ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাগলা কুকুরের কামড়ে ৫ জনের মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ২৬ Time View
৫১

ডেস্ক সংবাদ : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু। এনিয়ে জলাতঙ্কে মারা গেলেন ৫ জন। এবার মৃত্যুর কাছে হার মানলেন কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ঝাকুয়া পাড়া এলাকার সুলতানা বেগম। এ নিয়ে একই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে এসে মারা যান সুলতানা বেগম। তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ঝাকুয়া পাড়া গ্রামের সালাম মিয়ার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী।

 

স্বজনরা জানান, প্রায় ২০ দিন আগে একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর সুলতানা বেগমসহ ১৩ জনকে কামড় দেয়। এরপর দ্রæত চিকিৎসা নেওয়া হয় এবং সম্পূর্ণ র‌্যাবিস ভ্যাকসিনও গ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু এরপরও অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়ীতে অবস্থান করেন আজ সকাল সাড়ে ১১টায় বাড়ীতে অবস্থান কালে তার মৃত্যু হয়।

 

এর আগে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নন্দ রানী (৫৫) ও ফুলু মিয়া গত ৬ মে মারা যান। পরে ৮ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমার। গত ১২ মে রোজ মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আফরোজা বেগম(৬০) সর্বশেষ আজ সুলতানা বেগমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে।

 

উল্লেখ্য,গত ২২ এপ্রিল উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি, কঞ্চিবাড়ি গ্রাম ও পাশের ছাপড়হাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকায় একটি পাগলা কুকুরের আক্রমণে দুই শিশু ও দুই নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

 

আক্রান্তরা বলেন, কুকুর কামড়ানোর পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত র‌্যাবিস ভ্যাকসিন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদেরকে। পরে বিভিন্ন ফার্মেসি ও বেসরকারি ক্লিনিক থেকে অতিরিক্ত দামে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এখন শিশুদের বাইরে বের হতে দিচ্ছেন না অনেক পরিবার। পাগলা কুকুরের আতঙ্কে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও শঙ্কা বিরাজ করছে। তারা পর্যাপ্ত র‌্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

পাগলা কুকুরের কামড়ে ৫ জনের মৃত্যু

Update Time : ০১:২০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
৫১

ডেস্ক সংবাদ : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু। এনিয়ে জলাতঙ্কে মারা গেলেন ৫ জন। এবার মৃত্যুর কাছে হার মানলেন কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ঝাকুয়া পাড়া এলাকার সুলতানা বেগম। এ নিয়ে একই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে এসে মারা যান সুলতানা বেগম। তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ঝাকুয়া পাড়া গ্রামের সালাম মিয়ার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী।

 

স্বজনরা জানান, প্রায় ২০ দিন আগে একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর সুলতানা বেগমসহ ১৩ জনকে কামড় দেয়। এরপর দ্রæত চিকিৎসা নেওয়া হয় এবং সম্পূর্ণ র‌্যাবিস ভ্যাকসিনও গ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু এরপরও অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়ীতে অবস্থান করেন আজ সকাল সাড়ে ১১টায় বাড়ীতে অবস্থান কালে তার মৃত্যু হয়।

 

এর আগে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নন্দ রানী (৫৫) ও ফুলু মিয়া গত ৬ মে মারা যান। পরে ৮ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমার। গত ১২ মে রোজ মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আফরোজা বেগম(৬০) সর্বশেষ আজ সুলতানা বেগমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে।

 

উল্লেখ্য,গত ২২ এপ্রিল উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি, কঞ্চিবাড়ি গ্রাম ও পাশের ছাপড়হাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকায় একটি পাগলা কুকুরের আক্রমণে দুই শিশু ও দুই নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

 

আক্রান্তরা বলেন, কুকুর কামড়ানোর পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত র‌্যাবিস ভ্যাকসিন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদেরকে। পরে বিভিন্ন ফার্মেসি ও বেসরকারি ক্লিনিক থেকে অতিরিক্ত দামে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এখন শিশুদের বাইরে বের হতে দিচ্ছেন না অনেক পরিবার। পাগলা কুকুরের আতঙ্কে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও শঙ্কা বিরাজ করছে। তারা পর্যাপ্ত র‌্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।