ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পহেলা বৈশাখে ইলিশ সংকট, বিক্রি হচ্ছে আকাশছোঁয়া দামে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৯ Time View
৭৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে দেশের বৃহত্তম পাইকারি ইলিশ বাজার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা দিয়েছে চরম ইলিশ সংকট।

 

জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছে না অধিকাংশ ফিশিং বোট। ফলে বাজারে সামুদ্রিক ইলিশের সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর এই সময়টিতে বাজারে ইলিশের ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

 

বৈশাখ উপলক্ষে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে, কিন্তু সরবরাহ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এতে করে নদীর ইলিশই এখন একমাত্র ভরসা, আর সেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক উচ্চ দামে।

 

বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়।

 

৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। এমনকি জাটকাও বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা মণ দরে।

 

পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়ৎদার ও ফিশিং মার্চেন্ট মোস্তফা আলম জানান, সকালে সাগর থেকে আসা একটি ট্রলারে কিছু ছোট আকারের ইলিশ পাওয়া গেলেও সেগুলো কয়েকদিন আগে ধরা হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে, প্রতি মণ ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

 

পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ী ইমরান খান বলেন, বৈশাখকে ঘিরে বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় যে অল্প মাছ আসছে, তা পাইকাররা খোলা ডাকেই কিনে নিচ্ছেন এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে কার্যত কোনো ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।

 

বিএফডিসি মার্কেটের একাধিক আড়তদার জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

 

প্রতিবছর এই সময়ে যেখানে জমজমাট ব্যবসা থাকে, সেখানে এবার তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আগামী ইলিশ মৌসুমেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই মাছের বাজারে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। বৈশাখের আমেজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

পহেলা বৈশাখে ইলিশ সংকট, বিক্রি হচ্ছে আকাশছোঁয়া দামে

Update Time : ০৬:৫৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
৭৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে দেশের বৃহত্তম পাইকারি ইলিশ বাজার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা দিয়েছে চরম ইলিশ সংকট।

 

জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছে না অধিকাংশ ফিশিং বোট। ফলে বাজারে সামুদ্রিক ইলিশের সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর এই সময়টিতে বাজারে ইলিশের ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

 

বৈশাখ উপলক্ষে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে, কিন্তু সরবরাহ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এতে করে নদীর ইলিশই এখন একমাত্র ভরসা, আর সেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক উচ্চ দামে।

 

বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়।

 

৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। এমনকি জাটকাও বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা মণ দরে।

 

পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়ৎদার ও ফিশিং মার্চেন্ট মোস্তফা আলম জানান, সকালে সাগর থেকে আসা একটি ট্রলারে কিছু ছোট আকারের ইলিশ পাওয়া গেলেও সেগুলো কয়েকদিন আগে ধরা হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে, প্রতি মণ ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

 

পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ী ইমরান খান বলেন, বৈশাখকে ঘিরে বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় যে অল্প মাছ আসছে, তা পাইকাররা খোলা ডাকেই কিনে নিচ্ছেন এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে কার্যত কোনো ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।

 

বিএফডিসি মার্কেটের একাধিক আড়তদার জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

 

প্রতিবছর এই সময়ে যেখানে জমজমাট ব্যবসা থাকে, সেখানে এবার তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আগামী ইলিশ মৌসুমেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই মাছের বাজারে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। বৈশাখের আমেজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।