ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে টয়লেট নির্মাণে ‘দুই কোটি টাকা’ তদন্তে মিলল ভিন্ন চিত্র!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ৫৫ Time View
৯০

মো.আরিফুল ইসলাম, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি টয়লেট নির্মাণে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক

আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনাটির বাস্তবতা যাচাইয়ে সামনে এসেছে ভিন্ন তথ্য, যা মূলত একটি টাইপজনিত ভুল থেকে সৃষ্ট বিভ্রান্তি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

জানা যায়, উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ইদু হাওলাদার বাড়ির সামনে একটি মসজিদের পাশে মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য টয়লেটটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাজস্ব তহবিলের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।

নির্মাণ শেষে টয়লেটের দেয়ালে স্থাপিত নামফলকে ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩ টাকা। একটি ছোট অবকাঠামোর জন্য এমন ব্যয়ের অঙ্ক দেখে স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় দেখা দেয়। পরে কয়েকজন যুবক বিষয়টি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

অনলাইনে অনেকেই এটিকে দুর্নীতির উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দেন। কেউ কেউ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়াও জানান। এতে বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

তবে সরেজমিন খোঁজখবর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্যে জানা গেছে, প্রকৃত ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা ৯৩ পয়সা। নামফলক তৈরির সময় ভুলবশত অতিরিক্ত শূন্য যুক্ত হওয়ায় এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম হাওলাদার বলেন, নামফলকে উল্লেখিত ব্যয়ের অঙ্ক দেখে তারাও বিস্মিত হয়েছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে পারেন।

বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী আরজুরুল হক জানান, এটি সম্পূর্ণ প্রিন্টিংজনিত ভুল। বিষয়টি জানার পর সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের কারণে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত ঠিক করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, সরকারি তথ্য প্রকাশে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। পাশাপাশি যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

বাউফলে টয়লেট নির্মাণে ‘দুই কোটি টাকা’ তদন্তে মিলল ভিন্ন চিত্র!

Update Time : ০৩:২৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
৯০

মো.আরিফুল ইসলাম, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি টয়লেট নির্মাণে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক

আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনাটির বাস্তবতা যাচাইয়ে সামনে এসেছে ভিন্ন তথ্য, যা মূলত একটি টাইপজনিত ভুল থেকে সৃষ্ট বিভ্রান্তি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

জানা যায়, উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ইদু হাওলাদার বাড়ির সামনে একটি মসজিদের পাশে মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য টয়লেটটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাজস্ব তহবিলের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।

নির্মাণ শেষে টয়লেটের দেয়ালে স্থাপিত নামফলকে ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩ টাকা। একটি ছোট অবকাঠামোর জন্য এমন ব্যয়ের অঙ্ক দেখে স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় দেখা দেয়। পরে কয়েকজন যুবক বিষয়টি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

অনলাইনে অনেকেই এটিকে দুর্নীতির উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দেন। কেউ কেউ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়াও জানান। এতে বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

তবে সরেজমিন খোঁজখবর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্যে জানা গেছে, প্রকৃত ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা ৯৩ পয়সা। নামফলক তৈরির সময় ভুলবশত অতিরিক্ত শূন্য যুক্ত হওয়ায় এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম হাওলাদার বলেন, নামফলকে উল্লেখিত ব্যয়ের অঙ্ক দেখে তারাও বিস্মিত হয়েছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে পারেন।

বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী আরজুরুল হক জানান, এটি সম্পূর্ণ প্রিন্টিংজনিত ভুল। বিষয়টি জানার পর সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের কারণে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত ঠিক করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, সরকারি তথ্য প্রকাশে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। পাশাপাশি যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।