ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বানারীপাড়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট জি এম এ মুনীব”র মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় রেকর্ড 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৮ Time View
৯০
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়ায় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট জি এম এ মুনীব মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।
তিনি  মাত্র ৮ মাসে ১৫৬ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এত স্বল্প মেয়াদে উপজেলা পর্যায়ে তিনি এত সংখ্যক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মাদক, নিত্যপণ্য, ভোজ্য ও জ্বালানী তেল এবং গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ,  অতিরিক্ত মূল্য, সার পাচার, নিষিদ্ধ সময়ে ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার,জাটকা ও ,রেণুপোনা নিধন,নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানা ও অবৈধভাবে সন্ধ্যা নদীর চর দখলের বিরুদ্ধে তিনি মোবাইল কোর্টের এ অভিংযানগুলো পরিচালনা করেন। রাত-দিন একাকার করে পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণে জরিমানা আদায় ও বিভিন্ন মেয়াদে অভিযুক্তদের সাজা দেওয়া হয়। যাবতীয় অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তার জিরো টলারেন্স নীতি জনমনে স্বস্তি এনে দেয়। রমজান মাসে তার বাজার মনিটরিং বাজারে স্থিতিশীলতা আনে।
বানারীপাড়ায় অপরাধীদের কাছে তিনি আতঙ্কের হলেও ঠাঁই করে নিয়েছেন আপামর জনতার হৃদয়ে।  তিনি বানারীপাড়ায় ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে উপজেলা ভূমি অফিসকে জনহয়রাণির পরিবর্তে কর্মমুখর জনবান্ধব অফিসে রূপান্তর করেন।ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে যে কেউ অবলিলায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের সমস্যাটি তুলে ধরে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সমাধান পেয়েছেন। তার উদ্যোগে দীর্ঘ ৭০ বছর পরে বানারীপাড়ায় ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বানারীপাড়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালণ করেছেন। হঠাৎ করে তার বদলীর ঘটনায় বানারীপাড়াবাসী মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছেন। তিনি নিজ চেষ্টায় নিজ বিভাগ খুলনায় বদলী হয়েছেন দাবি করলেও এতে স্বার্থান্বেষী মহলের  অদৃশ্য কালো হাত থাকতে পারে বলে জনমনে সন্দেহ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শেষ কর্মদিবসেও তিনি ছিলেন কর্মমূখর। বুধবার ( ২২ এপ্রিল) রাতে তিনি উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অভিযুক্ত ডিলার মোঃ আমানকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩) এপ্রিল বানারীপাড়া অফিসার্স ক্লাব, পৌরসভা ও ভূমি অফিসে তার পৃথক তিনটি বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। তার এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানগুলোতে আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সচেতন মহলের অভিমত তার মতো একজন সৎ,সাহসী, আপসহীন, নিষ্ঠাবান ও দূরদর্শিসম্পন্ন প্রজ্ঞাবান কর্মকর্তা আরও অনেকদিন  থাকলে বানারীপাড়াকে আমূল বদলে দেওয়া সম্ভব হতো। সচেতন মহলের মতে, তিনি আসলেন, জয় করলেন, স্বল্প সময়ে আবার সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

বানারীপাড়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট জি এম এ মুনীব”র মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় রেকর্ড 

Update Time : ১১:৫৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
৯০
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়ায় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট জি এম এ মুনীব মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।
তিনি  মাত্র ৮ মাসে ১৫৬ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এত স্বল্প মেয়াদে উপজেলা পর্যায়ে তিনি এত সংখ্যক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মাদক, নিত্যপণ্য, ভোজ্য ও জ্বালানী তেল এবং গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ,  অতিরিক্ত মূল্য, সার পাচার, নিষিদ্ধ সময়ে ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার,জাটকা ও ,রেণুপোনা নিধন,নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানা ও অবৈধভাবে সন্ধ্যা নদীর চর দখলের বিরুদ্ধে তিনি মোবাইল কোর্টের এ অভিংযানগুলো পরিচালনা করেন। রাত-দিন একাকার করে পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণে জরিমানা আদায় ও বিভিন্ন মেয়াদে অভিযুক্তদের সাজা দেওয়া হয়। যাবতীয় অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তার জিরো টলারেন্স নীতি জনমনে স্বস্তি এনে দেয়। রমজান মাসে তার বাজার মনিটরিং বাজারে স্থিতিশীলতা আনে।
বানারীপাড়ায় অপরাধীদের কাছে তিনি আতঙ্কের হলেও ঠাঁই করে নিয়েছেন আপামর জনতার হৃদয়ে।  তিনি বানারীপাড়ায় ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে উপজেলা ভূমি অফিসকে জনহয়রাণির পরিবর্তে কর্মমুখর জনবান্ধব অফিসে রূপান্তর করেন।ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে যে কেউ অবলিলায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের সমস্যাটি তুলে ধরে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সমাধান পেয়েছেন। তার উদ্যোগে দীর্ঘ ৭০ বছর পরে বানারীপাড়ায় ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বানারীপাড়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালণ করেছেন। হঠাৎ করে তার বদলীর ঘটনায় বানারীপাড়াবাসী মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছেন। তিনি নিজ চেষ্টায় নিজ বিভাগ খুলনায় বদলী হয়েছেন দাবি করলেও এতে স্বার্থান্বেষী মহলের  অদৃশ্য কালো হাত থাকতে পারে বলে জনমনে সন্দেহ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শেষ কর্মদিবসেও তিনি ছিলেন কর্মমূখর। বুধবার ( ২২ এপ্রিল) রাতে তিনি উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অভিযুক্ত ডিলার মোঃ আমানকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩) এপ্রিল বানারীপাড়া অফিসার্স ক্লাব, পৌরসভা ও ভূমি অফিসে তার পৃথক তিনটি বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। তার এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানগুলোতে আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সচেতন মহলের অভিমত তার মতো একজন সৎ,সাহসী, আপসহীন, নিষ্ঠাবান ও দূরদর্শিসম্পন্ন প্রজ্ঞাবান কর্মকর্তা আরও অনেকদিন  থাকলে বানারীপাড়াকে আমূল বদলে দেওয়া সম্ভব হতো। সচেতন মহলের মতে, তিনি আসলেন, জয় করলেন, স্বল্প সময়ে আবার সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন।