ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুলাদীতে হামলার ২৬ দিন পর চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু, এলাকায় উত্তেজনা ও পুলিশ মোতায়েন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৬৫ Time View
১৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের মুলাদীতে হামলায় আহতের ২৬ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন হাজী (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা জানাজানির পর ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুলাদীর বানীমর্দন জয়বাংলা বাজার, লক্ষ্মীপুর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে মিলন হাজীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা। এর আগে সকাল ৭টার দিকে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়।

নিহত মিলন হাজী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বানীমর্দন গ্রামের (৯ নম্বর ওয়ার্ড) মৃত আব্দুর রহিম হাজীর ছেলে। গত ৩০ মে বিকেলে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় মারাত্মক আহত হন তিনি।

ওই ঘটনায় মিলনের ভাই বাদী হয়ে জালালাবাদ লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবু তাহের (২৫), রোমান (২৭), রাজু (২৫), রনি (২৫), রাব্বীসহ (২৩) ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ১৮ জনকে আসামি করে মুলাদী থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। পরে গত ৩ জুন দুপুরে মিলনের মৃত্যুর গুজবে তিনটি বাড়ির ৭টি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরের দিন বিকেলে মিলন হাজীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী চরকালেখান ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের নাসির সরদারের ছেলে রাজু ও জাকির বাদশার ছেলে আবু তাহেরসহ ৫-৬ জনের কথার কাটাকাটি হয়। এর জেরে আবু তাহের, রোমান, রাজুর নেতৃত্বে ২০/২৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ওই হামলায় মিলন মারাত্মক আহত হন।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে তাকে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রায় ২৬ দিন পর তিনি মারা যান।

এদিকে, মিলনের মৃত্যুর আগেই গত ৩ জুন দুপুরে এলাকায় তার ‘মৃত্যুর গুজব’ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় শুকুর হাজী, মোতালেব হাজী ও সুমন সরদারের নেতৃত্বে ৪০-৪৫ জন লোক রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর গ্রামে হামলা চালায়। তারা ওই গ্রামের হাওলাদার বাড়ি, সরদার বাড়ি ও বাদশা বাড়ির জাকির বাদশা, ইয়াসিন বাদশা, সেলিম হাওলাদার, নুরুল আলম হাওলাদার, নাসির সরদার, মাহিম সরদার ও আব্দুর রশিদ বাদশার ঘরসহ মোট ৭টি ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালপত্র লুট করে এবং ৩টি বাড়ি থেকে ৭টি গরু ও ১২টি ছাগল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে বোয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জিত কুমার পালোয়ান ও মাহবুব পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ছিনতাই হওয়া ৭টি গরু ও ১২টি ছাগল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছিল।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন মিলনের প্রকৃত মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বানীমর্দন জয়বাংলা বাজার, লক্ষ্মীপুর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, চিকিৎসাধীন তরুণ মিলন হাজী বৃহস্পতিবার সকালে মারা গেছেন। এলাকায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অবস্থান করছে। মিলনকে আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটিতে ৩০২ ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

মুলাদীতে হামলার ২৬ দিন পর চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু, এলাকায় উত্তেজনা ও পুলিশ মোতায়েন

Update Time : ১২:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
১৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের মুলাদীতে হামলায় আহতের ২৬ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন হাজী (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা জানাজানির পর ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুলাদীর বানীমর্দন জয়বাংলা বাজার, লক্ষ্মীপুর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে মিলন হাজীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা। এর আগে সকাল ৭টার দিকে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়।

নিহত মিলন হাজী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বানীমর্দন গ্রামের (৯ নম্বর ওয়ার্ড) মৃত আব্দুর রহিম হাজীর ছেলে। গত ৩০ মে বিকেলে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় মারাত্মক আহত হন তিনি।

ওই ঘটনায় মিলনের ভাই বাদী হয়ে জালালাবাদ লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবু তাহের (২৫), রোমান (২৭), রাজু (২৫), রনি (২৫), রাব্বীসহ (২৩) ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ১৮ জনকে আসামি করে মুলাদী থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। পরে গত ৩ জুন দুপুরে মিলনের মৃত্যুর গুজবে তিনটি বাড়ির ৭টি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরের দিন বিকেলে মিলন হাজীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী চরকালেখান ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের নাসির সরদারের ছেলে রাজু ও জাকির বাদশার ছেলে আবু তাহেরসহ ৫-৬ জনের কথার কাটাকাটি হয়। এর জেরে আবু তাহের, রোমান, রাজুর নেতৃত্বে ২০/২৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ওই হামলায় মিলন মারাত্মক আহত হন।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে তাকে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রায় ২৬ দিন পর তিনি মারা যান।

এদিকে, মিলনের মৃত্যুর আগেই গত ৩ জুন দুপুরে এলাকায় তার ‘মৃত্যুর গুজব’ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় শুকুর হাজী, মোতালেব হাজী ও সুমন সরদারের নেতৃত্বে ৪০-৪৫ জন লোক রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর গ্রামে হামলা চালায়। তারা ওই গ্রামের হাওলাদার বাড়ি, সরদার বাড়ি ও বাদশা বাড়ির জাকির বাদশা, ইয়াসিন বাদশা, সেলিম হাওলাদার, নুরুল আলম হাওলাদার, নাসির সরদার, মাহিম সরদার ও আব্দুর রশিদ বাদশার ঘরসহ মোট ৭টি ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালপত্র লুট করে এবং ৩টি বাড়ি থেকে ৭টি গরু ও ১২টি ছাগল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে বোয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জিত কুমার পালোয়ান ও মাহবুব পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ছিনতাই হওয়া ৭টি গরু ও ১২টি ছাগল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছিল।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন মিলনের প্রকৃত মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বানীমর্দন জয়বাংলা বাজার, লক্ষ্মীপুর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, চিকিৎসাধীন তরুণ মিলন হাজী বৃহস্পতিবার সকালে মারা গেছেন। এলাকায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অবস্থান করছে। মিলনকে আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটিতে ৩০২ ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।