ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট, ৬ মাস ধরে সরবরাহ বন্ধ!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৪০ Time View
৭৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আহত রোগীদের জন্য জরুরি ‘অ্যান্টি-র‍্যাবিস’ বা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত ছয় মাস ধরে সরকারি হাসপাতালে এই টিকা মিলছে না। এমনকি নগরীর বেসরকারি ওষুধের দোকানগুলোতেও ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকায় চরম আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

 

শনিবার (৯ মে) সকালে বরিশাল সদর হাসপাতাল (জেনারেল হাসপাতাল) এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতো আজও অসংখ্য মানুষ টিকার খোঁজে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আহত হয়ে অনেকে ভিড় করেছেন। কেউ এসেছেন নিজের জন্য, কেউবা কোলে শিশু সন্তানের জন্য। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, ভ্যাকসিন নেই।

 

নগরীর ভাটিখানা এলাকার বাসিন্দা সাথী আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে বাইরের একটি বিড়াল আঁচড় দিয়েছে। যেহেতু বাইরের বিড়ালের ভ্যাকসিন করানো থাকে না, তাই নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে শুনি ভ্যাকসিন নেই। বাইরের অনেক দোকানে খুঁজেও কোনো সমাধান পাইনি।

 

একই চিত্র দেখা যায় কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, “ছেলের পা কুকুরে আঁচড়ে দিয়েছে। ভালো করে ড্রেসিং করিয়েছি, কিন্তু ভ্যাকসিন না দিলে তো জানের ঝুঁকি থেকে যায়। দুই দিন ধরে হাসপাতাল আর ফার্মেসি ঘুরছি, কোথাও ভ্যাকসিন নেই। খুব চিন্তায় আছি।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ মানুষকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হতো। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেবাটি পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

 

শুধু হাসপাতাল নয়, নগরীর বড় বড় ফার্মেসিগুলোতেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোম্পানিগুলো দীর্ঘ দিন ধরে কোনো সরবরাহ দিচ্ছে না। ফলে টাকা দিয়েও জীবনরক্ষাকারী এই টিকা কিনতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা।

 

ভ্যাকসিন সংকটের কথা স্বীকার করে বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, “ভ্যাকসিনের এই সংকট সাময়িক। আমরা আশা করছি আগামী ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যেই সরকারি এবং বেসরকারি, উভয় মাধ্যমেই ভ্যাকসিনের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সরবরাহ পাওয়া মাত্রই আমরা পুনরায় টিকাদান কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করব।

 

ততদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং কোনো পশু কামড়ালে আক্রান্ত স্থানটি দ্রুত ক্ষারযুক্ত সাবান ও প্রচুর পানি দিয়ে অন্তত ১৫-২০ মিনিট ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

বরিশালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট, ৬ মাস ধরে সরবরাহ বন্ধ!

Update Time : ০১:৫৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
৭৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আহত রোগীদের জন্য জরুরি ‘অ্যান্টি-র‍্যাবিস’ বা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত ছয় মাস ধরে সরকারি হাসপাতালে এই টিকা মিলছে না। এমনকি নগরীর বেসরকারি ওষুধের দোকানগুলোতেও ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকায় চরম আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

 

শনিবার (৯ মে) সকালে বরিশাল সদর হাসপাতাল (জেনারেল হাসপাতাল) এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতো আজও অসংখ্য মানুষ টিকার খোঁজে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আহত হয়ে অনেকে ভিড় করেছেন। কেউ এসেছেন নিজের জন্য, কেউবা কোলে শিশু সন্তানের জন্য। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, ভ্যাকসিন নেই।

 

নগরীর ভাটিখানা এলাকার বাসিন্দা সাথী আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে বাইরের একটি বিড়াল আঁচড় দিয়েছে। যেহেতু বাইরের বিড়ালের ভ্যাকসিন করানো থাকে না, তাই নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে শুনি ভ্যাকসিন নেই। বাইরের অনেক দোকানে খুঁজেও কোনো সমাধান পাইনি।

 

একই চিত্র দেখা যায় কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, “ছেলের পা কুকুরে আঁচড়ে দিয়েছে। ভালো করে ড্রেসিং করিয়েছি, কিন্তু ভ্যাকসিন না দিলে তো জানের ঝুঁকি থেকে যায়। দুই দিন ধরে হাসপাতাল আর ফার্মেসি ঘুরছি, কোথাও ভ্যাকসিন নেই। খুব চিন্তায় আছি।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ মানুষকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হতো। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেবাটি পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

 

শুধু হাসপাতাল নয়, নগরীর বড় বড় ফার্মেসিগুলোতেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোম্পানিগুলো দীর্ঘ দিন ধরে কোনো সরবরাহ দিচ্ছে না। ফলে টাকা দিয়েও জীবনরক্ষাকারী এই টিকা কিনতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা।

 

ভ্যাকসিন সংকটের কথা স্বীকার করে বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, “ভ্যাকসিনের এই সংকট সাময়িক। আমরা আশা করছি আগামী ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যেই সরকারি এবং বেসরকারি, উভয় মাধ্যমেই ভ্যাকসিনের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সরবরাহ পাওয়া মাত্রই আমরা পুনরায় টিকাদান কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করব।

 

ততদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং কোনো পশু কামড়ালে আক্রান্ত স্থানটি দ্রুত ক্ষারযুক্ত সাবান ও প্রচুর পানি দিয়ে অন্তত ১৫-২০ মিনিট ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।