ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লঞ্চ দুর্ঘটনা : ‘দায়সারা’ পদক্ষেপের আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ৫২ Time View
৮১

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষে আবারও ঝরল তাজা প্রাণ। বুধবার বিকেলে ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে ‘আসা যাওয়া-৫’ এবং ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চের মধ্যে হৃদয়বিদারক এই সংঘর্ষের ঘটনায় মো. সোহেল (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় একই পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন হতাহত ও নিখোঁজ রয়েছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিওতে দেখা গেছে, পন্টুনে নোঙর করা লঞ্চে যাত্রী তোলার সময় অন্য একটি লঞ্চের বেপরোয়া ধাক্কায় পিষ্ট হন যাত্রীরা। মুহূর্তেই ঈদের আনন্দ পরিণত হয় আর্তনাদে।

 

বিশেষ করে ঈদের আনন্দ যখন বিষাদে রূপ নেয়, তখন শোকের গভীরতা পরিমাপ করা কঠিন। সোহেলের পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি এবং নিখোঁজ স্বজনের উৎকণ্ঠা সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

 

সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সদরঘাটের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেবল একটি ‘দুর্ঘটনা’ নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি তদারকির চরম ব্যর্থতার এক নির্মম বহিঃপ্রকাশ। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদাসীনতাই এই মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘায়িত করছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কঠোর নজরদারি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সদরঘাটে অসংখ্য ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল করে।

 

অভিযোগ রয়েছে যে, অর্থের বিনিময়ে অনেক সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে এসব লঞ্চকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া, লঞ্চের মাস্টার ও সুকানিদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারের চরম শিথিলতা রয়েছে, যার ফলে ‘বেপরোয়া গতিতে’ লঞ্চ চালানোর মতো দুঃসাহস দেখায় তারা।

 

জানা যায়, সদরঘাটের মতো ব্যস্ততম টার্মিনালে লঞ্চ ভেড়ানো বা যাত্রী তোলার কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নেই। পন্টুনগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লঞ্চ রাখা এবং গাদাগাদি করে যাত্রী তোলার দৃশ্য নিত্যনৈমিত্তিক।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের আগে সদরঘাটে যাত্রীদের চাপ বাড়বে—এটা একটি চিরচেনা বাস্তবতা। কিন্তু এই বাড়তি চাপ সামলানোর জন্য যে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় বা ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম থাকার কথা, তা কেবল কাগজের কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। পর্যাপ্ত সিসিটিভি মনিটরিং এবং পন্টুনে দক্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে কতটা তুচ্ছ মনে করে।

 

নিহত সোহেল বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের সন্তান। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে ঈদ করতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সোহেল ফিরেছেন লাশ হয়ে। এই ঘটনায় তাঁর শ্বশুর মিরাজ ফকির এখনো নিখোঁজ এবং শাশুড়ি রুবা ফকির গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। উপার্জক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে এখন দিশেহারা সোহেলের পরিবার।

 

লঞ্চ দুর্ঘটনার যে ভিডিওচিত্র অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে তা অত্যন্ত লোমহর্ষক এবং বিচলিত করার মতো। একটি উৎসবের আমেজ কীভাবে মুহূর্তের অসতর্কতায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে পারে, এই দৃশ্য তারই এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি হিসেবে বর্ণনা করছেন নেটিজেনরা।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের পেছনের একটি সুচাল কোণ সজোরে আঘাত করে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চের একপাশে। দুই লঞ্চের লোহার কাঠামোর মাঝখানে মুহূর্তের মধ্যে পিষ্ট হয়ে যান কয়েকজন যাত্রী। সবচেয়ে বিভৎস দৃশ্যটি ছিল তখন, যখন লঞ্চের প্রচণ্ড চাপে মানুষের শরীর পেষণ হতে দেখা যায়। লোহার ঘর্ষণে মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় লঞ্চের ডেক। প্রচণ্ড আঘাতে একজন যাত্রী ছিটকে উত্তাল বুড়িগঙ্গার কালো পানিতে তলিয়ে যান, যাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্যজন নিথর হয়ে ঝুলে থাকেন লঞ্চের রেলিং বা বাইরের অংশে।

 

চারপাশে তখন কেবল মানুষের গগনবিদারী চিৎকার। যারা বেঁচে গেছেন, তাদের চোখেমুখে ছিল চরম আতঙ্ক। মুহূর্তের মধ্যেই সেই লঞ্চটি একটি ভাসমান বধ্যভূমিতে পরিণত হয়।এমনকি যারা ভিডিওতে বীভৎস এই দৃশ্য দেখেছেন তারাও মানসিকভাবে চরম আঘাত পেয়েছেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শোকাহত নেটাগরিকরা।

 

এদিকে, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে এবং দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এই দুর্ঘটনার খবর এবং ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি আর রুট পারমিট বাতিল কি কেবলই ‘আইওয়াশ’?

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “প্রতি বছর ঈদের আগে সদরঘাটে এমন রক্ত ঝরবে আর প্রশাসন শুধু কমিটি গঠন করবে, এটাই কি নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে?” অন্য এক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে চালকের অবহেলা। শুধু রুট পারমিট বাতিল নয়, এদের দৃষ্টান্তমূলক জেল হওয়া উচিত। কেন বারবার সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা হবে?”

