ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে নারী এমপি হওয়ার লড়াই : তিন আসনের প্রার্থী ৪৩ জন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩২ Time View
৬৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : হিসাব অনুযায়ী ৩টি আসন পাওয়ার সুযোগ থাকা বরিশালে সংরক্ষিত মহিলা এমপি হতে মাঠে নেমেছেন ৪৩ জন বিএনপি নেত্রী। এলাকার লোকজন এদের অনেককেই ভালো করে চেনেন না। কয়েকজন আছেন সাবেক ও বর্তমান এমপিদের স্ত্রী, কন্যা বা বোন। কেউ কেউ রাজধানীর স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও বরিশালের কোটায় এমপি হতে চাইছেন। অবশ্য রাজপথের লড়াকু সৈনিকও আছেন বেশ কয়েকজন।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়ী হয় বিএনপি। নিয়মানুযায়ী প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে ১টি করে সংরক্ষিত মহিলা এমপি পাবে সরকারি দল। বরিশালের সেই ৩টি আসন পেতেই এখন মাঠে বিএনপির সাড়ে ৩ ডজনেরও বেশি নেত্রী। এদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপে এগিয়ে মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন। আন্দোলন-সংগ্রামের ত্যাগী নেত্রী নাসরিনের পাশাপাশি আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। এদের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার আশায় মাঠে আছেন বরিশাল জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাতেমা রহমান, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ফারহানা আলম তিথি এবং সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর কন্যা ড্যাব নেত্রী ডা. জাহানারা লাইজু। ঝালকাঠীতে একমাত্র প্রার্থী হিসাবে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জীবা আমিনা খান। ভোলা জেলা থেকে যারা মনোনয়ন চাইছেন তারা হলেন-জেলা মহিলা দল নেত্রী সাজেদা বেগম, রাজধানীর বাসিন্দা আইনজীবি নূরজাহান বেগম বিউটি, বোরহানউদ্দিন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান বনি এবং সংসদ-সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের বোন খালেদা খানম।

 

বরগুনা জেলায় সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে আছেন বিএনপির ২৩ নেত্রী। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন-অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষিকা নূর শাহানা হক, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের স্ব-নির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক আসমা আজিজ, বিএনপি নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপু, অ্যাডভোকেট মেহবুবা আক্তার জুঁই, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী শারমিন সুলতানা আসমা, বিএনপি নেত্রী নাজমুন নাহার পাপড়ি, অ্যাডভোকেট মারজিয়া হিরা ও মীরা খান। এর বাইরেও জেলার ৬ উপজেলা মিলিয়ে আরও অন্তত ১৫ জন চাইছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হতে।

 

পিরোজপুর জেলার যারা এই দৌড়ে আছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য হলেন-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান। এছাড়াও এই জেলা থেকে মহিলা এমপি হতে চাইছেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রহিমা আক্তার হাসি এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই। পটুয়াখালী থেকে যারা সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে চাইছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন-এবারের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েও হেরে যাওয়া সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারের স্ত্রী সালমা আলম লিলি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা সিনহা, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রুমা, জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি লায়লা ইয়াসমিন এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সাজিয়া মাহমুদ লিনা।

 

এমপি হওয়ার দৌড়ে এই বিপুলসংখ্যক নারী নেত্রী থাকলেও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা অবশ্য চাইছেন ভিন্ন কিছু। তারা চান দলের দুর্দিনে মাঠে থাকা নেতাদের মূল্যায়ন।

 

বরিশাল জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাতেমা রহমান বলেন, ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে কারা মাঠে ছিল সেটা দেখতে হবে সবার আগে। দল এখন ক্ষমতায়। এই অবস্থায় সুযোগ নিতে আসা লোকের অভাব হবে না। আমি মনে করি যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন তাদের মূল্যায়ন করুক দল।

 

বরিশাল মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ফারহানা আলম তিথি বলেন, ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা কাউকে নয়, অতীতের কর্মকাণ্ড বিচার করে সিদ্ধান্ত নিক দল। গত ১৭ বছর কারা মাঠে ছিলেন তার প্রমাণ পেয়ে তারপর সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি দিক বিএনপি, এটাই আমাদের চাওয়া।

 

পুরো বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু বলেন, ‘কে কি করেছে বা করেনি তার সব তথ্য যেমন দলের কাছে আছে তেমনি আমাদের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সব জানেন।

 

তিনি যা করবেন তা বুঝেশুনেই করবেন। ৫ আগস্টের আগে মিছিল করার লোক পাওয়া যেত না। আর এখন এমপি হতে চাওয়া লোক দিয়েই জেলায় জেলায় মিছিল করা যায়। ভালো সময়ের সুযোগসন্ধানী নয়, ত্যাগী আর পরীক্ষিতরাই মূল্যায়ন পাবেন বলে আমার বিশ্বাস।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি, ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস

