ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক নিয়ে বিব্রত সাধারণ জনগণ, আসেনি সরকারি প্রজ্ঞাপন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৪:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯১ Time View
১৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ​দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৬টি সিটি কর্পোরেশনে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও এখনো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) সিদ্ধান্ত।

 

গত দুদিন ধরে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশাসক পদের সম্ভাব্য নাম নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

গতকাল থেকে স্থানীয় বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম এবং ফেসবুক পেজে বরিশালের কয়েকজন বিএনপির হেভিওয়েট নেতার নাম প্রশাসক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকজনকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট দিতেও দেখা যাচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে যে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে, তাতে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর—এই ৬টি সিটির নাম রয়েছে। তালিকায় বরিশালের কোনো উল্লেখ নেই।

 

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালের পরিস্থিতি অন্যান্য সিটির তুলনায় কিছুটা জটিল। এই সিটিতে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা রয়েছেন যারা গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে সক্রিয় এবং চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মহানগর বিএনপির সভাপতি থেকে শুরু করে সাবেক মেয়র পদপ্রার্থী এবং প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতারাও এই পদের যোগ্য দাবিদার।

​কারো চেয়ে কেউ কম না হওয়ায় এবং সবাই ‘ত্যাগী’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দলীয় হাইকমান্ডকে এই সিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। যোগ্যতার লড়াই এবং সম্ভাব্য অন্তর্কোন্দল এড়াতেই বরিশাল নিয়ে সরকার ও দল কিছুটা সময় নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগীয় কমিশনার।

 

রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনিই এই দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা ও খুলনার মতো সিটিগুলোতে যেভাবে মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, বরিশালেও তেমনটাই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তা মহানগর বিএনপির সভাপতি নাকি সাধারণ সম্পাদক—তা জানতে প্রজ্ঞাপন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

 

​বরিশালের সাধারণ মানুষ ও সচেতন রাজনৈতিক কর্মীরা মনে করেন, বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়। দলের হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক চিঠির আগে কাউকে ‘প্রশাসক’ ঘোষণা করা কেবল অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়।

 

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নতুন অভিভাবক কে হচ্ছেন, তা জানতে চোখ রাখতে হবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের ওপর। ততক্ষণ পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ এবং গুজব থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক নিয়ে বিব্রত সাধারণ জনগণ, আসেনি সরকারি প্রজ্ঞাপন

Update Time : ০৬:১৪:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ​দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৬টি সিটি কর্পোরেশনে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও এখনো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) সিদ্ধান্ত।

 

গত দুদিন ধরে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশাসক পদের সম্ভাব্য নাম নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

গতকাল থেকে স্থানীয় বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম এবং ফেসবুক পেজে বরিশালের কয়েকজন বিএনপির হেভিওয়েট নেতার নাম প্রশাসক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকজনকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট দিতেও দেখা যাচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে যে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে, তাতে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর—এই ৬টি সিটির নাম রয়েছে। তালিকায় বরিশালের কোনো উল্লেখ নেই।

 

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালের পরিস্থিতি অন্যান্য সিটির তুলনায় কিছুটা জটিল। এই সিটিতে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা রয়েছেন যারা গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে সক্রিয় এবং চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মহানগর বিএনপির সভাপতি থেকে শুরু করে সাবেক মেয়র পদপ্রার্থী এবং প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতারাও এই পদের যোগ্য দাবিদার।

​কারো চেয়ে কেউ কম না হওয়ায় এবং সবাই ‘ত্যাগী’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দলীয় হাইকমান্ডকে এই সিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। যোগ্যতার লড়াই এবং সম্ভাব্য অন্তর্কোন্দল এড়াতেই বরিশাল নিয়ে সরকার ও দল কিছুটা সময় নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগীয় কমিশনার।

 

রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনিই এই দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা ও খুলনার মতো সিটিগুলোতে যেভাবে মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, বরিশালেও তেমনটাই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তা মহানগর বিএনপির সভাপতি নাকি সাধারণ সম্পাদক—তা জানতে প্রজ্ঞাপন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

 

​বরিশালের সাধারণ মানুষ ও সচেতন রাজনৈতিক কর্মীরা মনে করেন, বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়। দলের হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক চিঠির আগে কাউকে ‘প্রশাসক’ ঘোষণা করা কেবল অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়।

 

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নতুন অভিভাবক কে হচ্ছেন, তা জানতে চোখ রাখতে হবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের ওপর। ততক্ষণ পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ এবং গুজব থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।