ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩২ Time View
৬১

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাউফলে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা স্কোপোলামিন ব্যবহার করে মানুষকে অচেতনকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ মার্চ) গভীর রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা ও বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ​মাইনুল ইসলাম (৫৫): চক্রের মূল হোতা, বাসিন্দা: বহরমপুর ইউনিয়ন, দশমিনা।
​আবদুস সত্তার (৬৩): বাসিন্দা: আতশখালী গ্রাম, বাউফল। ​হাসিনা (৫৫): আবদুস সত্তারের স্ত্রী। ​কাশেম (৪৫): চক্রের সক্রিয় সদস্য।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বাউফল বাজার এলাকায় কালাইয়া ইউনিয়নের এক নারীকে লক্ষ্য করে চক্রটি। তারা স্কোপোলামিন নামক রাসায়নিক ব্যবহার করে ওই নারীকে হিপনোটাইজ বা অচেতন করে ফেলে। এরপর তার কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়ে চম্পট দেয়। জ্ঞান ফেরার পর ভুক্তভোগী নারী বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

​পুলিশি অভিযান ​অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বাউফল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিমের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মূল অভিযুক্ত মাইনুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সোমবার রাতে দশমিনার নিজ বাড়ি থেকে মাইনুলকে গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের আতশখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম রাজ্জাক বলেন: > “এই চক্রটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। তারা স্কোপোলামিন ব্যবহার করে মানুষের স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি ও চেতনা লোপ করে দেয়, যার ফলে ভুক্তভোগী অনেকটা রোবটের মতো তাদের নির্দেশ পালন করেন। মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

​বর্তমান অবস্থা ​পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি, ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস

বাউফলে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

Update Time : ০২:২২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
৬১

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাউফলে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা স্কোপোলামিন ব্যবহার করে মানুষকে অচেতনকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ মার্চ) গভীর রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা ও বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ​মাইনুল ইসলাম (৫৫): চক্রের মূল হোতা, বাসিন্দা: বহরমপুর ইউনিয়ন, দশমিনা।
​আবদুস সত্তার (৬৩): বাসিন্দা: আতশখালী গ্রাম, বাউফল। ​হাসিনা (৫৫): আবদুস সত্তারের স্ত্রী। ​কাশেম (৪৫): চক্রের সক্রিয় সদস্য।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বাউফল বাজার এলাকায় কালাইয়া ইউনিয়নের এক নারীকে লক্ষ্য করে চক্রটি। তারা স্কোপোলামিন নামক রাসায়নিক ব্যবহার করে ওই নারীকে হিপনোটাইজ বা অচেতন করে ফেলে। এরপর তার কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়ে চম্পট দেয়। জ্ঞান ফেরার পর ভুক্তভোগী নারী বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

​পুলিশি অভিযান ​অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বাউফল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিমের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মূল অভিযুক্ত মাইনুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সোমবার রাতে দশমিনার নিজ বাড়ি থেকে মাইনুলকে গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের আতশখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম রাজ্জাক বলেন: > “এই চক্রটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। তারা স্কোপোলামিন ব্যবহার করে মানুষের স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি ও চেতনা লোপ করে দেয়, যার ফলে ভুক্তভোগী অনেকটা রোবটের মতো তাদের নির্দেশ পালন করেন। মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

​বর্তমান অবস্থা ​পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।