ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি চাপে পড়তে পারে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫৮ Time View
১৮৭

অর্থনৈতিক ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। চুক্তির ফলে ভারতীয় পোশাক রপ্তানিকারকরা ইউরোপে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন, যা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাকে কঠিন করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

চুক্তিটি মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছে। ইউরোপীয় কাউন্সিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ভারতের সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। কার্যকর হলে ভারতীয় পোশাকপণ্যের ওপর ইউরোপের বিদ্যমান প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে।

 

এ চুক্তির আওতায় ইউরোপ আশা করছে, ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে তাদের রপ্তানি দ্বিগুণ হবে। পণ্যমূল্যের হিসাবে ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশ বাণিজ্যযোগ্য পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাসের মাধ্যমে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ইউরোর শুল্ক সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানীকৃত ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ পণ্যের ওপর ইউরোপ সাত বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক কমিয়ে দেবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ইউরোপে শুল্কমুক্তভাবে পোশাক রপ্তানি করছে। তবে চলতি বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর এ সুবিধা আর মাত্র তিন বছর বহাল থাকবে। ট্রানজিশন সময় শেষ হলে অর্থাৎ ২০২৯ সালের পর বাংলাদেশ যদি কোনো বিকল্প সুবিধা যেমন জিএসপি প্লাস বা দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে প্রায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। বিপরীতে ভারত ও ভিয়েতনামের শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় থাকবে। এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ চুক্তির প্রভাব বিশেষ করে পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য হবে। ভারত শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ ১৯৭৫ সাল থেকে ইউরোপের এলডিসি বাণিজ্য সুবিধার আওতায় অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পেয়ে বাংলাদেশ ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে। ডেনিম, ট্রাউজার ও টি-শার্টের মতো কিছু পণ্যে বাংলাদেশ চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, ইউরোপের প্রতি তিনজনের একজন বাংলাদেশে তৈরি ডেনিম ট্রাউজার ব্যবহার করেন।

 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশের বেশি গেছে, যার পরিমাণ ১ হাজার ৯৭১ কোটি ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও বাণিজ্যনীতি পরিবর্তনের পর ইউরোপ পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য প্রধান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ইউরোপের ক্রেতাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। ফলে তারা সরবরাহকারীদের ওপর কঠোর মূল্যচাপ আরোপ করছে এবং কম সময়ে পণ্য সরবরাহের শর্ত দিচ্ছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি মুনাফার জন্য কাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি করছে।

 

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভারত চুক্তির প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে অনুভূত না হলেও ধীরে ধীরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভারতের প্রতিযোগিতামূলক শক্তির মূল ভিত্তি হলো কাঁচা তুলার সহজলভ্যতা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সরকারের ব্যাপক নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা।

 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে করসুবিধা ও প্রণোদনা জরুরি।

 

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো যখন এফটিএ ও জিএসপি প্লাস সুবিধা নিশ্চিত করেছে, তখন বাংলাদেশের তা না পারা একটি নীতিগত ব্যর্থতা। ব্যবসায়ীরা রাশিয়ার সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং এলডিসি উত্তরণ স্থগিতের দাবি জানালেও সরকার তা গ্রহণ করেনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি চাপে পড়তে পারে

Update Time : ০১:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
১৮৭

অর্থনৈতিক ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। চুক্তির ফলে ভারতীয় পোশাক রপ্তানিকারকরা ইউরোপে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন, যা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাকে কঠিন করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

চুক্তিটি মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছে। ইউরোপীয় কাউন্সিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ভারতের সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। কার্যকর হলে ভারতীয় পোশাকপণ্যের ওপর ইউরোপের বিদ্যমান প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে।

 

এ চুক্তির আওতায় ইউরোপ আশা করছে, ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে তাদের রপ্তানি দ্বিগুণ হবে। পণ্যমূল্যের হিসাবে ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশ বাণিজ্যযোগ্য পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাসের মাধ্যমে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ইউরোর শুল্ক সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানীকৃত ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ পণ্যের ওপর ইউরোপ সাত বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক কমিয়ে দেবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ইউরোপে শুল্কমুক্তভাবে পোশাক রপ্তানি করছে। তবে চলতি বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর এ সুবিধা আর মাত্র তিন বছর বহাল থাকবে। ট্রানজিশন সময় শেষ হলে অর্থাৎ ২০২৯ সালের পর বাংলাদেশ যদি কোনো বিকল্প সুবিধা যেমন জিএসপি প্লাস বা দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে প্রায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। বিপরীতে ভারত ও ভিয়েতনামের শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় থাকবে। এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ চুক্তির প্রভাব বিশেষ করে পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য হবে। ভারত শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ ১৯৭৫ সাল থেকে ইউরোপের এলডিসি বাণিজ্য সুবিধার আওতায় অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পেয়ে বাংলাদেশ ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে। ডেনিম, ট্রাউজার ও টি-শার্টের মতো কিছু পণ্যে বাংলাদেশ চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, ইউরোপের প্রতি তিনজনের একজন বাংলাদেশে তৈরি ডেনিম ট্রাউজার ব্যবহার করেন।

 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশের বেশি গেছে, যার পরিমাণ ১ হাজার ৯৭১ কোটি ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও বাণিজ্যনীতি পরিবর্তনের পর ইউরোপ পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য প্রধান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ইউরোপের ক্রেতাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। ফলে তারা সরবরাহকারীদের ওপর কঠোর মূল্যচাপ আরোপ করছে এবং কম সময়ে পণ্য সরবরাহের শর্ত দিচ্ছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি মুনাফার জন্য কাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি করছে।

 

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভারত চুক্তির প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে অনুভূত না হলেও ধীরে ধীরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভারতের প্রতিযোগিতামূলক শক্তির মূল ভিত্তি হলো কাঁচা তুলার সহজলভ্যতা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সরকারের ব্যাপক নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা।

 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে করসুবিধা ও প্রণোদনা জরুরি।

 

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো যখন এফটিএ ও জিএসপি প্লাস সুবিধা নিশ্চিত করেছে, তখন বাংলাদেশের তা না পারা একটি নীতিগত ব্যর্থতা। ব্যবসায়ীরা রাশিয়ার সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং এলডিসি উত্তরণ স্থগিতের দাবি জানালেও সরকার তা গ্রহণ করেনি।