্লু’ ছবিতে কাজ করার সময়—যার বেশিরভাগ দৃশ্যই পানির নিচে ধারণ করা হয়েছিল—তিনি প্রচণ্ড আতঙ্কে ছিলেন।

 

তবে ভয়কে জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যান লারা। অক্ষয় কুমারের উৎসাহ ও পরামর্শে তিনি পরে সাঁতার শেখেন। ধীরে ধীরে নিজের সেই ভয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন এবং আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান আত্মবিশ্বাস নিয়ে।

 

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দিঘার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে লারার এই অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দেয়—শুটিং সেটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। সামান্য অসতর্কতা কিংবা প্রস্তুতির অভাব যে কত বড় বিপদের কারণ হতে পারে, এই ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে যাচ্ছিলেন লারা, জীবন বাঁচালেন অক্ষয়!

Update Time : ০৬:৩০:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
৮৯

বিনোদন ডেস্ক : দিঘার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় যখন শুটিং সেটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই সামনে এসেছে বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্তের জীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি—আর সেই মুহূর্তে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাকে বাঁচিয়েছিলেন অক্ষয় কুমার।

 

২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুপারহিট ছবি ‘আন্দাজ’-এর শুটিং চলছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্র উপকূলে। ছবির একটি রোমান্টিক গানের দৃশ্য ধারণের জন্য লারা দত্ত ও অক্ষয় কুমারকে দাঁড়াতে হয়েছিল সমুদ্রের মাঝখানে একটি পাথরের ওপর। চারপাশে উত্তাল ঢেউ, নিচে গভীর পানি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।

 

সে সময় লারা দত্ত সাঁতার জানতেন না। তবুও দৃশ্যের প্রয়োজনে তাকে ওই অবস্থানে দাঁড়াতে হয়েছিল। হঠাৎ করেই একটি বিশাল সামুদ্রিক ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে তাদের ওপর। অপ্রস্তুত অবস্থায় ঢেউয়ের তোড়ে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান লারা।

 

ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়ে তার পরনের ভারী চামড়ার পোশাকের কারণে। পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পোশাকটি ভারী হয়ে যায় এবং তাকে দ্রুত নিচের দিকে টেনে নিতে থাকে। লারা নিজেই পরে জানিয়েছেন, তিনি তখন বুঝতে পারছিলেন—তিনি তলিয়ে যাচ্ছেন এবং নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।

 

ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে এক মুহূর্ত দেরি না করে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন অক্ষয় কুমার। প্রবল ঢেউ আর ঝুঁকির মাঝেই দ্রুত সাঁতরে গিয়ে তিনি লারার কাছে পৌঁছান। ডুবে যাওয়ার আগেই তাকে শক্তভাবে ধরে ফেলেন এবং ধীরে ধীরে টেনে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসেন।

 

পরে শুটিং সেটের অন্যান্য কর্মীরাও এগিয়ে এসে লারাকে তীরে তুলে আনেন। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান তিনি। এই ঘটনায় অক্ষয় কুমারের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধি লারার জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

তবে সেই ঘটনার মানসিক প্রভাব ছিল দীর্ঘস্থায়ী। এরপর থেকেই গভীর পানি ও সমুদ্র নিয়ে লারার মনে তীব্র ভয় তৈরি হয়। এমনকি পরবর্তী সময়ে ‘ব্লু’ ছবিতে কাজ করার সময়—যার বেশিরভাগ দৃশ্যই পানির নিচে ধারণ করা হয়েছিল—তিনি প্রচণ্ড আতঙ্কে ছিলেন।

 

তবে ভয়কে জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যান লারা। অক্ষয় কুমারের উৎসাহ ও পরামর্শে তিনি পরে সাঁতার শেখেন। ধীরে ধীরে নিজের সেই ভয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন এবং আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান আত্মবিশ্বাস নিয়ে।

 

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দিঘার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে লারার এই অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দেয়—শুটিং সেটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। সামান্য অসতর্কতা কিংবা প্রস্তুতির অভাব যে কত বড় বিপদের কারণ হতে পারে, এই ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ।