ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবুগঞ্জে সামাজিক বনায়নের ১০ লক্ষাধিক টাকার গাছ কাটার অভিযোগ, অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ৩ Time View
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে সামাজিক বনায়নের আওতায় প্রায় তিন দশক আগে রোপণ করা মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে গোপনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৩২টি পরিণত মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১০ লক্ষাধিক টাকা। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের ডাব সমিতি থেকে বড় মোল্লাবাড়ি পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের দুই পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় এসব গাছ রোপণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ জুনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ মোল্লার ছেলে রনি মোল্লা গাছগুলো কেটে গোপনে বিক্রি করেন।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৫ মে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান সিকদারের উদ্যোগে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকার বাবুগঞ্জ এলাকার তৎকালীন সমন্বয়কারী আব্দুর রহিমের তত্ত্বাবধানে রাকুদিয়া ডাকঘর থেকে মোল্লাবাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সামাজিক বনায়নের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরবর্তীতে জীবনতরী মহিলা সমিতির অধীনে ২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটির মাধ্যমে গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, গাছের মালিকানার ৭০ শতাংশ জীবনতরী মহিলা সমিতির সদস্যদের, ১৫ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদের এবং অবশিষ্ট ১৫ শতাংশ প্রশিকার।
সুবিধাভোগীরা জানান, প্রায় ২৮ বছর ধরে নিজেদের অর্থ ব্যয় করে তারা গাছগুলোর পরিচর্যা করেছেন। ছোট চারাগাছ থেকে বেড়ে ওঠা এসব মেহগনি গাছ এখন মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাটা গাছের গোড়া পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৩২টি বড় আকারের মেহগনি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গাছ কাটার পর বিভিন্ন স্থানে গাছের গোড়া আগাছা ও ঝোপঝাড় দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জীবনতরী মহিলা সমিতির সভানেত্রী আলেয়া বেগম লিলি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে গাছগুলোর পরিচর্যা করেছি। আমি এলাকায় না থাকার সুযোগে গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রনি মোল্লা বলেন, সুবিধাভোগীদের অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা ও বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানেরও অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কেউ অবৈধভাবে গাছ কেটে বা বিক্রি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ বিষয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকার বাবুগঞ্জ উপজেলা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সম্মতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে বিএনপির উদ্যোগে বাজেট সম্পর্কিত মতবিনিময়

বাবুগঞ্জে সামাজিক বনায়নের ১০ লক্ষাধিক টাকার গাছ কাটার অভিযোগ, অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা

Update Time : ১২:২৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে সামাজিক বনায়নের আওতায় প্রায় তিন দশক আগে রোপণ করা মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে গোপনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৩২টি পরিণত মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১০ লক্ষাধিক টাকা। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের ডাব সমিতি থেকে বড় মোল্লাবাড়ি পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের দুই পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় এসব গাছ রোপণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ জুনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ মোল্লার ছেলে রনি মোল্লা গাছগুলো কেটে গোপনে বিক্রি করেন।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৫ মে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান সিকদারের উদ্যোগে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকার বাবুগঞ্জ এলাকার তৎকালীন সমন্বয়কারী আব্দুর রহিমের তত্ত্বাবধানে রাকুদিয়া ডাকঘর থেকে মোল্লাবাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সামাজিক বনায়নের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরবর্তীতে জীবনতরী মহিলা সমিতির অধীনে ২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটির মাধ্যমে গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, গাছের মালিকানার ৭০ শতাংশ জীবনতরী মহিলা সমিতির সদস্যদের, ১৫ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদের এবং অবশিষ্ট ১৫ শতাংশ প্রশিকার।
সুবিধাভোগীরা জানান, প্রায় ২৮ বছর ধরে নিজেদের অর্থ ব্যয় করে তারা গাছগুলোর পরিচর্যা করেছেন। ছোট চারাগাছ থেকে বেড়ে ওঠা এসব মেহগনি গাছ এখন মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাটা গাছের গোড়া পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৩২টি বড় আকারের মেহগনি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গাছ কাটার পর বিভিন্ন স্থানে গাছের গোড়া আগাছা ও ঝোপঝাড় দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জীবনতরী মহিলা সমিতির সভানেত্রী আলেয়া বেগম লিলি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে গাছগুলোর পরিচর্যা করেছি। আমি এলাকায় না থাকার সুযোগে গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রনি মোল্লা বলেন, সুবিধাভোগীদের অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা ও বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানেরও অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কেউ অবৈধভাবে গাছ কেটে বা বিক্রি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ বিষয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকার বাবুগঞ্জ উপজেলা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সম্মতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।