বরিশালে নারী এমপি হওয়ার লড়াই : তিন আসনের প্রার্থী ৪৩ জন

Update Time : ০৪:৪৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
৬৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : হিসাব অনুযায়ী ৩টি আসন পাওয়ার সুযোগ থাকা বরিশালে সংরক্ষিত মহিলা এমপি হতে মাঠে নেমেছেন ৪৩ জন বিএনপি নেত্রী। এলাকার লোকজন এদের অনেককেই ভালো করে চেনেন না। কয়েকজন আছেন সাবেক ও বর্তমান এমপিদের স্ত্রী, কন্যা বা বোন। কেউ কেউ রাজধানীর স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও বরিশালের কোটায় এমপি হতে চাইছেন। অবশ্য রাজপথের লড়াকু সৈনিকও আছেন বেশ কয়েকজন।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়ী হয় বিএনপি। নিয়মানুযায়ী প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে ১টি করে সংরক্ষিত মহিলা এমপি পাবে সরকারি দল। বরিশালের সেই ৩টি আসন পেতেই এখন মাঠে বিএনপির সাড়ে ৩ ডজনেরও বেশি নেত্রী। এদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপে এগিয়ে মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন। আন্দোলন-সংগ্রামের ত্যাগী নেত্রী নাসরিনের পাশাপাশি আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। এদের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার আশায় মাঠে আছেন বরিশাল জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাতেমা রহমান, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ফারহানা আলম তিথি এবং সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর কন্যা ড্যাব নেত্রী ডা. জাহানারা লাইজু। ঝালকাঠীতে একমাত্র প্রার্থী হিসাবে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জীবা আমিনা খান। ভোলা জেলা থেকে যারা মনোনয়ন চাইছেন তারা হলেন-জেলা মহিলা দল নেত্রী সাজেদা বেগম, রাজধানীর বাসিন্দা আইনজীবি নূরজাহান বেগম বিউটি, বোরহানউদ্দিন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান বনি এবং সংসদ-সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের বোন খালেদা খানম।

 

বরগুনা জেলায় সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে আছেন বিএনপির ২৩ নেত্রী। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন-অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষিকা নূর শাহানা হক, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের স্ব-নির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক আসমা আজিজ, বিএনপি নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপু, অ্যাডভোকেট মেহবুবা আক্তার জুঁই, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী শারমিন সুলতানা আসমা, বিএনপি নেত্রী নাজমুন নাহার পাপড়ি, অ্যাডভোকেট মারজিয়া হিরা ও মীরা খান। এর বাইরেও জেলার ৬ উপজেলা মিলিয়ে আরও অন্তত ১৫ জন চাইছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হতে।

 

পিরোজপুর জেলার যারা এই দৌড়ে আছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য হলেন-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান। এছাড়াও এই জেলা থেকে মহিলা এমপি হতে চাইছেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রহিমা আক্তার হাসি এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই। পটুয়াখালী থেকে যারা সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে চাইছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন-এবারের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েও হেরে যাওয়া সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারের স্ত্রী সালমা আলম লিলি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা সিনহা, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রুমা, জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি লায়লা ইয়াসমিন এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সাজিয়া মাহমুদ লিনা।

 

এমপি হওয়ার দৌড়ে এই বিপুলসংখ্যক নারী নেত্রী থাকলেও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা অবশ্য চাইছেন ভিন্ন কিছু। তারা চান দলের দুর্দিনে মাঠে থাকা নেতাদের মূল্যায়ন।

 

বরিশাল জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাতেমা রহমান বলেন, ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে কারা মাঠে ছিল সেটা দেখতে হবে সবার আগে। দল এখন ক্ষমতায়। এই অবস্থায় সুযোগ নিতে আসা লোকের অভাব হবে না। আমি মনে করি যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন তাদের মূল্যায়ন করুক দল।

 

বরিশাল মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ফারহানা আলম তিথি বলেন, ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা কাউকে নয়, অতীতের কর্মকাণ্ড বিচার করে সিদ্ধান্ত নিক দল। গত ১৭ বছর কারা মাঠে ছিলেন তার প্রমাণ পেয়ে তারপর সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি দিক বিএনপি, এটাই আমাদের চাওয়া।

 

পুরো বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু বলেন, ‘কে কি করেছে বা করেনি তার সব তথ্য যেমন দলের কাছে আছে তেমনি আমাদের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সব জানেন।

 

তিনি যা করবেন তা বুঝেশুনেই করবেন। ৫ আগস্টের আগে মিছিল করার লোক পাওয়া যেত না। আর এখন এমপি হতে চাওয়া লোক দিয়েই জেলায় জেলায় মিছিল করা যায়। ভালো সময়ের সুযোগসন্ধানী নয়, ত্যাগী আর পরীক্ষিতরাই মূল্যায়ন পাবেন বলে আমার বিশ্বাস।