 

অধিকাংশ নেটিজেনের দাবি, লঞ্চ চালকদের অদক্ষতা এবং পন্টুনে বিশৃঙ্খলভাবে লঞ্চ ভেড়ানোর এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে সদরঘাট কখনো নিরাপদ হবে না। দায়সারা তদন্তের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

লঞ্চ দুর্ঘটনা : ‘দায়সারা’ পদক্ষেপের আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা

Update Time : ০৪:১২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
৮১

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষে আবারও ঝরল তাজা প্রাণ। বুধবার বিকেলে ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে ‘আসা যাওয়া-৫’ এবং ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চের মধ্যে হৃদয়বিদারক এই সংঘর্ষের ঘটনায় মো. সোহেল (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় একই পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন হতাহত ও নিখোঁজ রয়েছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিওতে দেখা গেছে, পন্টুনে নোঙর করা লঞ্চে যাত্রী তোলার সময় অন্য একটি লঞ্চের বেপরোয়া ধাক্কায় পিষ্ট হন যাত্রীরা। মুহূর্তেই ঈদের আনন্দ পরিণত হয় আর্তনাদে।

 

বিশেষ করে ঈদের আনন্দ যখন বিষাদে রূপ নেয়, তখন শোকের গভীরতা পরিমাপ করা কঠিন। সোহেলের পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি এবং নিখোঁজ স্বজনের উৎকণ্ঠা সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

 

সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সদরঘাটের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেবল একটি ‘দুর্ঘটনা’ নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি তদারকির চরম ব্যর্থতার এক নির্মম বহিঃপ্রকাশ। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদাসীনতাই এই মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘায়িত করছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কঠোর নজরদারি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সদরঘাটে অসংখ্য ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল করে।

 

অভিযোগ রয়েছে যে, অর্থের বিনিময়ে অনেক সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে এসব লঞ্চকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া, লঞ্চের মাস্টার ও সুকানিদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারের চরম শিথিলতা রয়েছে, যার ফলে ‘বেপরোয়া গতিতে’ লঞ্চ চালানোর মতো দুঃসাহস দেখায় তারা।

 

জানা যায়, সদরঘাটের মতো ব্যস্ততম টার্মিনালে লঞ্চ ভেড়ানো বা যাত্রী তোলার কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নেই। পন্টুনগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লঞ্চ রাখা এবং গাদাগাদি করে যাত্রী তোলার দৃশ্য নিত্যনৈমিত্তিক।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের আগে সদরঘাটে যাত্রীদের চাপ বাড়বে—এটা একটি চিরচেনা বাস্তবতা। কিন্তু এই বাড়তি চাপ সামলানোর জন্য যে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় বা ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম থাকার কথা, তা কেবল কাগজের কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। পর্যাপ্ত সিসিটিভি মনিটরিং এবং পন্টুনে দক্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে কতটা তুচ্ছ মনে করে।

 

নিহত সোহেল বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের সন্তান। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে ঈদ করতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সোহেল ফিরেছেন লাশ হয়ে। এই ঘটনায় তাঁর শ্বশুর মিরাজ ফকির এখনো নিখোঁজ এবং শাশুড়ি রুবা ফকির গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। উপার্জক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে এখন দিশেহারা সোহেলের পরিবার।

 

লঞ্চ দুর্ঘটনার যে ভিডিওচিত্র অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে তা অত্যন্ত লোমহর্ষক এবং বিচলিত করার মতো। একটি উৎসবের আমেজ কীভাবে মুহূর্তের অসতর্কতায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে পারে, এই দৃশ্য তারই এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি হিসেবে বর্ণনা করছেন নেটিজেনরা।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের পেছনের একটি সুচাল কোণ সজোরে আঘাত করে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চের একপাশে। দুই লঞ্চের লোহার কাঠামোর মাঝখানে মুহূর্তের মধ্যে পিষ্ট হয়ে যান কয়েকজন যাত্রী। সবচেয়ে বিভৎস দৃশ্যটি ছিল তখন, যখন লঞ্চের প্রচণ্ড চাপে মানুষের শরীর পেষণ হতে দেখা যায়। লোহার ঘর্ষণে মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় লঞ্চের ডেক। প্রচণ্ড আঘাতে একজন যাত্রী ছিটকে উত্তাল বুড়িগঙ্গার কালো পানিতে তলিয়ে যান, যাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্যজন নিথর হয়ে ঝুলে থাকেন লঞ্চের রেলিং বা বাইরের অংশে।

 

চারপাশে তখন কেবল মানুষের গগনবিদারী চিৎকার। যারা বেঁচে গেছেন, তাদের চোখেমুখে ছিল চরম আতঙ্ক। মুহূর্তের মধ্যেই সেই লঞ্চটি একটি ভাসমান বধ্যভূমিতে পরিণত হয়।এমনকি যারা ভিডিওতে বীভৎস এই দৃশ্য দেখেছেন তারাও মানসিকভাবে চরম আঘাত পেয়েছেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শোকাহত নেটাগরিকরা।

 

এদিকে, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে এবং দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এই দুর্ঘটনার খবর এবং ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি আর রুট পারমিট বাতিল কি কেবলই ‘আইওয়াশ’?

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “প্রতি বছর ঈদের আগে সদরঘাটে এমন রক্ত ঝরবে আর প্রশাসন শুধু কমিটি গঠন করবে, এটাই কি নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে?” অন্য এক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে চালকের অবহেলা। শুধু রুট পারমিট বাতিল নয়, এদের দৃষ্টান্তমূলক জেল হওয়া উচিত। কেন বারবার সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা হবে?”

 

অধিকাংশ নেটিজেনের দাবি, লঞ্চ চালকদের অদক্ষতা এবং পন্টুনে বিশৃঙ্খলভাবে লঞ্চ ভেড়ানোর এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে সদরঘাট কখনো নিরাপদ হবে না। দায়সারা তদন্তের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।