
নিজস্ব প্রতিবেদক : লঘুচাপে ভর করে গত বুধবার রাতের শেষ প্রহর থেকে বৃহস্পতিবার দিনভরই হালকা থেকে মাঝারী বর্ষণের সাথে দক্ষিণ উপকূলে ভারী বর্ষণে বোরো চাষিদের মুখে হাসি ফুটলেও মাঠে থাকা তরমুজ চাষিদের মাথায় হাত উঠেছে।
এখনো পায় ১৫ লাখ টন তরমুজ মাঠে রয়েছে। এমনকি তিন দিনের হালকা-মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণের পরে শুক্রবার শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মেঘনা অববাহিকার বরিশাল অঞ্চলজুড়ে মাঝারী থেকে ঘন কুয়শায় সদ্যবিদায়ী শীত ফিরে এসেছে বলেই মনে হয়েছে। এ কুয়াশা আর ঠান্ডায় তাপমাত্রার পারদও দুদিন আগের তুলনায় প্রায় ১০ ডিগ্রী নিচে নেমে এসেছে। সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও গত কয়েক দিনের তুলনায় প্রায় ৭ ডিগ্রী নিচে নেমে যায়। যা ছিল স্বভাবিকের প্রায় ৬ ডিগ্রী নিচে।
শুক্রবার সকাল ৬টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বরিশাল উপকূলের খেপুপাড়ায়। সকাল ৬টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বরিশালে ২৪.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও দিন শেষের গণনায় বরিশালে ২৬, পটুয়াখালীতে ৪৫, ভোলাতে ২০ এবং দেশের সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে খেপুপাড়ায় ৫৭ মিলিমিটার। যা বিপুল সংখ্যক তরমুজ বাগানকে প্লাবিত করেছে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে এযাবতকালের সর্বাধিক ৭১ হাজার হেক্টরে আবাদের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ টন তরমুজ উৎপাদন হলেও ঈদের সময়ে দুই দফার ১০ দিনের ছুটিতে জ্বালানির দুস্প্রাপ্যতায় পরিবহন সংকটে চাষিরা মাঠ থেকে ফসল তুলতে পারেননি।
ফলে দরপতনেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন চাষি ও আড়তদারগণ। তবে ডিজেল সংকট কাটিয়ে এখন দিন রাত সড়ক ও নৌপথে তরমুজের চালান যাচ্ছে সারা দেশে। কিন্তু অন্তত ১৫ লাখ টন তরমুজ এখনো মাঠে। আর এরই মাঝে ফসলের ক্ষেত ডুবিয়ে বর্ষণে কপাল পুড়তে যাচ্ছ তরমুজ চাষিদের। ফলে আবারো দরপতনের আশংকা। এ অবস্থাায় যত দ্রুত সম্ভব মাঠ থেকে তরমুজ তুলে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবীদগণ। কিন্তু অনেক তরমুজ ক্ষেতে নামাই যাচ্ছে না।
গত ৩ দিনে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণে আগামী ৭-১০ দিন বোরো জমিতে সেচ প্রায় লাগছে না। ফলে ডিজেল ও লুব অয়েল সাশ্রয় হয়ে সেচ ব্যয়ের পাশাপাশি বোরোর উৎপাদন ব্যয়ও কমবে বলে আশা করছেন কৃষিযোদ্ধাগণ। এমনকি এ বৃষ্টিতে বিপুল জ্বালানি সাশ্রয়ের ফলে বিপনন কোম্পানীগুলোও খুশি।
তবে এ বর্ষণ আরো অব্যাহত থাকলে, মাঠে থাকা প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর তরমুজ চাষিদের ভাগ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে বলেও মনে করছেন কৃষিবীদগন। এমনকি আগামী অন্তত ১৫ দিন যেকোন ভারী বর্ষণ তরমুজ চাষিদের পথে বসিয়ে দিতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া বিভাগ থেকে আগামী অন্তত এক সপ্তাহ বরিশাল অঞ্চলে তেমন কোনেসা ভারি বর্ষণের আশংকার কথা বলা হয়নি।
বরিশালসহ বৃহত্তম দক্ষিণাঞ্চলের মাঠে থাকা প্রায় ৪ লাখ হেক্টর বোরো ধানের জমিতে সেচ কাজে যে প্রায় ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্প চলমান রয়েছে, তার প্রায় ৭৪ হাজারই ডিজেলচালিত। এসব পাম্পে গড়ে দৈনিক ৫ লক্ষাধিক লিটার ডিজেল প্রয়োজন।
তবে ব্যয় বহুল ডিজেল নির্ভর সেচ ব্যবস্থার পরিবর্তে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে যতদ্রুত সম্ভব সৌর বিদ্যুৎ নির্ভর সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন কৃষিবীদ সহ অর্থনীতিবীদগণও। বিএডিসি এ পর্যন্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে মাত্র ৪০টি সোলার নির্ভর সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। যার মাধ্যমে মাত্র ১ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
তবে বিশ^ব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশে ফসলের মাঠে এবার ৫১ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে বোরো ধানে সেচ নির্বিঘœ রাখতে দৈনিক গড়ে ৫০ লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হচ্ছে। এবার বোরো থেকে সোয়া ২ কোটি টনেরও বেশি চাল ঘরে তুলবেন কৃষিযোদ্ধাগণ। সে লক্ষ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের।
অপরদিকে এখনো বরিশাল অঞ্চলের সেচ ব্যবস্থার ৯০ ভাগেরও বেশি ডিজেল নির্ভর হওয়ায় উৎপাদন ব্যায় যেমনি বেশি, তেমনি ডিজেলের সরবরহ নির্বিঘœ রাখারও কোন বিকল্প নেই ।
এদিকে আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থাানের পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ বরিশাল উপকূলের অদুরে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থাানের কথা বলা হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি বুলেটিনে এপ্রিল মাসে বরিশালে ১২০-১৪০ এবং মে মাসে ২৩০-২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বভাস দেয়া হয়েছে। তবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশালে প্রায় ৫০ মিলি বৃষ্টিপাত হয়েছে। উপক’লভাগে প্রায় ১শ’ মিলি বৃষ্টি হয়েছে। তবে গত মাসেও বরিশালে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৯%। টানা ১২৭ দিন পরে গত ৯ মার্চ বরিশালে প্রথম বৃষ্টি ঝড়ে। এমনকি চলতি মাসে বরিশাল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ২-৩টি লঘুচাপের পাশাপাশি ১টি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলেও জানিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অফিস। পাশপাশি বিভিন্ন সময়ে তীব্র কালবৈশাখী ঝড়েরও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
Reporter Name 





















