ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুরে ৩ সন্তান রেখে নিখোঁজ মা উদ্ধার, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৭:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৭ Time View
৬৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় চরম দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনের কারণে তিন শিশু সন্তানকে ইউনিয়ন পরিষদে রেখে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে এক মায়ের। পরে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয় এবং দেওয়া হয়েছে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা।

 

 

জানা যায়, উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মুক্তা বেগম (২৭) তার তিন সন্তান আরজিনি (৬), আছিয়া (৩) ও সাত মাস বয়সী খাদিজাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। তার স্বামী আমান উল্লাহ প্রায় এক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন এবং পরিবারের কোনো খোঁজখবর নেন না।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসার চালাতে মুক্তার একমাত্র ভরসা ছিল একটি সেলাই মেশিন। কিন্তু মাত্র এক হাজার টাকা দেনার কারণে গ্রাম পুলিশ মো. নজরুল ইসলাম সেটি নিয়ে গেলে তিনি চরম হতাশায় পড়ে যান।

 

 

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে মুক্তা তার সন্তানদের নিয়ে চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। এসময় চেয়ারম্যান তার জন্য নাস্তার ব্যবস্থা করেন। পরে পরিষদের বারান্দায় শিশুদের রেখে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। শিশুদের কান্নাকাটি দেখে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। পরে ইউএনও বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানতে পারেন, মুক্তা পাশের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদে ফিরিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে মহিলার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন সেলাই মেশিনটি উদ্ধার করে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

 

 

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩০ কেজি চাল, ৪ কেজি ডাল, ৪ লিটার তেল ও ২ কেজি চিনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইউএনও হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, অভাব ও জীবিকার উৎস হারানোর হতাশা থেকেই ওই নারী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে পরিবারটিকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এদিকে, মাকে ফিরে পেয়ে তিন শিশু সন্তানের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারটির পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি, ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস

পিরোজপুরে ৩ সন্তান রেখে নিখোঁজ মা উদ্ধার, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

Update Time : ১১:৫৭:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
৬৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় চরম দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনের কারণে তিন শিশু সন্তানকে ইউনিয়ন পরিষদে রেখে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে এক মায়ের। পরে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয় এবং দেওয়া হয়েছে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা।

 

 

জানা যায়, উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মুক্তা বেগম (২৭) তার তিন সন্তান আরজিনি (৬), আছিয়া (৩) ও সাত মাস বয়সী খাদিজাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। তার স্বামী আমান উল্লাহ প্রায় এক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন এবং পরিবারের কোনো খোঁজখবর নেন না।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসার চালাতে মুক্তার একমাত্র ভরসা ছিল একটি সেলাই মেশিন। কিন্তু মাত্র এক হাজার টাকা দেনার কারণে গ্রাম পুলিশ মো. নজরুল ইসলাম সেটি নিয়ে গেলে তিনি চরম হতাশায় পড়ে যান।

 

 

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে মুক্তা তার সন্তানদের নিয়ে চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। এসময় চেয়ারম্যান তার জন্য নাস্তার ব্যবস্থা করেন। পরে পরিষদের বারান্দায় শিশুদের রেখে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। শিশুদের কান্নাকাটি দেখে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। পরে ইউএনও বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানতে পারেন, মুক্তা পাশের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদে ফিরিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে মহিলার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন সেলাই মেশিনটি উদ্ধার করে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

 

 

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩০ কেজি চাল, ৪ কেজি ডাল, ৪ লিটার তেল ও ২ কেজি চিনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইউএনও হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, অভাব ও জীবিকার উৎস হারানোর হতাশা থেকেই ওই নারী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে পরিবারটিকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এদিকে, মাকে ফিরে পেয়ে তিন শিশু সন্তানের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারটির পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।