ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল আসছে করের আওতায়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ২৪ Time View
৪১

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজস্ব আদায় বাড়াতে নতুন খাত খুঁজছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে এলাকাভেদে বছরে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সিসিভেদে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

বর্তমানে দেশে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশার সঠিক সংখ্যা না থাকলেও খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, সারা দেশে ৫০ লাখের বেশি এবং শুধু রাজধানীতেই প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ রিকশা চলাচল করছে। এসব যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে গত বছর ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ।

 

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, গতি ও ধরন অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত রিকশাকে বিআরটিএ’র নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। একই ব্যক্তি নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি রিকশা কিনতে বা নিবন্ধন করতে পারবেন না। এছাড়া নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন বাধ্যতামূলক করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন এলাকায় নিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের চিন্তা করা হচ্ছে। লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই কর আদায় করবে।

 

অন্যদিকে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে কোনো কর থাকবে না। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসিতে ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলে বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে। বিআরটিএ’র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার।

বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, জিপ, বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর অগ্রিম আয়কর চালু রয়েছে। গাড়ির মালিকরা প্রতিবছর ফিটনেস নবায়নের সময় এ কর পরিশোধ করেন, যা পরে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। একই সুবিধা মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রেও রাখা হতে পারে।

 

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান মনে করেন, মোটরসাইকেল যেহেতু বৈধ যানবাহন এবং অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহৃত হয়, তাই এ খাতে অগ্রিম আয়কর আরোপ যৌক্তিক। এতে করজাল সম্প্রসারিত হবে এবং বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে সরকারকে আরও সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, রাজধানীতে অতিরিক্ত ই-রিকশা চলাচলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। তাই কর আরোপের আগে সড়কের সক্ষমতা ও যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারণ জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল আসছে করের আওতায়

Update Time : ০২:০২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
৪১

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজস্ব আদায় বাড়াতে নতুন খাত খুঁজছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে এলাকাভেদে বছরে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সিসিভেদে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

বর্তমানে দেশে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশার সঠিক সংখ্যা না থাকলেও খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, সারা দেশে ৫০ লাখের বেশি এবং শুধু রাজধানীতেই প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ রিকশা চলাচল করছে। এসব যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে গত বছর ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ।

 

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, গতি ও ধরন অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত রিকশাকে বিআরটিএ’র নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। একই ব্যক্তি নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি রিকশা কিনতে বা নিবন্ধন করতে পারবেন না। এছাড়া নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন বাধ্যতামূলক করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন এলাকায় নিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের চিন্তা করা হচ্ছে। লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই কর আদায় করবে।

 

অন্যদিকে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে কোনো কর থাকবে না। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসিতে ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলে বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে। বিআরটিএ’র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার।

বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, জিপ, বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর অগ্রিম আয়কর চালু রয়েছে। গাড়ির মালিকরা প্রতিবছর ফিটনেস নবায়নের সময় এ কর পরিশোধ করেন, যা পরে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। একই সুবিধা মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রেও রাখা হতে পারে।

 

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান মনে করেন, মোটরসাইকেল যেহেতু বৈধ যানবাহন এবং অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহৃত হয়, তাই এ খাতে অগ্রিম আয়কর আরোপ যৌক্তিক। এতে করজাল সম্প্রসারিত হবে এবং বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে সরকারকে আরও সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, রাজধানীতে অতিরিক্ত ই-রিকশা চলাচলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। তাই কর আরোপের আগে সড়কের সক্ষমতা ও যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারণ জরুরি।