ঢাকা ১১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে বড় বড় পাঙ্গাশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৮ Time View
২২
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি : গত কয়েকদিন ধরে বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে প্রচুর পরিমাণে বড় আকারের পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে। যা জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দিনরাত ২৪ ঘণ্টার নজরদারি ও অব্যাহত অভিযানের সুফল মিলতে শুরু করেছে।
সূত্রমতে, দীর্ঘদিন থেকে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই ও রাক্ষুসে বেহুন্দী জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এসব অবৈধ জালের কারণে বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা নিধন হওয়ায় দেশীয় পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছিল।
সূত্রে আরও জানা গেছে, হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম সম্প্রতি মেঘনা নদীতে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই ও রাক্ষুসে বেহুন্দী জাল উচ্ছেদ করেছে।
ফলে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে নদীতে বড় বড় দেশীয় পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা।
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে তাদের জালে বড় আকারের দেশীয় পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে, যা বিগত কয়েক বছরে খুব একটা দেখা যায়নি। নদীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হওয়ার আশা করছেন।
হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম বলেন, বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে গত দুই বছর ধরে সব ধরনের অবৈধ বেহুন্দী জাল, পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই এবং সুতার তৈরি লাইন বর্শি উচ্ছেদে আমরা সফল হয়েছি। একই সঙ্গে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নদীতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদীতে দেশীয় পাঙ্গাশের আধিক্য লক্ষ করা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নদীতে সাধারণত শীত মৌসুমে সীমিত পরিমাণে পাঙ্গাশ পাওয়া গেলেও এবার মৌসুমের বাইরে গিয়েও জেলেদের জালে বড় আকারের দেশীয় পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ।
এটি প্রমাণ করে যে, পোনা নিধন ও অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা গেলে নদীর মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
সিনিয়র মৎস্য অফিসার আরও বলেন-আমাদের এই অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকলে মেঘনা নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবৈধ জাল ও পোনা নিধন বন্ধে মৎস্য অধিদপ্তরের এ ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে মেঘনা নদীর হারিয়ে যাওয়া দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আবারও ফিরে আসবে এবং নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাক শিল্পে মূল্য সংযোজন বাড়াতে বাংলাদেশে বড় সম্ভাবনা দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া

মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে বড় বড় পাঙ্গাশ

Update Time : ১১:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
২২
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি : গত কয়েকদিন ধরে বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে প্রচুর পরিমাণে বড় আকারের পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে। যা জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দিনরাত ২৪ ঘণ্টার নজরদারি ও অব্যাহত অভিযানের সুফল মিলতে শুরু করেছে।
সূত্রমতে, দীর্ঘদিন থেকে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই ও রাক্ষুসে বেহুন্দী জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এসব অবৈধ জালের কারণে বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা নিধন হওয়ায় দেশীয় পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছিল।
সূত্রে আরও জানা গেছে, হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম সম্প্রতি মেঘনা নদীতে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই ও রাক্ষুসে বেহুন্দী জাল উচ্ছেদ করেছে।
ফলে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে নদীতে বড় বড় দেশীয় পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা।
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে তাদের জালে বড় আকারের দেশীয় পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে, যা বিগত কয়েক বছরে খুব একটা দেখা যায়নি। নদীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হওয়ার আশা করছেন।
হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম বলেন, বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে গত দুই বছর ধরে সব ধরনের অবৈধ বেহুন্দী জাল, পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই এবং সুতার তৈরি লাইন বর্শি উচ্ছেদে আমরা সফল হয়েছি। একই সঙ্গে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নদীতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদীতে দেশীয় পাঙ্গাশের আধিক্য লক্ষ করা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নদীতে সাধারণত শীত মৌসুমে সীমিত পরিমাণে পাঙ্গাশ পাওয়া গেলেও এবার মৌসুমের বাইরে গিয়েও জেলেদের জালে বড় আকারের দেশীয় পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ।
এটি প্রমাণ করে যে, পোনা নিধন ও অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা গেলে নদীর মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
সিনিয়র মৎস্য অফিসার আরও বলেন-আমাদের এই অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকলে মেঘনা নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবৈধ জাল ও পোনা নিধন বন্ধে মৎস্য অধিদপ্তরের এ ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে মেঘনা নদীর হারিয়ে যাওয়া দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আবারও ফিরে আসবে এবং নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।